জয়পুরহাট প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৮ আগস্ট ২০২৫ ১৮:০৯ পিএম
জয়পুরহাটের আক্কেলপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) গোলাম রব্বানীর বিরুদ্ধে পুলিশ হেফাজতে (রিমান্ড) থাকা এক আসামিকে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আদালত জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ককে একজন রেজিস্টার্ড চিকিৎসক দিয়ে আসামির শরীর পরীক্ষা করে আঘাতসংক্রান্ত বিস্তারিত প্রতিবেদন আগামী ১০ আগস্টের মধ্যে দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।
একইসঙ্গে আক্কেলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসকের বিরুদ্ধে দায়িত্ব পালনে চরম অবহেলার অভিযোগ এনে আগামী ১৭ আগস্টের মধ্যে সিভিল সার্জনকে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) জয়পুরহাটের চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল এ আদেশ দেন। আদালতের নির্দেশের পর এসআই গোলাম রব্বানীকে থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ইসলামী ব্যাংকের আক্কেলপুর এজেন্ট শাখায় গত মার্চ মাসে গ্রাহকদের বিপুল পরিমাণ টাকা আত্মসাতের ঘটনা ধরা পড়ে। এঘটনায় থানা ও আদালতে আটটি মামলা দায়ের করা হয়। এতে শাখা মালিক জাহিদুল ইসলাম, ব্যবস্থাপক রিওয়ানা ফারজানা ও ক্যাশিয়ার মাসুদ রানাকে আসামি করা হয়।
দুটি মামলায় গত ৪ আগস্ট তিন আসামিকে তিনদিনের পুলিশ হেফাজতে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। মামলার অন্যতম আসামি ক্যাশিয়ার সোহেল রানা পুলিশ হেফাজতে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই গোলাম রব্বানী তিনদিনের পুলিশ হেফাজত শেষে তিন আসামিকে বৃহস্পতিবার আদালতে হাজির করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি রের্কডের আবেদন করেন। একইসাথে একটি মামলায় সোহেল রানার আরও পাঁচদিনের পুলিশ হেফাজতের নেওয়ার জন্য আদালতে আবেদন করেন। আদালত আসামি সোহেল রানার পাঁচ দিনের পুলিশ হেফাজত নামঞ্জুর করে একটি আদেশ দেন।
আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, আসামি জাহিদুল ইসলাম ও রিওয়ানা ফারজানাকে পৃথকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তারা এই অপরাধের সঙ্গে জড়িত নয় বলে দোষ স্বীকার করতে অস্বীকৃতি জানান। অপর আসামি মাসুদ রানাকে গত ৪ আগস্ট পুলিশ হেফাজতে এনে এসআই গোলাম রব্বানী জানালার সঙ্গে হাতকড়া লটকায়ে বেধড়ক মারপিট করেছেন। তার শরীরের ক্ষতচিহ্ন আদালতের পরিলক্ষিত হয়। তিনি আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিতে ইচ্ছুক নয়। রিমান্ডে নিয়ে শারীরিক নির্যাতন করায় তার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করার আইনগত সুযোগ নেই। আসামি মাসুদ রানার বক্তব্য জবানবন্দি আকারে লিপিবদ্ধ করা হলো।
তার শারীরিক অবস্থা পর্যালোচনা করে দেখা যায়, এটি নির্যাতন এবং হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইন, ২০১৩ এর অধীন শাস্তিযোগ্য অপরাধ। উক্ত আইনের ৪ (খ) ধারার বিধান অনুযায়ী একজন রেজিস্ট্রার্ড চিকিৎসক দিয়ে তার দেহ পরীক্ষা করে শরীরের আঘাত সংক্রান্ত প্রতিবেদন জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ককে আগামী ১০ আগস্ট দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়।
এছাড়া আসামি মাসুদ রানার জবানবন্দি পর্যালোচনায় দেখা যায়, আক্কেলপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক আসামির শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ না করেই পুলিশের কথা শুনে সার্টিফিকেট দিয়েছেন। এটি দায়িত্বের চরম অবহেলা বলে আদালত মনে করে। এ ঘটনাটি তদন্ত করে আগামী ১৭ আগস্ট সিভিল সার্জনকে আদালতে প্রতিবেদন দাখিলে নির্দেশ দেন।
যোগাযোগ করা হলে এসআই গোলাম রব্বানী বলেন, তিনজন আসামির কাউকে পুলিশ হোফাজতে নির্যাতন করা হয়নি।
জয়পুরহাটের পুলিশ সুপার (এসপি) মুহম্মদ আবদুল ওয়াহাব সাংবাদিকদের বলেন, এসআই গোলাম রব্বানী পুলিশ হেফাজতে থাকা আসামির সঙ্গে অপেশাদারিত্ব আচরণ করেছেন। এ কারণে তাকে থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে।