প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৭ আগস্ট ২০২৫ ১৩:৫৪ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থান দিবসে শেরপুরের দুই উপজেলায় সরকারি কর্মসূচিতে আওয়ামী লীগ নেতার সরব উপস্থিতি ঘিরে সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
ঝিনাইগাতী ও নকলা উপজেলায় মোড়ক উন্মোচন ও পুষ্পস্তবক অর্পণ অনুষ্ঠানে ইউএনওর সঙ্গে আওয়ামী লীগ নেতাদের দাঁড়ানো নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ও সামাজিক মাধ্যমে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
ঝিনাইগাতী উপজেলার শহীদ সৌরভ চত্বরে মোড়ক উন্মোচনের সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুল আলম রাসেলের পাশে ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতা সারোয়ার হোসেন, যিনি ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর বিশেষ ক্ষমতা আইনে দায়ের হওয়া একটি মামলার আসামি।
অন্যদিকে, নকলা উপজেলার ১নং গণপদ্দী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি শামসুর রহমান আবুলকে পুষ্পস্তবক অর্পণের সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম ও সহকারী কমিশনারের (ভূমি) পাশে দেখা যায়। বিষয়টি নিয়ে বিএনপি ও যুবদল-ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ছবিগুলো ঘিরে স্থানীয় জনগণের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
ঝিনাইগাতী উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক এখলাছুর রহমান বলেন, আমরা ১৬ বছর ধরে জাতীয় দিবসে কোনো আমন্ত্রণ পাইনি, ছবি তোলার সুযোগ তো দূরের কথা। আজও দেখা যাচ্ছে, প্রশাসনে আওয়ামী ঘরানার লোকজন থেকেই যাচ্ছে।
এদিকে ঝিনাইগাতী থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে আওয়ামী লীগ নেতা সারোয়ারকে গ্রেপ্তার করেছে বলে নিশ্চিত করেছেন থানার ওসি মো. আল-আমীন।
নকলা উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক খোরশেদুর রহমান বলেন, বিষয়টি আমাদের নজরে আসার পর পরই ইউএনওকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম। তিনি বলেছেন, তাকে দাওয়াত দেওয়া হয়নি। ইচ্ছাকৃতভাবে এসেছেন।
তিনি আরও বলেন, আমরা এ বিষয়টি কোনো অবস্থাতেই মানতে পারছি না। সে একাধিক মামলার আসামি। এমনকি কারাগার থেকে বেশ কিছুদিন আগে বের হয়েছেন।
বিষয়টি নিয়ে ঝিনাইগাতীর ইউএনও আশরাফুল আলম রাসেল বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আমি চিনতাম না।
নকলার ইউএনও মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আমি কাউকে দাওয়াত দেইনি। উনি নিজ থেকেই অনুষ্ঠানে এসেছেন।
জানতে চাইলে শেরপুরের জেলা প্রশাসক তরফদার মাহমুদুর রহমান বলেন, ঝিনাইগাতীর বিষয়টি শুনে ইউএনওকে ফোন দিয়েছিলাম। তিনি জানিয়েছেন, তিনি (ইউএনও) ব্যক্তিটিকে চিনতেন না। আর কোনো মামলার আসামি থাকলে তাদের গ্রেপ্তার করা উচিত।