বৈদেশিক আয়
মেহেদী হাসান শিয়াম, চাঁপাইনবাবগঞ্জ
প্রকাশ : ১০ আগস্ট ২০২৫ ১১:৪১ এএম
চাঁপাইনবাবগঞ্জের সদর উপজেলায় বিদেশে আম রপ্কানির উদ্দেশ্যে প্যাকেজিংয়ে ব্যস্ত শ্রমিকরা। প্রবা ফটো
চলতি মৌসুমে চাঁপাইনবাবগঞ্জে সরকারি প্রকল্পের আওতায় বিদেশে আম রপ্তানিতে তেমন অগ্রগতি দেখা যায়নি। তবে প্রকল্প বহির্ভূত আম রপ্তানিতে সাফল্য পেয়েছেন উদ্যোক্তারা। এ ছাড়া আম রপ্তানিতে সরকারি উদ্যোগের চেয়ে বেসরকারি খাতে শক্তিশালী ভূমিকা দেখা গেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। আম চাষিদের দাবি, মানসম্মত প্যাকেজিং, কার্গো ভাড়া বৃদ্ধিসহ বেশকিছু জটিলতা কাটাতে পারলে বিদেশের আম রপ্তানিতে সুফল মিলবে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে এখন পর্যন্ত ১৫২ দশমিক ২৩ টন আম রপ্তানি হয়েছে। এর মধ্যে সরকারি প্রকল্পভুক্ত রপ্তানির পরিমাণ ৬৩ দশমিক ৮৭ টন; আর প্রকল্প বহির্ভূত রপ্তানি ৮৮ দশমিক ৩৬ টন। এতে চলতি মৌসুমে এখন পর্যন্ত ব্যক্তিগত উদ্যোগেই ২৪ দশমিক ৪৯ টন আম রপ্তানি হয়েছে। এসব আম গেছে ইংল্যান্ড, ইতালি, ফ্রান্স, জার্মানি ছাড়াও মধ্যপ্রাচ্যের বেশকিছু দেশে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জে রপ্তানিযোগ্য উৎপাদন প্রকল্পের আওতায় ৭৫৬ দশমিক ৩০ হেক্টর জমিতে আমের চাষ হয়। এ প্রকল্পের আওতায় আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ৫ হাজার ৯৮২ টন। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিস জানায়, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলায় ৩৫ জন চাষি আমের আবাদ করছেন ৯৫ দশমিক ৫ হেক্টর জমিতে। এ ছাড়া শিবগঞ্জে ৫৫ চাষি ১৯৫ দশমিক ৩ হেক্টরে, গোমস্তাপুরে ৫০ চাষি ১৯৯ হেক্টরে, নাচোলে ৪০ চাষি ১৬১ হেক্টরে এবং ভোলাহাটে ৯৭ চাষি ১০৫ দশমিক ৫ হেক্টর জমিতে রপ্তানিযোগ্য আম উৎপাদন করেছেন।
এখন পর্যন্ত মাত্র ১ টন আম রপ্তানি হয়েছে চীনে। এর মধ্যে রয়েছে ল্যাংড়া ও আম্রপালি। ১০০ টাকা কেজি দরে এ দুই রকমের আম চীনে রপ্তানি করে আকিজ গ্রুপ।
এদিকে রপ্তানি প্রক্রিয়ায় নানা জটিলতার কারণে সঠিক সময়ে বিদেশে আম পাঠাতে না পারার অভিযোগ তুলে চাষিরা জানান, আম রপ্তানির ক্ষেত্রে ফাইটোস্যানিটারি সনদ খুবই জরুরি। কিন্তু সময়মতো সনদটি না পাওয়ায় রপ্তানিতে বাধা সৃষ্টি হয়। হট ওয়াটার টিটমেন্ট প্ল্যান্ট অর্থ্যাৎ রপ্তানির জন্য আমকে ক্ষতিকারক পোকামাকড় থেকে মুক্ত করতে গরম পানির শোধনাগারের প্রয়োজন হয়। কিন্তু পর্যাপ্ত সংখ্যক এ ধরনের প্ল্যান্ট না থাকায় অনেক আম রপ্তানি অনুপযোগী হয়ে পড়ে।
এবার বাংলাদেশ থেকে অন্য দেশে আমের পরিবহনে খরচ বেশি; যা রপ্তানি পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেয় এবং অন্যান্য দেশের আমের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকতে সমস্যা সৃষ্টি করে। এ ছাড়া রপ্তানির জন্য আমের সঠিক প্যাকেজিং একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। মানসম্মত প্যাকেজিং না থাকার কারণে অনেক সময় আম ক্ষতিগ্রস্ত হয় বা ক্রেতারা সেসব আম কিনতে অনাগ্রহ প্রকাশ করে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের কৃষি অ্যাসোসিশনের সাধারণ সম্পাদক মুনজের আলম মানিক বলেন, গত বছরের তুলনায় কার্গো ভাড়া বেড়ে যাওয়া এবার আম রপ্তানি কম। জেলায় একটি কোয়ারেন্টাইন সেন্টার থাকলেও সেখানে জনবল নেই। যার কারণে ফাইটোস্যানিটারি সনদ পাওয়া যাচ্ছে না। বাধ্য হয়ে ঢাকায় গিয়ে এই সনদের ব্যবস্থা করতে হচ্ছে। এ ছাড়া চাষি ও রপ্তানিকারকদের মধ্যে দুর্বল যোগাযোগের কারণে আম রপ্তানিও কম হয়েছে। এ ক্ষেত্রে কৃষি সম্প্রসারণ থেকে আম চাষিদের সহায়তা করা হলে আগামীতে রপ্তানি বাড়বে।
তিনি বলেন, রপ্তানিযোগ্য আম উৎপাদন প্রকল্পের আওতায় শুধু কাঁচা আম বিদেশে পাঠানোর ইচ্ছে থাকলে কখনোই সরকারি লক্ষ্য-উদ্দেশ্য সফল হবে না। সেক্ষেত্রে আমের প্রক্রিয়াজাত পণ্য রপ্তানি করা গেলে চাষিরা আম উৎপাদন করে লাভবান হবে। তাহলেই একটি শক্তিশালী সাপ্লাই চেইন তৈরি হবে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. মো. ইয়াছিন আলী বলেন, রপ্তানিযোগ্য আম উৎপাদন প্রকল্পের আওতায় প্রদর্শনীভুক্ত চাষিরা ৬৩ দশমিক ৮৭ টন এবং প্রকল্প বহির্ভূত চাষিরা ৮৮ দশমিক ৩৬ টন আম রপ্তানি করেছেন। তবে প্রকল্প বহির্ভূত চাষিদের অনেকই বিভিন্ন সময়ে আমাদের কাছ থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে আম চাষ করেছেন। আমাদের শেখানো পদ্ধতিতে আম চাষ করে তারা বিদেশে রপ্তানি করেছেন।
এ বিষয়ে রপ্তানিযোগ্য প্রকল্প পরিচালক আরিফুর রহমান বলেন, এখনও আম রপ্তানির সময়সীমা শেষ হয়ে যায়নি। আরও এক মাস বিদেশে আম পাঠানোর কার্যক্রম চলবে। আশা করা যাচ্ছে এই প্রকল্পের মাধ্যমে আম রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে।