ময়মনসিংহ প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৭ আগস্ট ২০২৫ ১৮:৪২ পিএম
ময়মনসিংহ নগরের চরপাড়া এলাকার হেলথ কেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও হাসপাতালের মালিক রঞ্জয় নন্দীসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি পুলিশ। লিফট বন্ধ করে দেওয়ায় সিঁড়ি দিয়ে নামতে গিয়ে এক প্রসূতি সিঁড়িতে পড়ে যান। এতে গর্ভেই তার সন্তান নষ্ট হয়ে যায়। এ ঘটনার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ময়মনসিংহ সিভিল সার্জন অফিস ওই ক্লিনিককে সাময়িক বন্ধ করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করছে। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ক্লিনিক মালিকের শাস্তি দাবি করে বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) বিকালে মানববন্ধন করেছে সাইবার কমিউনিটি নামে একটি সামাজিক সংগঠন।
ভূক্তভোগি নারীর পরিবার সূত্রে জানা যায়, ময়মনসিংহ পুলিশ লাইনে কর্মরত উপপরিদর্শক (এসআই) লুৎফর রহমান ৩ আগস্ট তার প্রসূতি স্ত্রীকে নিয়ে নগরীর ব্রাক্ষপল্লী এলাকার হেলথ কেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালে ওঠার সময় লিফটে তাদের তিনতলায় উঠানো হয়। হাসপাতালের অব্যবস্থাপনা ও সিজার অপারেশন করার মত পরিবেশ না থাকায় পুলিশ কর্মকর্তা তার স্ত্রীকে নিয়ে নিচে নেমে যেতে চান। সিজার করতে রাজি না হওয়ায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ লিফট বন্ধ করে দেন। এ সময় সিঁড়িতে পড়ে যান প্রসূতি মা। এতে গর্ভেই তার সন্তান নষ্ট হয়ে যায়। ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন কৌশল করে।
বিষয়টি সাইবার কমিউনিটি নামে একটি সামাজিক সংগঠন ফেসবুকে প্রচার করেন। এরপরেই টনক নড়ে স্থানীয় আইনশৃংখলা বাহিনীর। বৃহস্পতিবার সকালে ওই হাসপাতালের মালিক রঞ্জয় নন্দীসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ।
ভুক্তভোগী নারীর স্বামী লুৎফর রহমান বলেন, সন্তান প্রসব করানোর জন্য প্রথমে জামালপুর হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তার স্ত্রীকে। সেখান থেকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। প্রসূতিকে নিয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মোড়ে এলে হেলথ কেয়ার হাসপাতালের সাবেক ম্যানেজার হান্নান তাদের নানা প্রলোভন দেখিয়ে ওই ক্লিনিকে নেওয়া যায়। হাসপাতালের পরিবেশ দেখে সেখানে সিজার করতে না চাইলে, তাদের হাসপাতাল থেকে বের হতে বাঁধা দেওয়া হয়। এমনকি লিফট বন্ধ করে দেওয়া হয়। সিঁড়ি দিয়ে নামতে গিয়ে তার স্ত্রী পড়ে যান। এতে গর্ভেই তাদের সন্তান নষ্ট হয়ে যায়।
সাইবার কমিউনিটি সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সাকিব আহমেদ তুহিন বলেন, বিষয়টি জেনে তারা তৎপর হন। বিষয়টি সিভিল সার্জন অফিসকে অবহিত করা হয়। এরপরই ওই হাসপাতালের মালিককে গ্রেপ্তারসহ ক্লিনিকটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। আমরা এসব অবৈধ ক্লিনিক বন্ধসহ ঘটনায় জড়িতদের শাস্তি দাবি করে মানববন্ধন করি। সেখান থেকে প্রশাসনকে অবৈধ ক্লিনিক বন্ধের ২৪ ঘন্টার সময় বেঁধে দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে সিভিল সার্জন ডা. ছাইফুল ইসলাম বলেন, প্রসূতি মায়ের শিশু সন্তান নষ্ট হওয়ার অভিযোগে প্রাথমিক তদন্ত করে দেখে গেছে ওই হাসপতালের লাইসেন্স নবায়ন নেই। এই কারণে হাসপাতালটি সাময়িক বন্ধ করে দেওয়া হয়। এর পাশাপাশি তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।