× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

রাজশাহী সিটি করপোরেশন

সড়কে ভাগাড়, দুর্গন্ধে চলা দায়

রাজু আহমেদ, রাজশাহী

প্রকাশ : ১০ আগস্ট ২০২৫ ১২:১৫ পিএম

রাজশাহী সিটি করপোরেশনের স্টেশন রোড সংলগ্ন সেকেন্ডারি ট্রন্সফার স্টেশনের গেট বন্ধ করে বর্জ্য ফেলছেন পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা। প্রবা ফটো

রাজশাহী সিটি করপোরেশনের স্টেশন রোড সংলগ্ন সেকেন্ডারি ট্রন্সফার স্টেশনের গেট বন্ধ করে বর্জ্য ফেলছেন পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা। প্রবা ফটো

রাসিকের ৩০টি ওয়ার্ডে সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন নির্মাণে কোটি কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে। তবে নির্ধারিত সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশনের ভেতরে নগরবাসীর সৃষ্ট বর্জ্য না ফেলে তা জড়ো করা হচ্ছে সেই সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশনের গেট সংলগ্ন সড়কে। এতে এক দিকে যেমন স্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়ছে, তেমনই বাড়ছে দুর্ঘটনা। ওই সব সড়ক দিয়ে চলাচলে নগরবাসীকে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

রাজশাহী সিটি করপোরেশনের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন প্রায় ৪ হাজার ৫০০ টন বর্জ্য নগরীর বিভিন্ন সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন জমা হয়। যা নগরীর উত্তরে অবস্থিত সিটি হাট এলাকার ল্যান্ডফিল্ড বা ভাগাড়ে নিয়ে ফেলা হচ্ছে। এই ভাগাড়টিও কানায় কানায় পূর্ণ। সৃষ্টি হয়েছে বর্জ্যের পাহাড়। ফলে ভাগাড়ের বাইরে হাইওয়ের দুই ধার বেছে নেওয়া হয়েছে বর্জ্য ফেলার জন্য।

গত বৃহস্পতিবার দুপুরে সরেজমিন নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডে অবস্থিত সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন ও ভাগাড়ে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায় এমন চিত্র। নগরীর শুভ পেট্রোল পাম্পের পূর্বে স্টেশন রোড সংলগ্ন সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশনের গেট বন্ধ করে রাখা হয়েছে। আর সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা ভ্যানে করে বর্জ্য এনে ফেলছেন এর সামনের সড়কে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বর্জ্য পড়ে থাকছে এখানে। এতে এই এলাকায় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে। বৃষ্টির পানি বর্জ্যে মিশে তা সড়কে এসে জমছে। একই চিত্র নগরীর কোর্ট স্টেশন সংলগ্ন উত্তরের প্রধান সড়কের। এই সড়কের উন্মুক্ত স্থানে রাসিকের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা ভ্যানে করে বর্জ্য নিয়ে এনে ফেলছেন। পথচারী ও যানবাহনের যাত্রীরা মুখে কাপড় দিয়ে যাতায়াত করতে বাধ্য হচ্ছেন। এসব স্থানে দিন-রাত একই চিত্র।

এদিকে নগরীর সিট হাট এলাকায় সিটি করপোরেশনের ভাগাড়ে নগরীর ৩০ ওয়ার্ডের সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশনের বর্জ্য রাতে নিয়ে গিয়ে ফেলা হয়। তবে এই স্থানটিতে বর্জ্যের পাহাড় সৃষ্টি হয়েছে। এখন আর সেখানে বর্জ্য ফেলার উপায় নেই। কানায় কানায় পূর্ণ এলাকা। আর তাই করপোরেশন এখন বর্জ্য ফেলার জন্য বেছে নিয়েছে রাজশাহী-ঢাকা বাইপাস সড়কের দুই ধার। সড়কের বিস্তীর্ণ দুই ধারে এখন রাসিকের বর্জ্য জমা হতে শুরু করেছে। এদিকে এই ভাগাড়ের তলে কোনো নিরাপত্তা মেঝে না থাকায় বর্জ্য থেকে সৃষ্ট দূষিত পানি মাটির তলদেশে পানির স্তরে গিয়ে জমা হচ্ছে। এ ছাড়া এই বর্জ্য থেকে সৃষ্ট পানি ড্রেনের মাধ্যমে রাজশাহী নগরীর উত্তরে প্রবাহিত বারনই নদীর পানির সঙ্গে মিশে যাচ্ছে; যা প্রকৃতি ও পরিবেশের জন্য চরম ঝুঁকি বয়ে আনছে।

রাজশাহী সিটি করপোরেশন বর্জ্য ফেলার এই স্থানটি গত বছরে তৈরি করে। এর ঠিক সামনে দিয়ে ৬ নম্বর জাতীয় মহাসড়ক (চাঁপাইনবাবগঞ্জ-ঢাকা)। এই সড়ক শেষ হয়েছে সোনামসজিদ বন্দরে। এই মহাসড়ক দিয়ে প্রতিদিন শত শত ট্রাক-বাস, মাইক্রো ও গ্যাসচালিত গাড়ি চলাচল করে। এ ছাড়া সিটিহাট বসে দুই দিন। দুই দিনে বিভিন্ন ধরনের গাড়ি ও মানুষ উপস্থিত হচ্ছে সেখানে।

সিটিহাটের ঠিক পাশেই বর্জ্যের স্তূপ জমে আছে। সেখানে ধারণক্ষমতা শেষ হওয়ায় বর্জ্য ফেলা হচ্ছে মহাসড়কে। আবার কৃষিজমিতেও ফেলা হচ্ছে বর্জ্য। সেখানকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনেও ফেলা হচ্ছে। তবে বর্জ্য ফেলার কাজে যারা নিয়োজিত তারা বলছেন, বর্জ্য ফেলার স্থান ভরে যাওয়ায় আমাদের বাধ্য হয়ে সড়কের পাশে ফেলতে হচ্ছে।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের মুখপাত্র শংকর কুমার বিশ্বাস বলেন, ‘উন্মুক্ত স্থানে বর্জ্য ফেলায় ওইসব স্থান থেকে মশা-মাছি বৃদ্ধিসহ রোগজীবাণুর বিস্তার ঘটে। এতে কলেরা, ডেঙ্গু, স্কিন ডিজিজ এবং শ্বাসকষ্টের ঝুঁকি বাড়ায়। চিত্র বলছে চিকিৎসা বর্জ্য, কসাইখানার বর্জ্যও এই স্থানে ফেলা হচ্ছে; যা বিপজ্জনক সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলছে।’

রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রধান পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা শেখ মো. মামুন ডলার বলেন, ‘নওদাপাড়ায় আমাদের বিদ্যমান ল্যান্ডফিল্ডটি দুই-তিন বছর আগে ধারণক্ষমতা ছাড়িয়ে গেছে। আমরা সম্প্রতি একটি নতুন ল্যান্ডফিল স্থাপনের অনুমতির জন্য মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব দিয়েছি। নতুন ল্যান্ডফিলটি কার্যকর করতে দুই বছর বা তার বেশি সময় লাগতে পারে। মন্ত্রণালয় এবং অন্যান্য কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের পাশাপাশি জমির অভিযোগও জড়িত ছিল। পরিকল্পনা করছি কীভাবে আমরা বর্তমান ল্যান্ডফিলে বর্জ্য ফেলতে পারি।’

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা