মধ্যনগর (সুনামগঞ্জ) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৫ আগস্ট ২০২৫ ১৫:০৭ পিএম
চায়নাদুয়ারী জাল। প্রবা ফটো
বৈদ্যুতিক শক ও চায়নাদুয়ারী জালে দেশীয় মাছ নিধন চলছে সুনামগঞ্জের মধ্যনগরে অবস্থিত আন্তর্জাতিক রামসার সাইট টাঙ্গুয়ার হাওরে।
জানা যায়, বৈদ্যুতিক শক ও নিষিদ্ধ চায়নাদুয়ারী জালের ব্যবহারে দেশীয় মাছের উৎপাদন কমে গেছে, মারা যাচ্ছে শামুক-ঝিনুক, ব্যাঙ, সাপসহ জলজপ্রাণি, ধ্বংস হচ্ছে জীববৈচিত্র্যও।
হাওরপাড়ের হাতপাটন গ্রামের মৎস্যজীবী শংকর বর্মন বলেন, ‘দুই বছর ধরে হাওরে বৈদ্যুতিক যন্ত্র দিয়ে মাছ ধরা হচ্ছে। শুধু মাছ না, পানির নিচের সব প্রাণী মারা যাচ্ছে। আমাদের জালে এখন আর আগের মতো মাছ ওঠে না। অনেকেই পেশা ছেড়ে কৃষিকাজ বা শহরে চলে যাচ্ছে।’
জানা গেছে, হাওরাঞ্চলে শতাধিক ব্যক্তি বৈদ্যুতিক শক দিয়ে মাছ শিকারে জড়িত। নদী ও খালে বড় ব্যাটারিতে সংযুক্ত ইনভার্টার ও বিদ্যুতায়িত জাল ব্যবহার করে একসঙ্গে ২০-৪০ ফুট ব্যাসার্ধের সব জলজপ্রাণি মেরে ফেলা হচ্ছে। রাতে গোপনে এসব কাজ চলছে। ছোট ব্যাটারিতেও ৫-৭ ফুট এলাকা নিশ্চিহ্ন হয়ে যাচ্ছে।
চায়নাদুয়ারী জালেও ধরা পড়ছে মাছের পোনা, ডিম, শামুক-ঝিনুক ও জলজ উদ্ভিদ। ফলে শুধু মাছ নয়, হাওরের স্বাভাবিক প্রজনন চক্রও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
সরেজমিন উপজেলার টাঙ্গুয়ার হাওর, শালদিঘা, ঘাসী নদী, রূপেশ্বর, সোমেশ্বরী নদী, বোয়ালার হাওরসহ বহু হাওর ও খালে চায়নাদুয়ারী জালে অবৈধ পদ্ধতিতে মাছ শিকারের দৃশ্য দেখা যায়।
প্রবীণ জেলে জয়চরণ বিশ্বাস বলেন, ‘চায়নাদুয়ারী জাল আর বৈদ্যুতিক শকে পোনা ও ডিম শেষ হয়ে গেছে। আমরা সাধারণ জালে দিনে ৩০০ টাকার মাছও পাই না। এভাবে চলতে থাকলে হাওরে আর কোনো মাছ থাকবে না।’
প্রশাসন মাঝে মাঝে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে চায়নাদুয়ারী জাল জব্দ করে ধ্বংস করলেও বৈদ্যুতিক শকে মাছ ধরার মূলচক্র এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে।
মধ্যনগর উপজেলার অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা ধর্মপাশার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মাহমুদুর রহমান বলেন, ‘রাতে গোপনে এসব কাজ করায় ধরা যাচ্ছে না। তবে শনাক্ত করতে তৎপরতা চলছে।’
মধ্যনগরের ইউএনও উজ্জ্বল রায় বলেন, ‘অবৈধ উপকরণ জব্দে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। বৈদ্যুতিক শকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
স্থানীয়রা বলছেন, টাঙ্গুয়ার হাওরের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় অবিলম্বে বৈদ্যুতিক শক ও চায়নাদুয়ারী জালের ব্যবহার সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ করে কঠোর আইন প্রয়োগ না করলে অচিরেই এই জাতীয় সম্পদ বিলুপ্তি হয়ে যাবে।