বগুড়া ব্যুরো
প্রকাশ : ১১ ডিসেম্বর ২০২২ ১৬:১৩ পিএম
উদ্ধার হওয়া শকুন। ছবি: প্রবা
বগুড়ার নন্দীগ্রামে হিমালয়ী গৃধিনী প্রজাতির একটি শকুন উদ্ধার করা হয়েছে। বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজের শিক্ষার্থীদের পরিবেশবাদী সংগঠন টিম ফর এনার্জি এন্ড এনভায়রনমেন্টাল রিসার্চ - তীর শনিবার (১০ ডিসেম্বর) রাতে ফসলের মাঠ থেকে শকুনটি উদ্ধার করে।
সংগঠনের সভাপতি রিফাত হাসান প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, নন্দীগ্রামের অদূরে বড়ইহাট ইউনিয়নে মুরাদপুর গ্রামে ফসলের জমিতে হঠাৎ একটি বড় আকৃতির পাখি নামতে দেখে গ্রামবাসী। কৌতুহলবশত গ্রামের তরুণরা এটিকে আটক করে। গ্রামের প্রবীণরা এটিকে শকুন হিসেবে জানালে অনেকেই কুসংস্কারের বলে মেরেও ফেলতে চায় কিন্তু স্থানীয় কিছু সচেতন যুবক বিষয়টি সরকারি হেল্পলাইনে অবগত করলে ‘আইইউসিএন’ ও ‘বন বিভাগ’ এর পরামর্শে শিক্ষার্থীদের পরিবেশবাদী সংগঠন ‘টিম ফর এনার্জি এন্ড এনভায়রনমেন্টাল রিসার্চ- তীর’ সরকারি আজিজুল হক কলেজের একটি দল এটিকে উদ্ধার করে।
সরকারি আজিজুল হক কলেজেরর প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. এস এম. ইকবাল প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, এটি “Himalayan griffon vulture” বা ‘হিমালীয়ান গৃধিনী’ শকুন জাতের পাখি। শকুন হচ্ছে প্রকৃতির ঝাড়ুদার। শকুনই একমাত্র প্রাণী যারা রোগাক্রান্ত মৃত প্রাণী খেয়ে হজম করতে পারে এবং অ্যানথ্রাক্স, যক্ষা, খুরারোগের সংক্রমণ থেকে জীবকূলকে রক্ষা করে।
তীরের সভাপতি রিফাত হাসান বলেন, ‘হিমালয়ের পাদদেশ থেকে বছরের এই সময়ে এ দেশে বহু এই শকুন আসে। পথেই ক্লান্ত ও খাদ্যাভাবে দূর্বল হয়ে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন স্থানে পড়ে। এ সময় এদের উদ্ধার ও বিশেষ পরিচর্যার প্রয়োজন হয়। প্রতি বছরেই তীরের সদস্যরা উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন স্থানে শকুন উদ্ধারের কাজে বন বিভাগকে সহায়তা করে। এ বছরে ইত্যেমধ্যে তিনটি শকুন উদ্ধার করা হয়েছে।’
বাংলাদেশের শকুন নিয়ে কাজ করা আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘আই.ইউ.সি.এন- বাংলাদেশ’ এর তথ্যানুযায়ী, বাংলাদেশে সর্বশেষ ২০১৪ সালের শকুন নিয়ে শুমারির তথ্য মতে দেশে মোটে ২৬০টি শকুন রয়েছে। তবে বন বিভাগের সাথে ‘আই.ইউ.সি.এন-বাংলাদেশ’ এর যৌথ প্রচেষ্টায় প্রকৃতির এই ঝাড়ুদারকে স্বরূপে সরব উপস্থিতিতে ফিরিয়ে আনার বিজ্ঞান সম্মত কার্যক্রম চলমান।