× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

সার সিন্ডিকেটের যাঁতাকলে পিষ্ট বিরামপুরের কৃষকেরা

হিলি (দিনাজপুর) প্রতিবেদক

প্রকাশ : ০৭ আগস্ট ২০২৫ ১৭:৩৭ পিএম

আপডেট : ০৭ আগস্ট ২০২৫ ১৯:১৩ পিএম

প্রবা ফটো

প্রবা ফটো

সরকার নির্ধারিত ১৩৫০ টাকার ফসফেট (টিএসপি) সার ১৮০০ থেকে ২১০০ টাকা এবং ১০০০ টাকার পটাশ সার কৃষকদের কাছে ১৩০০ টাকায় বিক্রির অভিযোগ উঠেছে দিনাজপুরের বিরামপুরে। এসব সার ডিলার ও ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটের যাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে দিশেহারা সাধারণ কৃষকেরা। ‘সার সংকট’ দেখিয়ে অতিরিক্ত দাম নিচ্ছে তারা, অথচ পর্যাপ্ত সার মজুত রয়েছে সরকারি গুদাম ও ডিলারদের কাছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে ১ টাকা বেশি দাম নেওয়া হলেও সংশ্লিষ্ট ডিলার বা ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাংলাদেশ কৃষিপ্রধান দেশ। আর দিনাজপুর জেলা উত্তরবঙ্গের শস্যভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত। দেশের সিংহভাগ ধান উৎপাদিত হয় এই জেলায়। কিন্তু এই জেলার বিরামপুর উপজেলার সাধারণ কৃষকরা পড়েছেন সিন্ডিকেটের দাবানলে। সরকার নির্ধারিত ফসফেট সারের দাম ১৩৫০ টাকা ও পটাশ সারের দাম ১০০০ টাকা হলেও ডিলাররা সিন্ডিকেট করে তা বিক্রি করছেন যথাক্রমে ১৮০০ থেকে ২১০০ টাকা এবং ১৩০০ টাকায়। ফলে কৃষকদের প্রতি বস্তায় অতিরিক্ত ৩০০ থেকে ৬০০ টাকা গুনতে হচ্ছে।

এই বাড়তি ব্যয়ের ফলে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে এবং কৃষকদের ফসল উৎপাদনে আগ্রহও কমে যাচ্ছে।

ভেলারপার গ্রামের কৃষক মকছেদুল রহমান ও খাইরুজ জামান বলেন, ধান ও কপি চাষে আমাদের ফসফেট সার খুব প্রয়োজন। কিন্তু দোকানদাররা ঠিকমতো সার দিচ্ছে না। আবার দিলেও ১৩৫০ টাকার জায়গায় ২০০০ টাকা নিচ্ছে। উপরে থেকে রেগে গিয়ে বলে, ‘নিলে নাও, না নিলে চলে যাও।’ এইভাবে আমাদের ঠকালে চলবে কীভাবে? সরকার কি এদের কোনো ব্যবস্থা নেবে না?

হরিকৃষ্টপুর গ্রামের কৃষক কামরুজ্জামান, মিজানুর ও রশিদ বলেন, সরকার যে মূল্যে সার নির্ধারণ করেছে, সে দামে আমরা সার পাচ্ছি না। ফসফেট সার কিনছি ১৭০০–১৮০০ টাকায়। ব্যবসায়ীরা আমাদের চিপা বাঁশের ফাঁদে আটকে ফেলেছে। তাদের ইচ্ছেমতোই আমাদের চলতে হয়।

রোস্তমপুর ফকিরপাড়া গ্রামের কৃষক মইনুল ইসলাম হিরা বলেন, আমি ১৫ বিঘা জমিতে আমন ধান চাষ করেছি। পর্যাপ্ত সার আছে, এটা একটা ডিলার সিন্ডিকেট। ফ্যাসিবাদ গেছে, কিন্তু তাদের দোসররাই এখন চালিয়ে যাচ্ছে। মূল ডিলাররা ফসফেট সার ১৩৫০ টাকার বদলে ব্যবসায়ীদের কাছে ১৯০০ টাকায় দিচ্ছে। ড্যাপ সারের দাম ১০৫০ টাকা হলেও তারা নিচ্ছে ১৫৫০ টাকা, পটাশ ১০০০ টাকা হলেও নিচ্ছে ১৩০০ টাকা। এটা কি মগের মুল্লুক? প্রশাসনের মনিটরিং দরকার।

সার ডিলার দিলীপ কুমার কুন্ডু বলেন, আমাদের সেলস সেন্টার থেকে কখনোই বেশি দাম নেওয়া হয় না। কেউ কেউ এক-দুই বস্তা আমাদের কাছ থেকে কিনে বেশি দামে বিক্রি করে। তবে এমন কোনো রিপোর্ট করবেন না যাতে কোনো ডিলারের ক্ষতি হয়। একটুআধটু ভুল থাকতেই পারে।

বিরামপুর উপজেলা সার ডিলার সমিতির সভাপতি ও উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আলহাজ নুর-ইসলাম বলেন, কে কোথায় বেশি দাম নিচ্ছে, আমি জানি না। আমি ও আমার ডিলাররা কেউ বেশি দামে সার বিক্রি করি না। সরকার নির্ধারিত মূল্যে — ফসফেট ১৩৫০ ও পটাশ ১০০০ টাকায় — সার বিক্রি করি।

কৃষকদের কাছে বিক্রির রেজিস্টার খাতা দেখতে চাইলে তিনি বলেন, রেজিস্টার খাতা দেখার কোনো অধিকার আপনার নেই। আপনি সেটা দেখতে পারেন না। ইউএনও স্যার বা কৃষি অফিসারও সেটা দেখাতে পারবেন।

এ সময় তিনি বলেন, আপনি নিউজ করলে আমরাও বসে থাকব না। আমরাও অনেক দূর যেতে পারি। আমরাও দেখে নেব।

বিরামপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কমল কৃষ্ণ রায় বলেন, টিএসপি বা কোনো সারেরই সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দাম নেওয়ার সুযোগ নেই। যদি কেউ নেন, কৃষকরা আমাকে জানালে আমি সরাসরি সেই দোকানে গিয়ে ব্যবস্থা নেব। ১৩৫০ টাকার সারে ১ টাকা বেশি নিলেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে, প্রমাণ হলেই ব্যবস্থা।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা