নোয়াখালী প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৬ আগস্ট ২০২৫ ১৪:২২ পিএম
বুধবার ভোরে চৌমুহনী–লক্ষ্মীপুর আঞ্চলিক মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। প্রবা ফটো
‘স্বপ্ন যাবে বাড়ি আমার’- এই স্ট্যাটাস দিয়ে নিজের একটি ছবি যুক্ত করে ফেসবুকে দিয়েছিলেন ওমানপ্রবাসী মো. বাহার উদ্দিন। তাকে আনতে বিমানবন্দরে গিয়েছিলেন স্ত্রী কবিতা, মেয়ে মীমসহ স্বজনরা। কিন্তু বাড়ি ফেরা হলো না তাদের। পথে চালকের ঘুমে ঘটে যায় ভয়াবহ দুর্ঘটনা। তাদের মাইক্রোবাসটি খালে পড়ে ডুবে যায়। প্রাণ হারান বাহারের স্ত্রী-সন্তানসহ পরিবারের সাতজন। প্রবাসী বাহারের সেই স্বপ্ন ফিরল বিষাদ হয়ে।
বুধবার (৬ আগস্ট) ভোরে বেগমগঞ্জের আলাইয়াপুর ইউনিয়নের জগদীশপুর এলাকায় চৌমুহনী–লক্ষ্মীপুর আঞ্চলিক মহাসড়কে দুর্ঘটনায় সাতজন নিহত হন।
নিহতরা হলেন– লক্ষ্মীপুর সদরের উত্তর জয়পুর ইউনিয়নের চৌপল্লী এলাকার কাশারি বাড়ির ওমানপ্রবাসী মো. বাহার উদ্দিনের স্ত্রী কবিতা আক্তার (২৪), মেয়ে মীম আক্তার (২), মা মুরশিদা বেগম (৫০), নানী ফয়জুন নেছা (৭০), ভাতিজি রেশমা আক্তার (৯), লামিয়া আক্তার (৮) এবং বড় ভাইয়ের স্ত্রী লাবনী আক্তার (২৫)।
দুর্ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ফাহিম বলেন, ভোর ৫টা ১৫ মিনিটের দিকে মাইক্রোবাসটি চালক খালের পানিতে নামিয়ে দেন। এরপর সে লাফ দিয়ে পালিয়ে যায়। ওমান প্রবাসী বাহার উদ্দিনসহ পাঁচজন গ্লাস ভেঙে বের হয়ে আসতে পারলেও বাকি সাতজন গাড়ির ভেতরে আটকা পড়ে। তারা প্রায় দুই ঘণ্টা গাড়ির মধ্যে পানির নিচে ছিল। আমরা ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি চাইলে জানানো হয়, এখানে ডুবুরি নেই। বেগমগঞ্জ ও মাইজদী থেকে দুটি ইউনিট এলেও হাইওয়ে পুলিশের রেকার দিয়ে গাড়িটি ওঠানোর পর মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়।
বাহার উদ্দিনের আত্মীয় মো. সুমন বলেন, স্বপ্ন বাড়ি এলেও তা এখন আমাদের কাছে বিষাদ হয়ে এসেছে। কীভাবে এ শোক সহ্য করব, কিছুই বুঝে উঠতে পারছি না। পুরো পরিবার নিস্তব্ধ। এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
চন্দ্রগঞ্জ হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোবারক হোসেন ভূঁইয়া বলেন, চালক ঘুমিয়ে পড়ায় গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খালে পড়ে যায়। চালকসহ গাড়িটিতে ১৩ জন ছিলেন। চালক পালিয়ে গেলেও গাড়িটি জব্দ করা হয়েছে। মরদেহগুলো উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, নোয়াখালীর সহকারী পরিচালক মো. ফরিদ আহমেদ বলেন, মাইজদী ও চৌমুহনী স্টেশন থেকে দুটি ইউনিট উদ্ধার কাজ চালিয়েছে। তারা ডুবুরি চেয়েছিল, কিন্তু আমাদের নিজস্ব ডুবুরি নেই। আমরা চাঁদপুর থেকে ডুবুরি দল আনলেও তার আগেই উদ্ধারকাজ শেষ হয়ে যায়।