সিংড়া (নাটোর) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৮ আগস্ট ২০২৫ ১৫:৪৩ পিএম
নাটোরের সিংড়া উপজেলার ছাতারদিঘী ইউনিয়নের ঝিনা গ্রামে চাত্রাগাড়ী নামে একটি সরকারি খাস পুকুর ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন জটিলতা। পুকুরটি দীর্ঘ ৯ বছর ধরে স্থানীয় সনাতন হিন্দু সম্প্রদায়ের মন্দির কর্তৃপক্ষ সরকার থেকে নিয়মিত লিজ নিয়ে ব্যবহার করে আসছিল। মন্দির সংলগ্ন এই খাস পুকুরটি ধর্মীয় কার্যক্রম ও মন্দিরের ব্যয় নির্বাহের গুরুত্বপূর্ণ উৎস ছিল।
জানা গেছে, সর্বশেষ মেয়াদে স্থানীয় এক মৎস্যচাষীকে পুকুরটি দুই বছরের জন্য লিজ দেয় মন্দির কর্তৃপক্ষ। যার মেয়াদ শেষ হয় চৈত্র মাসে। এরপর নতুন অর্থবছরের শুরুতে মন্দির কমিটি উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করে পুনরায় লিজ গ্রহণের আবেদন জানালে জানানো হয়, আপাতত সরকারি লিজ কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে।
কমিটির দাবি অনুযায়ী, পূর্বের ধারাবাহিকতা অনুযায়ী মৌখিকভাবে পুকুরটি ভোগদখলের অনুমতি দেওয়া হয়।
এদিকে মন্দির কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে অভিযোগ ওঠে, পূর্বের লিজগ্রহীতা ও স্থানীয় আওয়ামী লীগের সহসভাপতি সিদ্দিক সরকারিভাবে নতুন করে লিজ না নিয়েই পুকুরটি দখল করছেন। তিনি দাবি করেন, নতুনভাবে লিজ পেয়েছেন এবং ইতোমধ্যে মাছ চাষ শুরু করেছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, জ্যৈষ্ঠ্ মাসের মাঝামাঝি সময়েই সিদ্দিক পুকুর থেকে মাছ তুলে নিয়ে গেছেন, যা প্রশ্ন তোলে তার দাবির সত্যতা নিয়ে।
ঝিনা হিন্দুপাড়া সর্বজনীয় প্রধান কমিটি দূর্গা মন্দিরের সভাপতি কৃষ্ণ প্রামাণিক বলেন, এই পুকুরটি আমাদের মন্দিরের একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। ৯ বছর ধরে আমরা নিয়ম মেনে সরকার থেকে লিজ নিয়ে ব্যবহার করে আসছি। হঠাৎ করে একপক্ষ কোনো প্রমাণ ছাড়াই এসে বলছে, তারা লিজ পেয়েছে। এটি সম্পূর্ণ অন্যায়। আমরা প্রশাসনের কাছে ন্যায়বিচার চাই। কোর্টের রায় পর্যন্ত অন্তত কেউ যেন বেআইনিভাবে পুকুর ব্যবহার করতে না পারে, সেটি নিশ্চিত করার দাবি জানাই।
অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ নেতা সিদ্দিক বলেন, পুকুরটি প্রথমে আমি মন্দির কমিটির কাছ থেকে লিজ নিয়েছিলাম। পরবর্তীতে ওই গ্রামের স্থানীয় আলমগীর নামে একজনের কাছ থেকে লিজ নিয়ে মাছ চাষ করছি।
সরকারি পুকুর লিজ দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে আলমগীর হোসেন বলেন, আমি কাউকে সরকারি পুকুর লিজ দেইনি। ইউএনও ওই পুকুর ছেড়ে আসতে বলেছে, আমি আর পুকুরে যাইনি।
সিংড়া উপজেলার নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মাজহারুল ইসলাম এ বিষয়ে বলেন, দুই পক্ষই আমার কাছে এসেছিলেন। আমি তাদের স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছি, এই পুকুর সংক্রান্ত একটি মামলা আদালতে চলমান রয়েছে এবং কোর্ট থেকে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে। কোর্টের রায় না হওয়া পর্যন্ত পুকুরে কোনো পক্ষই প্রবেশ বা ভোগদখল করতে পারবে না।
এই ঘটনার পর স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে চরম উদ্বেগ এবং অসন্তোষ বিরাজ করছে। তারা মনে করছেন, ধর্মীয় স্থাপনার সংলগ্ন সম্পদ নিয়ে এমন অনিয়ম সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা এবং অধিকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোর্টের আদেশ কার্যকর রেখে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে এই সংকটের সমাধানের আশা করছেন এলাকাবাসী।