× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

যাদের আত্মত্যাগে সিলেটে বেগবান হয় আন্দোলন

সিলেট অফিস

প্রকাশ : ০৬ আগস্ট ২০২৫ ১৩:৩৭ পিএম

আপডেট : ০৬ আগস্ট ২০২৫ ১৩:৪০ পিএম

আন্দোলনের একপর্যায়ে চৌহাট্টা পয়েন্টে বন্দুকের সামনে বুক চিতিয়ে দেয় ছাত্রজনতা। ফাইল ফটো

আন্দোলনের একপর্যায়ে চৌহাট্টা পয়েন্টে বন্দুকের সামনে বুক চিতিয়ে দেয় ছাত্রজনতা। ফাইল ফটো

জুলাই বিপ্লবের পূর্বে স্বৈরাচারী সরকারের ধারাবাহিক দমন-পীড়ন, খুন, গুম, হত্যাকাণ্ডে নির্মমতায় অনেকেই মনে করেছেন আওয়ামী লীগের পতন অসম্ভব। কিন্তু সকল অন্যায়ের সমাপ্তি ঘটে জুলাই অভ্যুত্থানের চূড়ান্ত পরিণতি ৫ আগস্টে শেখ হাসিনার পতনের মধ্য দিয়ে। আন্দোলনের শেষ পর্যায়ে এসে নগরীর চৌহাট্টা পয়েন্ট ঘিরেই পরিচালিত হয়েছিল জনতার প্রতিরোধ আর সংগ্রাম। এই চৌহাট্টা পয়েন্টকেই পরে শিক্ষার্থীরা নাম দেয় ‘বিজয় চত্বর’। এই বিজয় চত্বর সিলেটের রক্তাক্ত জুলাই অভ্যুত্থানের জীবন্ত সাক্ষী। 

গত বছরের ৫ আগস্ট সকালে সিলেটের পরিবেশ ছিল থমথমে। পুলিশ ছিল মারমুখী। ছাত্র-জনতা মিছিল নিয়ে রাস্তায় বেরোলেই পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড, কাঁদানে গ্যাসের শেল আর শটগানের গুলি ছুড়ছিল। সরকারদলীয় সংগঠনের নেতাকর্মীরাও ছিল আক্রমণাত্মক। সকল বাধা উপেক্ষা করে ইটপাটকেল আর লাঠিসোটা নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলে ছাত্র-জনতা। 

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ৩ জুলাই মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করে। ধীরে ধীরে সিলেটের অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাও আন্দোলনে সম্পৃক্ত হয়। শাবিপ্রবির শিক্ষার্থীরা ১৬ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়ক অবরোধ করে। ক্ষমতাসীনদের বন্দুকের নলের সামনে বুক উঁচিয়ে দাঁড়ায় আন্দোলনকারীরা।

চূড়ান্ত বিজয়ের আগে সারা দেশের মতো সিলেটও ছিল উত্তাল। যার প্রাণশক্তি ছিল ছাত্র-জনতা। আন্দোলনে তাদের ত্যাগ ইতিহাসে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, কোটা সংস্কার এবং পরবর্তী সরকার পতন আন্দোলনে ১৮ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত সিলেট বিভাগের তিন জেলায় মোট ৩৩ শহীদের নাম প্রকাশ করা হয়। এর মধ্যে সিলেট জেলায় ১৪ জন, হবিগঞ্জে ১৭ এবং সুনামগঞ্জে ৩ জন। 

সিলেট বিভাগে শহীদদের তালিকায় রয়েছেনÑ দিনাজপুর জেলা থেকে পড়তে আসা শাবিপ্রবির শিক্ষার্থী শহীদ রুদ্র সেন, সিলেট জেলার বিয়ানীবাজার উপজেলার নিদনপুর গ্রামের মো. তারেক আহমদ, নয়াগ্রামের ময়নুল ইসলাম, ফতেহপুর গ্রামের আবু তাহের মোহাম্মদ তুরাব, কাকুরা গ্রামের সোহেল আহমদ, গোলাপগঞ্জ উপজেলার নিশ্চিন্ত গ্রামের মো. নাজমুল ইসলাম, বারকোট গ্রামের মো. তাজউদ্দিন, শিলঘাট গ্রামের সানি আহমদ, উত্তর কানিশাইল গ্রামের মো. পাবেল আহমদ কামরুল, দক্ষিণ রায়গড় গ্রামের জয় আহমদ, পশ্চিম দত্তরাইল গ্রামের মিনহাজ আহমদ, ঘোষগাঁও উত্তরের গৌছ উদ্দিন, জালালাবাদ থানার গৌরীপুরের মো. মোস্তাক আহমদ, ইনাতাবাদ গ্রামের ওয়াসিম।

হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং উপজেলার ভাঙারপাড় গ্রামের হোসাইন মিয়া, জাতুকর্ণপাড়ার মো. আশরাফুল আলম, পাড়াগাঁওয়ের মো. মোজাক্কির মিয়া, উত্তর পূর্ব বানিয়াচংয়ের শেখ নয়ন হোসেন, মো. আনাস মিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব বানিয়াচংয়ের মো. তোফাজ্জল হোসেন, মীর মহল্লা পূর্বের মো. সাদিকুর রহমান, চানপুর গ্রামের মো. আকিনুর রহমান, সাগরদীঘির পূর্বপাড়ের সোহেল আখঞ্জী, নবীগঞ্জ উপজেলার রাজাবাদ গ্রামের আজমত আলী, মাধবপুর উপজেলার শিমুলঘরের শেখ মো. সফিকুল ইসলাম, লাখাই উপজেলার মুড়িয়াউক গ্রামের মামুন আহমেদ রাফসান, মো. নাহিদুল ইসলাম, কামালপুরের মোনায়েল আহমদ ইমরান, পশ্চিম রুহিতন্সী গ্রামের কারিমুল ইসলাম, হবিগঞ্জ উপজেলার অনন্তপুর আবাসিক এলাকার রিপন চন্দ্র শীল। সুনামগঞ্জ জেলার ধর্মপাশা উপজেলার জলুশাহ গ্রামের মো. আয়াতুল্লাহ, দুর্গাপুরের হৃদয় মিয়া, জামালগঞ্জ উপজেলার গোলামীপুর গ্রামের সোহাগ মিয়া।

১৮ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধাওয়া খেয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে খাল পার হতে গিয়ে পানিতে ডুবে সিলেটে প্রথম শহীদ হন শাবিপ্রবির শিক্ষার্থী রুদ্র সেন। গণঅভ্যুত্থানে ১৯ জুলাই ছিল সিলেটের ইতিহাসে এক ট্র্যাজিক দিন। ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে এদিন সিলেট নগরের বন্দরবাজারে গুলিতে আহত হন সাংবাদিক এটিএম তুরাব। ওইদিনই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। ৪ আগস্ট সিলেটের গোলাপগঞ্জে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশ ও ছাত্রলীগের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে ৬ জনের প্রাণহানি ঘটে। বিজয়ের দিনে ৫ আগস্ট ঝরে আরও রক্ত। এদিন সকালেই সিলেটের পরিবেশ থমথমে হয়ে ওঠে। পুলিশ ছিল মারমুখী। ছাত্র-জনতা মিছিল নিয়ে রাস্তায় বেরোতেই সাউন্ড গ্রেনেড, কাঁদানে গ্যাসের শেল আর শটগানের গুলি ছোড়ে পুলিশ। সরকারদলীয় সংগঠনের নেতাকর্মীরাও ছিল আক্রমণাত্মক। বাধার মুখেও ইটপাটকেল আর লাঠিসোটা নিয়ে তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তোলে ছাত্র-জনতা। 

দুপুর সাড়ে ১২টার পর থেকে চৌহাট্টায় ছাত্র-জনতা জড়ো হতে থাকে। এর মধ্যে শেখ হাসিনার ভারত চলে যাওয়ার খবর আসে। তখন সরে যেতে থাকে পুলিশ আর আওয়ামী লীগ দলীয় লোকৃজন। কিছুক্ষণ আগে রক্তাক্ত হয়ে হাসপাতালের বিছানায় ঠাঁই নেওয়া মানুষও ছুটে আসে বিজয় মিছিলে। ততক্ষণে অঝোরধারায় নামে শ্রাবণের বৃষ্টি। মানুষের আনন্দাশ্রু আর বৃষ্টির পানি একাকার হয়ে যায়। একসময় পুরো চৌহাট্টা লোকে-লোকারণ্য হয়ে যায়। যুবক, তরুণ, কিশোর সবার চোখে আনন্দ, মুখে বিজয়ের স্লোগান। অনেকের হাতে লাল-সবুজের জাতীয় পতাকা পতপত করে উড়ছে। কারও আবার কপালে বাঁধা পতাকা। সেই সঙ্গে এখনও চোখে চোখে তাকিয়ে মনে করিয়ে দিচ্ছে দেয়ালে দেয়ালে আঁকা শিক্ষার্থীদের গ্রাফিতি। গ্রাফিতি আর লেখায় দেয়ালগুলো হয়ে উঠেছিল আন্দোলনের প্রতীক ও অনুপ্রেরণা। মানুষের মনের কথাই যেন বলছে এসব দেয়াল।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা