ফরিদপুর
ফরিদপুর প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৪ আগস্ট ২০২৫ ১৭:২৮ পিএম
ফরিদপুর সদরের ঈশান গোপালপুর ইউনিয়নের ৪ ও ৫ নম্বর ওয়ার্ডের প্রায় তিন হাজার কৃষক মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধতায় তারা মাঠে কোনো ফসল ফলাতে পারছেন না। এ ছাড়া যারা অল্প-বিস্তর ফসল ও সবজি চাষ করেছিলেন, তারাও মারাত্মক ক্ষতির মুখে।
কয়েকদিনের ভারী বর্ষণে তলিয়ে গেছে প্রায় ২০০ একর ফসলি জমি। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, স্থানীয় প্রভাবশালী এক মহল সরকারি জায়গা ভরাট করে খালের প্রবেশমুখ বন্ধ করায় এমন অবস্থার সৃষ্টি। শুধু খালের পানিপ্রবাহের প্রবেশমুখই নয়, রেল ব্রিজ ও মহাসড়কের একটি ব্রিজের নিচে মাটি ফেলে ভরাট করায় পানি চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।
এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী কৃষকরা উপজেলা প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দিলেও কোনো প্রতিকার পাননি। এদিকে জলাবদ্ধতামুক্ত করতে খাল পুনরুদ্ধার ও কৃষকদের ক্ষতিপূরণের দাবিতে মানববন্ধন পালন করেছে বাংলাদেশ কৃষক সমিতি।
রবিবার (৩ আগস্ট) দুপুরে প্রেস ক্লাবের সামনে এ মানববন্ধন পালন করা হয়। পরে তারা জেলা প্রশাসক ও ইউএনওর কাছে স্মারকলিপি দেন।
ভুক্তভোগী কৃষকদের অভিযোগ, ঈশান গোপালপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চাঁদপুর বারোখাদা, রসুলপুর, রুদ্রপাড়া এবং ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বেশকিছু এলাকার প্রায় ২ হাজার একর ফসলি জমি দীর্ঘদিন ধরে তলিয়ে রয়েছে। এসব জমিতে ফসল ফলিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন প্রায় তিন হাজার কৃষক। জমিগুলোয় ধান, পাট, তিল, মরিচসহ বিভিন্ন সবজির আবাদ করা হতো।
দেখা গেছে, ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের শিবরামপুর এলাকায় আরএম জুটমিলের মালিক সড়ক বিভাগের অধীনে থাকা বড় একটি জায়গা দখল করে সেটি ভরাট করে ফেলেছেন। এতে ওই জমিসহ আশপাশের এলাকার পানি চলাচল একেবারেই বন্ধ হয়ে যায়। এমনকি মহাসড়কের একটি ব্রিজের মুখও ভরাট করে ফেলা হয়েছে। এ ব্রিজের নিচ দিয়ে বিভিন্ন স্থানের পানি ভুবনেশ্বর নদ হয়ে কুমার নদে গিয়ে পড়ত। এটি বন্ধ হওয়ায় সামান্য বৃষ্টি হলেই তলিয়ে যায় ফসলি জমি। পশ্চিম চাঁদপুর গ্রামের কৃষক বক্কার শেখ, সেলিম শেখ, মানু কাজী বলেন সামান্য বৃষ্টিতেই তাদের জমিগুলো তলিয়ে যায়। ফলে তারা মাঠে কোনো ফসল ফলাতে পারেন না। দীর্ঘদিন ধরে এমন অবস্থা চললেও তারা কোনো প্রতিকার পাচ্ছেন না।
কাকলী বেগম নামের এক কৃষানী বলেন, ‘আমি কয়েক বিঘা জমিতে পুঁইশাক ও মরিচ লাগিয়েছিলাম, পানিতে সব ডুবে গেছে। এখন কীভাবে সংসার চালাব। ক্ষতিপূরণ চাই।’ স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, প্রভাবশালী মহলটি দীর্ঘদিন ধরে সরকারি খাল ভরাট করায় পানি বেরোনোর কোনো জায়গা নেই। ফসল ফলাতে না পেরে এ এলাকার প্রায় তিন হাজার কৃষক বর্তমানে পরিবার-পরিজন নিয়ে কষ্টে দিন পার করছেন।
কৃষকেরা জানান, কয়েকদিন আগে তারা এ বিষয়ে সবাইকে নিয়ে একটি সভা করেছেন। বিষয়টির আশু সুরাহা না হলে তারা মহাসড়ক অবরোধসহ বিভিন্ন কর্মসূচি দেবেন। তারা বলেন, রবিবার জেলা প্রশাসক ও ইউএনওকে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে।
৪ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার কবির খান বাচ্চু বলেন আরএম জুটমিলের মালিক সরকারি খাল ভরাট করায় তিন হাজার কৃষক মরতে বসেছেন। বিষয়টি নিয়ে আমরা বিভিন্ন জায়গায় দরখাস্ত দিলেও কোনো প্রতিকার পাচ্ছি না। আমরা চাই এ বিষয়ে জেলা প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নেবেন।
আরএম জুটমিলের মালিক শাহিন শাহাবুদ্দিন মামুনের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।
ফরিদপুর সদরের ইউএনও ইশরাত জাহান বলেন, বিষয়টি নিয়ে একটি আবেদন পেয়েছি। দ্রুত সমাধান যাতে করা যায়, সেই চেষ্টা করা হবে।