মিঠাপুকুর (রংপুর) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৯ আগস্ট ২০২৫ ১৫:৩৫ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার পায়রাবন্দ বেগম রোকেয়া স্মৃতি গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মাহেদুল আলমকে মারধর এবং শ্বাসরোধ করে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী বাদী হয়ে মিঠাপুকুর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। শনিবার (৯ আগস্ট) দুপুরে অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মিঠাপুকুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নূরে আলম সিদ্দিকী।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, পায়রাবন্দ বেগম রোকেয়া স্মৃতি গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মাহেদুল আলমের বিরুদ্ধে ওই প্রতিষ্ঠানের সিনিয়র শিক্ষক রাজ্জাকুর রহমান অভিযোগ দায়ের করেন। এ অভিযোগের বিষয়ে গত বুধবার রংপুর জেলা শিক্ষা অফিসে তদন্তকালীন সময়ে রাজ্জাকুর রহমানের নেতৃত্বে বহিরাগতরা শিক্ষা অফিস প্রাঙ্গণে অধ্যক্ষ মাহেদুলকে প্রাণনাশের হুমকি দেন। এ ঘটনায় জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে অধ্যক্ষ মাহেদুল আলম রংপুর মেট্রোপলিটন কোতয়ালি থানায় গত ৭ আগস্ট লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
পরের দিন শুক্রবার বেলা সাড়ে তিনটায় মিঠাপুকুর উপজেলার পায়রাবন্দ ইউনিয়নের সদরপুর এলাকায় রাজ্জাকুর রহমান ও রাতুলের নির্দেশে আব্দুল মমিন, রেজাউল করিম ও মাকসুদুর রহমানসহ অজ্ঞাত ভাড়াটে সন্ত্রাসীরা মোটরসাইকেলের পথরোধ করে হত্যার উদ্দেশ্য বেধড়ক মারপিট করেন এবং শ্বাসরোধের চেষ্টা করেন। এসময় ৩০০ টাকার নন জুডিসিয়াল ফাঁকা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করে নেয় এবং প্যান্টের পকেটে থাকা জমি বন্ধকের ৯৫ হাজার ৫০০ টাকা ছিনতাই করে নিয়ে যান। পরবর্তীতে স্থানীয়দের সহযোগিতায় অধ্যক্ষ মাহেদুল আলম মিঠাপুকুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভর্তি হয়ে চিকিৎসা গ্রহণ করেন।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী অধ্যক্ষ মাহেদুল আলম জানান, পটপরিবর্তনের পরে আওয়ামী লীগ ট্যাগ দিয়ে আমাকে কোণঠাসা করার চেষ্টা করছেন রাজ্জাকুর রহমান। তারা আমার নামে মিথ্যা অভিযোগ তুলে প্রতিষ্ঠানে তালাবদ্ধ করে মব সৃষ্টি করে ইউএনওকে চাপ দিয়ে ইতিমধ্যেই সাময়িক সাসপেন্ড করে রেখেছে। আমি আওয়ামী লীগের কোনো কমিটিতে ছিলাম না। প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে সবার সঙ্গে সুসম্পর্ক রক্ষা করে চলেছি। আমাকে জীবননাশের হুমকির পরে মারধর এবং শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করেছে। আমার টাকাগুলো সব নিয়ে গেছে। আমি ন্যায়বিচার চাই।
অভিযুক্ত রাজ্জাকুর রহমান জানান, এই অভিযোগটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। আমরা কোনো হামলা করিনি।
মিঠাপুকুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নূরে আলম সিদ্দিকী জানান, এ বিষয়ে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।