গাজীপুর প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৯ আগস্ট ২০২৫ ১৫:১৬ পিএম
জিএমপি কমিশনার ড. মো. নাজমুল করিম খান। ছবি: সংগৃহীত
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপি) কমিশনার ড. মো. নাজমুল করিম খান বলেছেন, সাংবাদিক হত্যার দায় আমরা এড়াতে পারি না। আমাদের ব্যর্থতা ও জনবল স্বল্পতা রয়েছে। পুলিশের একার পক্ষে অপরাধ দমন করা সম্ভব হয় না। এখানে জনগণের সম্পৃক্ততার প্রয়োজন হয়। কিন্তু সুরক্ষার দায়িত্ব আমার ওপর ছিল। আমরা প্রিভেনশনটি করতে পারিনি। প্রিভেনশন সব সময় করা যায় না। বিশ্বের কোনো দেশই ক্রাইম একেবারে শূন্যে নিয়ে আসতে পারেনি। তাই আমাদের শত চেষ্টার পরেও ক্রাইম হয়ে যেতে পারে। যে ঘটনাটি ঘটেছে তার জন্য আমরা দুঃখ প্রকাশ করছি।
শনিবার (৯ আগস্ট) দুপুরে জিএমপি হেডকোয়ার্টারে এক সংবাদ সম্মেলনের এসব বলেন জিএমপি কমিশনার।
জিএমপি কমিশনার বলেন, বাদশা নামে এক ব্যক্তি ব্যাংক হতে ২৫ হাজার টাকা তুলে ফিরছিলেন। এসময় আসামি গোলাপী তাকে হানিট্র্যাপে ফেলার চেষ্টা করে। এটি যখন বাদশা বুঝতে পারে, তখন তার থেকে ছুটতে চায় এবং কিল-ঘুষি মারে। এসময় আগে থেকে ওৎপেতে থাকা অন্য আসামিরা এসে বাদশাকে কোপানো শুরু করে। এসময় বাদশা প্রাণ বাঁচাতে দৌঁড়াতে থাকে। সাংবাদিক তার পেশাগত কারণেই এটি ভিডিও করে। আসামিরা সাংবাদিক তুহিনকে ভিডিও ডিলিট করতে বলে। কিন্তু তিনি রাজি হয় না। একপর্যায়ে ওই আসামিরা তাকে কুপিয়ে হত্যা করে পালিয়ে যায়।
তিনি বলেন, সিসিটিভি ফুটেজে আমরা আটজনকে চিহ্নিত করেছি। এরমধ্যে সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছি। বাকি একজন রয়েছে, তাকেও দ্রুত সময়ের মধ্যে গ্রেপ্তার করতে পারবো।
সাংবাদিক তুহিন হত্যায় গ্রেপ্তাররা হলেন- জামালপুরের মেলান্দ থানার মাহমুদপুর এলাকার মোবারকের ছেলে মিজান ওরফে কেটু মিজান (৩৫) ও তার স্ত্রী গোলাপী (২৫), পাবনার ফরিদপুর উপজেলার সোনাহারা গ্রামের নূর মোহাম্মদের ছেলে মো. স্বাধীন (২৮), খুলনার সোনাডাঙ্গা উপজেলার ময়লাপোত এলাকার হানিফের ছেলে আল আমিন (২১), কুমিল্লার হোমনা থানার আন্তপুর গ্রামের হানিফ ভূঁইয়ার ছেলে শাহজালাল (৩২), পাবনার চাটমহর থানার পাঁচবাড়ীয়া গ্রামের কিয়ামুদ্দিনের ছেলে মো. ফয়সাল হাসান (২৩) ও সুমন নামের একজন।
কমিশনার আরও বলেন, সংঘবদ্ধ চক্রের অপরাধের চিত্র ধারণা করতে গিয়ে জীবন দিয়েছেন সাংবাদিক। তাকে হত্যাকারী আসামিদের পিএম রিপোর্ট পেলেই চার্জশিট দেওয়া হবে ১৫ দিনের মধ্যে। তাদের দ্রুত বিচার করে দ্রুত সময়ের মধ্যে সাজা নিশ্চিত করা হবে। সাজার সংস্কৃতি নিশ্চিত করা গেলে ক্রাইম দমন করা যাবে। আসামিরা যদি নাও স্বীকার, তবে তাদের এভিডেন্সই তাদের অপরাধ প্রমাণ করবে।
তিনি যথার্থ নিরাপত্তা নিশ্চিত না করতে পারার দায় নিয়ে সাংবাদিক সমাজের প্রতি দুঃখ প্রকাশ করেন এবং নিহত আসাদুজ্জামান তুহিনের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।
তিনি আরও বলেন, গাজীপুরে ৫ আগস্টের পর অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। কর্মসংস্থান বন্ধ হয়ে গেলে ক্রাইম বেড়ে যায়। এটা জননিরাপত্তার জন্য হুমকি।
এছাড়াও আগের রেজিম এই জেলায় শক্তিশালী। সেই দলটি গাজীপুরকে অস্থিতিশীল করছে। সেটিও নজরদারি করা হচ্ছে। এই নজরদারি করতে গিয়ে অন্যান্য অপরাধে মনোযোগ নষ্ট করছে। তবে মানুষের স্বস্তি ফেরাতে কাজ করছে জিএমপি।
তিনি আরও বলেন, আমরা ২৪ ঘন্টার মধ্যে সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিন হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করতে পেরেছি। গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসব আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। সাতজনের মধ্যে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। বাকিদের গ্রেপ্তার করেছে জিএমপি পুলিশ।
প্রসঙ্গত, গাজীপুর মহানগরীর ব্যস্ততম চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় বৃহস্পতিবার রাতে প্রকাশ্যে সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিনকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। নিহত সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিন (৩৮) দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ পত্রিকার গাজীপুরের স্টাফ রিপোর্টার ছিলেন। তিনি ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া থানার ভাটিপাড়া গ্রামের হাসান জামালের ছেলে তিনি। তিনি স্ত্রী ও দুই ছেলেকে নিয়ে গাজীপুর মহানগরীর চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।