এম.পলাশ শরীফ, মোরেলগঞ্জ (বাগেরহাট)
প্রকাশ : ০৯ আগস্ট ২০২৫ ১১:৫৭ এএম
বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে মহিলা কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের হযবরল অবস্থা চলছে। এতে স্টোরকিপার টিএম আমিনুল ইসলাম ২০ বছর ধরে চাকরি করছেন। একই কর্মস্থলে এতদিন ধরে চাকরি করায় তার বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে রয়েছে।
টিএম আমিনুলের বিরুদ্ধে অধিদপ্তরে মহাপরিচালক ও যুগ্ম সচিবের কাছে নিরাপত্তা প্রহরী লোকমান হাওলাদার, ফিশারিকর্মী সোহাগ মোল্লাসহ প্রতিষ্ঠানের সাত কর্মচারী লিখিত একটি অভিযোগ করেছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, মহিলা কৃষি প্রশিক্ষণের আউট সোর্সিংয়ে নিয়োগ পাওয়া নয় কর্মচারীর নিয়োগ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান হলো গফফার সিকিউরিটি। এই প্রতিষ্ঠান লাইসেন্স জালিয়াতির অভিযোগ থাকায় আদালতে একটি মামলা চলমান রয়েছে। গফফার সিকিউরিটি থেকে নিয়োগ পাওয়া নয় কর্মচারী দুই বছর ধরে বেতন-ভাতা পাচ্ছে না। ফলে তারা পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন পার করছেন।
ইতোমধ্যে এক আদেশে আদালত কর্মচারীদের এ মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত আউটসোর্সিংয়ে নিয়োগ পাওয়া কর্মচারীদের অন্য কোথাও বদলি এবং চাকরি থেকে বাদ দেওয়া যাবে না বলে স্পষ্ট করেছেন।
পরবর্তী সময়ে মামলা নিষ্পত্তি হলে অর্থ মন্ত্রণালয় ও মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর কর্মচারীদের বেতনের অনুমোদন দেওয়া হলেও ছাড়পত্র দেওয়ার আগেই ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোখলেসুর রহমান অন্যত্র বদলি হয়ে যান। তার জায়গায় আসেন সাহেলা পারভীন। তিনি দায়িত্ব বুঝে নিয়েই কর্মচারীদের বকেয়া বেতনের কাগজপত্র মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরে পাঠান। পাশাপাশি কর্মচারীদের বলে দেন স্টোরকিপার টিএম আমিনুলের সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য।
অভিযোগ উঠেছে, টিএম আমিনুল কাগজপত্র ও প্রশাসনিক অনুমোদনের জন্য ওই সাত কর্মচারীর কাছে এক লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন। কর্মচারীরা টাকা দিতে অস্বীকার করায়, তাদের গত বছরের জুলাই থেকে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৮ মাসের বকেয়া বেতন কর্মকর্তা সই না করায় টাকা ফেরত চলে যায়। এ ঘটনার প্রতিবাদ করায় নিরাপত্তা প্রহরী লোকমান হাওলাদার, ফিশারিকর্মী সোহাগ মোল্লাকে চাকরিচ্যুত করা হয়।
এদিকে বেতন না পেয়ে নিরাপত্তা প্রহরী লোকমান হাওলাদার, ফিশারিকর্মী সোহাগ মোল্লা, ক্লিনার জিয়াউর হাওলাদার, আয়া হফিজা আক্তার, বার্বুচি মিনারা বেগম, ইলেকট্রিশিয়ান মনিরুজ্জামান, মালী মহিদুল ইসলাম এই সাত কর্মচারী অভিযোগ করে বলেন, মহিলা কৃষি প্রশিক্ষণে শুরু থেকেই স্টোরকিপার টিএম আমিনুল ইসলাম চাকরি করে আসছেন। একই কর্মস্থলে থাকায় তিনি কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে অনিয়ম ও দুর্নীতিতে নিমজ্জিত হয়ে পড়েছেন। তার কাছে কর্মকর্তারা রীতিমতো জিম্মি। কর্মচারিদের বকেয়া ৮ মাসের বেতন হয়েছিল। কিন্তু তাকে এক লাখ টাকা কর্মচারীরা দিতে অস্বীকার করায় বেতন পেলেন না।
উল্লেখ্য প্রতি বছর মহিলা কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট থেকে সার্টিফিকেট ইন-বিউটিফিকেশন, কম্পিউটার অফিস অ্যাপ্লিকেশন, ড্রেস মেকিং অ্যান্ড টেইলারিং ও আধুনিক গার্মেন্টস ৪টি ট্রেডে বেকার নারীদেরকে আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
অভিযুক্ত স্টোরকিপার টিএম আমিনুল ইসলাম বলেন, তিনি কারও কাছে টাকা চাননি। তার বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ তোলা হয়েছে। এ ব্যাপারে জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ও মহিলা কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের (অ.দ) কর্মকর্তা সাহেলা পারভীন বলেন, ‘আমি দুই মাস হলো অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছি। এখানে যেসব সমস্যা রয়েছে, তা সমাধানে একটু সময় লাগছে। ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিগত দিনের অনিয়মের বিষয়গুলো নিয়ে তদন্ত শুরু করছেন ‘