ফরিদপুর প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৫ আগস্ট ২০২৫ ১৭:১৮ পিএম
আপডেট : ০৫ আগস্ট ২০২৫ ১৭:২৯ পিএম
ফরিদপুরের মধুমতি নদীর তীর সংরক্ষণ বাঁধের নির্শাণ কাজ শেষ হওয়ার আগেই ধসে পড়েছে কিছু অংশ। প্রবা ফটো
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার আগেই মধুমতি নদীর ডান তীর রক্ষা বাঁধের একটি অংশ ধসে পড়েছে। এতে আশপাশের শতাধিক পরিবার নদীভাঙনের আশঙ্কায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে।
মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) সকালে গোপালপুর ও টগরবন্দ ইউনিয়নের মিলনস্থল চর আজমপুর এলাকায় প্রায় ৩০০ মিটার দীর্ঘ বাঁধের মধ্যে ৩০ মিটার অংশ ধসে পড়তে দেখা যায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অনিয়ম ও দুর্বল তদারকির কারণেই এই ধসের ঘটনা ঘটেছে। পর্যাপ্ত ডাম্পিং না করেই সিসি ব্লক বসানো হয়েছিল, যার ফলে টানা বৃষ্টির পানির চাপে বাঁধ ভেঙে পড়ে।
তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে, প্রকল্পের কাজ চলমান থাকায় কাজের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে তারা এখনো কাজ বুঝে পাননি। কাজে অনিয়ম হলে তার দায়ভার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের।
জানা গেছে, ২০২৩ সালের ৬ জুন একনেকে অনুমোদিত ‘মধুমতি নদী ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়ন’ প্রকল্পের আওতায় ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা, বোয়ালমারী ও মধুখালী এলাকায় ৪৮১ কোটি ১০ লাখ টাকার কাজ বাস্তবায়ন করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। এরই অংশ হিসেবে চর আজমপুরে ২ নম্বর প্যাকেজের আওতায় ৩০০ মিটার বাঁধ নির্মাণ করছে মেসার্স লিটন মল্লিক নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
স্থানীয় বাসিন্দা হান্নান শরীফ বলেন, নদীভাঙন ঠেকাতে বাঁধ নির্মাণে আমরা স্বস্তি পেয়েছিলাম। কিন্তু কাজ শেষ না হতেই বৃষ্টিতে বাঁধ ভেঙে গেছে। দ্রুত মেরামত না হলে অর্ধশতাধিক বাড়ি ঝুঁকিতে পড়বে।
মেসার্স লিটন মল্লিক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার জিয়াউর রহমান বলেন, অতিরিক্ত পানি ও চাপে বাঁধের একটি অংশ ধসে গেছে। জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলার কাজ শুরু হবে, পরে স্থায়ীভাবে মেরামত করা হবে।
ফরিদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিব হোসেন বলেন, ধসের খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। কাজ চলমান থাকায় ঠিকাদারই দায়ী। ধসে যাওয়া অংশ দ্রুত মেরামতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোনো অনিয়ম হলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।