সাজ্জাত লতিফ, সখীপুর (টাঙ্গাইল)
প্রকাশ : ০৫ আগস্ট ২০২৫ ০৯:০১ এএম
আপডেট : ০৫ আগস্ট ২০২৫ ০৯:৩৫ এএম
টাঙ্গাইলের সখীপুর কচুয়া বাজারের বেদখল হওয়া যাত্রছাউনি। প্রবা ফটো
টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার বিভিন্ন বাজারে যাত্রীদের জন্য তৈরি করা ছাউনিগুলো ব্যবসায়ীদের দখলে চলে গেছে। এগুলোকে মোবাইল সার্ভিসিং, চায়ের দোকান, ফল এবং ওষুধের দোকান বানিয়ে চালানো হচ্ছে। যারা ছাউনিগুলো দখল করেছেন, তারা এগুলো বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে ভাড়া দিয়েছেন। ব্যবসায়ীদের অনেকে ছাউনি দখলবাজদের মোটা অঙ্কের জামানতও দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
ছাউনিগুলো তৈরির উদ্দেশ্য ছিল, যাত্রীরা যাতে রোদ, বৃষ্টি বা ঝড়ের সময় এতে আশ্রয় নিতে পারেন। বিষয়টি উল্টো দাঁড়িয়েছে। ছাউনি থাকলেও যাত্রীরা ছাউনির নিচে বসার সুযোগ পাচ্ছেন না। বেদখল হয়ে যাওয়ার কারণে যাত্রীরা ছাউনির সামনে সড়কে দাঁড়িয়ে গাড়ির অপেক্ষা করেন। ঝড়-বৃষ্টি এলেও ছাউনির নিচে দাঁড়ানোর সুযোগ পান না।
এই অবস্থা দেখা যায় উপজেলার বড়চওনা, বেলতলী, কচুয়া, কুতুবপুর বাজার এবং পৌর শহরের কেন্দ্রীয় যাত্রীছাউনিতে। কোথাও পুরো ছাউনিতেই ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠান খুলে বসা হয়েছে। কোথাও যাত্রী বসার জায়গাটুকুও দোকানে রূপান্তরিত হয়েছে।
বড়চওনা বাজারের ছাউনিটি তিন কক্ষবিশিষ্ট। এর মাঝের কক্ষ যাত্রী বসার জন্য নির্ধারিত থাকলেও এখন সেখানে চলছে চা-পানের দোকান। পাশের এক কক্ষে মোবাইল সার্ভিসিং ব্যবসা এবং অন্যকক্ষে ফলের দোকান। মোবাইল সার্ভিসিং দোকান থেকে ২ লাখ ৭৫ হাজার এবং ফলের দোকান থেকে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা জামানত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। দুটি দোকান থেকেই মাসে তিন হাজার টাকা করে ভাড়া নেওয়া হয়। যাত্রী বসার নির্ধারিত কক্ষেও এখন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলে বসা হয়েছে। নিয়ন্ত্রণ করছে হাট-বাজার ইজারা কমিটি।
কচুয়া যাত্রীছাউনিতে ওষুধের দোকান করেন জহিরুল ইসলাম তালুকদার। তিনি জামানত দিয়েছেন ৩ লাখ টাকা। আর প্রতি মাসে ভাড়া দেন সাড়ে তিন হাজার টাকা।
যাত্রীছাউনি এভাবে দখলের ফলে নারী, শিশু ও বৃদ্ধসহ যাত্রীদের সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে যানবাহনের জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে। কেউ কেউ ছায়া বা টিনের নিচে একটু জায়গা পেলে নিজেকে ভাগ্যবান ভাবছেন।
২০১৩-১৪ অর্থবছরে জেলা পরিষদের অর্থায়নে সখীপুর-ঢাকা সড়কে পাঁচটি যাত্রীছাউনি নির্মাণ করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে এগুলো নির্মাণ করা হয়েছিল। ফলে ৫-৬ বছরের মধ্যেই ছাদ চুইয়ে পানি পড়া শুরু করে। এখন বেশিরভাগ ছাউনির অবস্থাই জরাজীর্ণ।
বেলতলী বাজারের ছাউনিটি কেউ লিজ নেয়নি। স্থানীয় হযরত আলী নামে এক ব্যক্তি একটি কক্ষে মুদির দোকান চালান এবং অন্য কক্ষে যাত্রীদের বসার ব্যবস্থা রেখেছেন। কুতুবপুর বাজারের ছাউনিতে দোকান কক্ষ সচল থাকলেও যাত্রী বসার কক্ষটি পুরোপুরি অকার্যকর হয়ে পড়েছে। কচুয়া বাজারে একটি কক্ষে ওষুধের দোকান চলছে জামানত ও মাসিক ভাড়ার ভিত্তিতে। অন্য কক্ষটি আংশিক যাত্রীসেবায় ব্যবহৃত হচ্ছে।
সখীপুর পৌর শহরের থানার পাশে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ একটি ছাউনির অবস্থাও খুবই করুণ। দুই কক্ষের একটিতে চায়ের দোকান, অন্যটিতে বাসের টিকিট কাউন্টার চালু রয়েছে। ছাউনিটির চারপাশে ছড়ানো ময়লা-আবর্জনা, ডাস্টবিন ও দুর্গন্ধময় পরিবেশে যাত্রীরা দাঁড়াতেও পারেন না।
কলেজছাত্রী শিলা আক্তার বলেন, ‘রোদ হোক বা বৃষ্টি। দাঁড়াতে হয় সড়কে। ছাউনিতে বসা তো দূরের কথা, দাঁড়ানোর জায়গাও নেই। এটা কি সত্যিই আমাদের জন্য বানানো?’
মোবাইল সার্ভিসিং ব্যবসায়ী সজীব হোসেন বলেন, ‘আমি তিন হাজার টাকা মাসিক ভাড়ায় দোকান নিয়েছি। জামানতও দিয়েছি।’ বড়চওনা ছাউনির লিজগ্রহীতা এবং স্থানীয় আল আমিন বলেন, ‘সব কিছু নিয়ম মেনেই চলছে।’ তবে তিনি জামানত ও ভাড়া গ্রহণের বিষয়টি স্বীকার করেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সখীপুর উপজেলা ইউএনও আবদুল্লাহ আল রনী বলেন, ‘যাত্রীছাউনিগুলো জেলা পরিষদের নিয়ন্ত্রণাধীন। তবে জনদুর্ভোগের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
জেলা পরিষদ সচিব শামসুন্নাহার স্বপ্না বলেন, ‘জেলা পরিষদ ও সড়ক ও জনপদ বিভাগ যৌথভাবে আলোচনার মাধ্যমে যাত্রীছাউনিগুলোর সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে কিছু ছাউনির লিজ দেওয়া হয়েছিল। সেগুলোর মেয়াদ সম্ভবত শেষ হয়েছে। তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’