গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি
আমতলী (বরগুনা) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৬ আগস্ট ২০২৫ ১৩:৩১ পিএম
নিহত মোঃ রেজাউল করিম। ছবি: সংগৃহীত
৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার পতন দিবস ও গণ-অভ্যুত্থানের বর্ষপূতির মিছিল থেকে ফেরার পথে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ গুলিশাখালী ইউনিয়ন শাখার সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক মোঃ রেজাউল করিম বাসচাপায় নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পটুয়াখালী-কুয়াকাটা মহাসড়কের ঘটখালী গ্যাস পাম্প সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে ।
এ ঘটনার প্রতিবাদে ইসলামী আন্দোলনের নেতাকর্মীরা মরদেহ নিয়ে সড়ক অবরোধ করে রাখেন। বাস আটকের খবর পেয়ে রাত নয়টার দিকে তারা অবরোধ প্রত্যাহার করে নেন।
জানা গেছে, ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার পতন দিবস ও গণ-অভ্যুত্থানের বর্ষপূতি উপলক্ষে মিছিল ও সমাবেশের আয়োজন করে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, আমতলী শাখার নেতাকর্মীরা। মঙ্গলবার বিকেলে ওই মিছিলে বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে কয়েক হাজার নেতাকর্মী অংশ নেন। সন্ধ্যার আগে ওই মিছিল ও সমাবেশ শেষ হয়।
মিছিল শেষে গুলিশাখালী ইউনিয়ন শাখার সাধারণ সম্পাদক আমতলী বন্দর হোসাইনিয়া কামিল মাদ্রাসার আইসিটি বিষয়ের প্রভাষক মাওলানা মোঃ রেজাউল করিম মোটরসাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন। পথিমধ্যে পটুয়াখালী-কুয়াকাটা মহাসড়কের ঘটখালী গ্যাস পাম্প সংলগ্ন স্থানে বিপরীত দিক থেকে আসা কুয়াকাটাগামী যাত্রীবাহী ছন্দা পরিবহনের বাস মোটরসাইকেলকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থালেই প্রভাষক রেজাউল করিম নিহত হন। তার সঙ্গে থাকা আব্দুল হক মল্লিক আহত হয়।
খবর পেয়ে ইসলামী আন্দোলনের নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে এসে সড়ক অবরোধ করে রাখেন। এতে মহাসড়কের একে স্কুল থেকে ডাক্তার বাড়ি স্ট্যান্ড পর্যন্ত পাঁচ কিলোমিটার তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। পুলিশ রাত পৌনে নয়টার দিকে ঘাতক বাস ও স্টাফদের আটক করে। আটকের খবর পেয়ে রাত নয়টার দিকে ইসলামী আন্দোলনকর্মীরা সড়ক অবরোধ প্রত্যাহার করে নেন।
আহত আব্দুল হক মল্লিক বলেন, বেপরোয়া গতিতে ছন্দা পরিবহনের বাসটি মোটর সাইকেলকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই রেজাউল করিম নিহত হন। তিনি আরো বলেন, আল্লাহ আমাকে রক্ষা করেছেন। আমি সামান্য আহত হয়েছি।
ইসলামী আন্দোলনের আমতলী উপজেলা শাখার সভাপতি মাওলানা ওমর ফারুক জেহাদী বলেন, ঘাতক বাসটি আটক ও স্টাফদের আটকের বিষয়ে নিশ্চিত হয়ে রাত নয়টার দিকে অরবোধ প্রত্যাহার করেছি। তিনি ঘাতক বাস চালকের কঠোর শাস্তি দাবি করেন।
আমতলী বন্দর হোসাইনিয়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মোহাম্মদ ইউনুচ হাওলাদার বলেন, সড়ক দুঘর্টনায় নিহত রেজাউল করিম আমার মাদ্রাসার তথ্য ও যোগাযোগ বিষয়ের প্রভাষক ছিলেন। এমন ঘটনার সঙ্গে জড়িত বাস চালকের শাস্তি দাবি করছি।
আমতলী থানার ওসি দেওয়ান জগলুল হাসান বলেন, ঘাতক বাস ও স্টাফদের মহিপুর থানায় আটক করা হয়েছে। তাদের আটকের খবর শুনে সড়ক থেকে অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়।
তিনি আরও বলেন, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।