মধ্যনগর (সুনামগঞ্জ) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৬ আগস্ট ২০২৫ ১২:৪২ পিএম
মধ্যনগর উপজেলা প্রশাসনের অস্থায়ী কার্যালয়। প্রবা ফটো
সুনামগঞ্জের মধ্যনগরকে উপজেলা ঘোষণার চার বছর পূর্ণ হলেও এখনও নির্মিত হয়নি প্রশাসনিক ভবন। নেই প্রয়োজনীয় জনবল, নেই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কিংবা পর্যাপ্ত সেবাকেন্দ্র। ফলে কাগজে-কলমে ‘উপজেলা’ হলেও বাস্তবে কোনো কার্যকর সেবা পাচ্ছেন না এখানকার দেড় লাখ বাসিন্দা।
২০২১ সালের ২৬ জুলাই নিকার সভায় মধ্যনগরকে থানা থেকে উপজেলায় উন্নীত করা হয়। ২০২২ সালের ২৪ জুলাই শুরু হয় প্রশাসনিক কার্যক্রম। কিন্তু এরপরও গড়ে ওঠেনি স্থায়ী অবকাঠামো, আর ২৩টি দপ্তরে ২১২টি পদের বিপরীতে কর্মরত মাত্র ৯ জন।
এরমধ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) উপ-সহকারী প্রকৌশলী, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও), প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মোট ৪ জন কর্মকর্তা বাকি ৫ জন ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারী। ফলে শূণ্য রয়েছে ২০৩ পদ।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলা প্রশাসনের অস্থায়ী কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের একটি ভবনের দ্বিতীয়তলা। অধিকাংশ সরকারি দপ্তরের কার্যক্রম এখনও পাশের ধর্মপাশা উপজেলা থেকেই পরিচালিত হচ্ছে।
স্বাস্থ্যসেবা পরিস্থিতিও বেহাল। এখনও প্রতিষ্ঠিত হয়নি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। নেই একজনও এমবিবিএস চিকিৎসক। বিদ্যমান মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতেও নেই প্রয়োজনীয় জনবল।
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করে বলেন, ‘মধ্যনগর নামেই উপজেলা, কিন্তু বাস্তবে আমরা এখনো ইউনিয়নের মতোই বঞ্চিত। উন্নয়ন বলতে কিছুই হয়নি।’
মধ্যনগর উপজেলা উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ নাজমুল হোসাইন বলেন, ‘আমাদের প্রত্যাশা একটি আধুনিক, মডেল উপজেলা হবে মধ্যনগর। কর্তৃপক্ষের কাছে এটাই আমাদের দাবি।’
মধ্যনগরের সন্তান জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন বলেন, ‘উপজেলা ঘোষণা হওয়ার এতো বছর পরেও কোনো কার্যক্রম পুরোপুরি না হওয়া দুঃখজনকই তবে আমরা আশাবাদী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিয়ে কাজ করছেন।’
মধ্যনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উজ্জল রায় বলেন, ‘উপজেলার যাবতীয় কাজ শুরুর জন্য যা করার দরকার আমরা করছি। প্রশাসনিক ভবন ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জন্য ১৬ একর জমির প্রস্তাব পাঠিয়েছি। আশা করি, যথারীতি প্রশাসনিক ভবনসহ সব কাজই ধারাবাহিকভাবে শুরু হবে।’
সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া জানান, উপজেলা কমপ্লেক্স নির্মাণ প্রকল্প একনেকে পাস হয়েছে। তিনি বলেন, ‘কার্যক্রম দ্রুত শুরু করতে ইউএনওর সঙ্গে বসছি। প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্টদের কাছে চিঠি ও ফোন করব। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জন্য নতুন করে ১০ একর জায়গার প্রস্তাব পাঠানো হবে।’