ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৮ আগস্ট ২০২৫ ২০:৩৬ পিএম
নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার অবৈধ বালুমহালের বালু খেকোদের দ্বারা ভৈরবের দুই শতাধিক পর্যটকের ওপর হামলার প্রতিবাদে ভৈরবে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ২ আগস্ট শনিবার ঘটনাটি ঘটে। ঘটনার ৫ দিন পেরিয়ে গেলেও জড়িতদের বিরুদ্ধে কার্যকরী ব্যবস্থা না নেওয়ায় নরসিংদী জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, রায়পুরা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও রায়পুরা থানার অফিসার ইনচার্জের রহস্যজনক ভূমিকাকে দায়ী করছেন ভুক্তভোগীরা। এতে ভৈরববাসীর মনে চরম ক্ষোভ সৃষ্টি হয়।
এ ঘটনার প্রতিবাদে গত বুধবার (৬ আগস্ট) সকাল ১১টায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ভৈরব দুর্জয় মোড়ে স্থানীয় যুব সমাজ ও সর্বস্তরের নাগরিক সমাজের উদ্যোগে প্রতিবাদ সভা ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। বিক্ষোভ শেষে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে প্রতিবাদ মিছিল করে ভূক্তভোগী ও স্থানীয়রা। মিছিলে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, সমাজকর্মী, সাংবাদিক, মানবাধিকার কর্মী ও সচেতন নাগরিক সমাজের কয়েক শতাধিক মানুষ অংশ নেন।
এ কর্মসূচির নেতৃত্ব দেন শহরের কমলপুর গ্রামের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মাসুদুর রহমান জিসান ও কমলপুর হাজী জহির উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সভাপতি নাদিম জামান।
বিক্ষোভে বক্তব্য রাখেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে কিশোরগঞ্জ জেলা মূখ্য সমন্বয়ক শরীফুল হক জয়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ভৈরবের আহ্বায়ক মোহাম্মদ কাইজার, বিশিষ্ট সমাজকর্মী রেফারি সুমন রহমান, রক্ত সৈনিক শামসুল হক বাদল প্রমুখ।
প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তারা বলেন, রায়পুরার চরাঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে একটি প্রভাবশালী বালু সিন্ডিকেট। আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলের ওই সিন্ডিকেটই অন্তবর্তীকালীন সরকারের আমলে বীরদর্পে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে যাচ্ছে। প্রশাসনের নাকের ডগায় এসব অবৈধ বালু খেকোরা বালু উত্তোলনের পাশাপাশি চক্রটি সশস্ত্রভাবে নদীতে দাপট চালাচ্ছে। হামলার শিকার হচ্ছে নদীতে চলাচলকারী সাধারণ মানুষসহ নিরাপদে নেই ভ্রমণকারীরাও। এ ঘটনার বেশ কয়েকদিন পেরিয়ে গেলেও নরসিংদীর প্রশাসনের বিভিন্ন বিভাগ নীরব ভূমিকায় রয়েছেন। এর কারণ হিসেবে প্রশাসনের লোকজন বালু খেকো সন্ত্রাসী চক্রকে মদত দিচ্ছেন বলে বিক্ষোভকারীরা জানান। দ্রুত অভিযুক্ত অবৈধ বালু খেকো সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার ও বিচাররে দাবি জানান এবং রায়পুরার চরাঞ্চলের অবৈধ বালুমহালগুলো বন্ধের জন্য বিক্ষোভ থেকে সরকারের প্রতি জোর দাবি জানানো হয়। যদি অভিযুক্ত সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে আরও কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন ভোক্তভোগীসহ বিক্ষোভকারীরা।
উল্লেখ্য, গত ২ আগস্ট শনিবার, ভৈরবের কমলপুর গ্রাম থেকে প্রায় দুই শতাবধিক শিশু-কিশোর ও যুবকরা লঞ্চযোগে নবীনগরের গণিশাহ মাজারের উদ্দেশে ভ্রমণে যাওয়ার পথে রায়পুরা উপজেলার চরাঞ্চলে নদীতে লঞ্চে থাকা মানুষজনের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় বালু খেকো জলদস্যুরা। এ সময় ১০ রাউন্ড গুলি ও ককটেল ফুটিয়ে লঞ্চে থাকা মানুষকে মারধর করে আহত করেন এবং তাদের সাথে থাকা স্মার্টফোন, টাকা পয়সা, সাউন্ড সিস্টেমের মালামালসহ কয়েক লাখ টাকার মালামাল ছিনিয়ে নেয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পর্যটকরা তাদের মোবাইল ক্যামেরা দিয়ে মেঘনার সৌন্দর্য ধারণ করার সময় হঠাৎ বালু খেকো সিন্ডিকেটের ১৫-২০ জন জলদস্যু দুটি স্পিড বোডে এসে লঞ্চের পর্যটকদের ওপর অতর্কিত হামলা এবং গুলিবর্ষণসহ ভয়াবহ সহিংসতা চালায়। এ ঘটনায় বেশ কয়েকজন পর্যটক আহত হন। পরে গ্রামবাসী লোকজন এগিয়ে আসে তাদের রক্ষা করতে। কিন্তু তারা গুলিবর্ষণ ও ককটেল ফুটাইলে গ্রামবাসীরা ভয়ে পিছু হটে। পরে লঞ্চে থাকা মানুষ যে যেভাবে পারে সেখান থেকে জীবন নিয়ে পালিয়ে আসেন। নদীতে এই ভয়াবহ ঘটনা ঘটার পরও অভিযুক্ত জলদস্যু সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় নরসিংদীর প্রশাসনের প্রতি ক্ষুব্ধ হন ভৈরববাসী।
সলিমগঞ্জ নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মোহাম্মদ হায়দার তালুকদার জানান, আমি লোকমুখে শুনেছি, গত শনিবার মেঘনায় একটি লঞ্চ আটক করা হয়েছিল। আবার তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। ওইদিন কি ঘটেছে আমার জানা নেই। এমনকি আমি কারো কাছ থেকে কোনোরকম অভিযোগ পায়নি। আপনার মাধ্যমে হামলার বিষয়টি জানতে পেরেছি। অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।