রামগতি-কমলনগর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৪ আগস্ট ২০২৫ ১৬:০৫ পিএম
প্রতীকী ছবি
লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ডিলার নিয়োগে অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা ও রাজনৈতিক পক্ষপাতের অভিযোগ উঠেছে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্রে ঘাটতি থাকা সত্ত্বেও কয়েকজনকে রাজনৈতিক বিবেচনায় বৈধ ঘোষণা করে, লটারির নামে ‘আইওয়াশ’ করে তাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন একাধিক আবেদনকারী।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, এই অনিয়মে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও ডিলার নিয়োগ কমিটির সভাপতি সৈয়দ আমজাদ হোসেন সরাসরি জড়িত। বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও অনেক আবেদনকারী বাদ পড়েছেন, অথচ যাদের আবেদনপত্রে অসংগতি ছিল, তাদেরই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় আটটি ইউনিয়নে ৩৯টি পয়েন্টে ডিলার নিয়োগের জন্য আবেদন আহ্বান করে। মার্চের শেষ দিন পর্যন্ত আবেদন জমা নেওয়া হয়। হাইকোর্টে একটি মামলার কারণে প্রক্রিয়া কিছুদিন স্থগিত থাকলেও, ২৯ জুলাই লটারির দিন নির্ধারিত হয়।
এতে আটটি ইউনিয়ন থেকে মোট ১৬৯টি আবেদন জমা পড়ে। উপজেলা খাদ্য অফিস ৫৫টি আবেদন বাতিল করে। অবশিষ্ট ১১৪ জন আবেদনকারী লটারির দিন উপজেলা পরিষদে উপস্থিত হন। উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ডা. জামাল উদ্দিন ও উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা আব্দুর রহিম এর উপস্থিতিতে ইউএনও সৈয়দ আমজাদ হোসেনের সভাপতিত্বে লটারির মাধ্যমে ৩৯ জনকে চূড়ান্ত ডিলার হিসেবে নির্বাচিত করা হয়।
তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে, আবেদনকারীদের অনেকেই ৫০ টাকার স্ট্যাম্পে অঙ্গীকারনামা দিয়েছেন, চাল সংরক্ষণের জন্য গোডাউন নেই, ভাঙা চায়ের দোকান গোডাউন হিসেবে দেখানো হয়েছে, আবার অনেক আবেদনপত্রে আবেদনকারীর স্বাক্ষরই নেই। তা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তারা এসব ত্রুটিপূর্ণ আবেদনকারীদের অনৈতিক সুবিধার বিনিময়ে বৈধ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছেন এমন অভিযোগ উঠেছে।
আবদুল করিম, হান্নান হাওলাদার ও গোলাম কিবরিয়া নামে তিনজন ডিলার প্রত্যাশী ইউএনও বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
তাদের দাবি, চর আলগী ইউনিয়নের সিরাজ চেয়ারম্যানের বাড়ির দরজার কেন্দ্রের জন্য তারা ডিলারশিপের আবেদন করেছিলেন। তদন্তে তাদের প্রার্থিতা উপযুক্ত থাকলেও, মানজুর হোসেন নামের একজনকে চূড়ান্ত করা হয়—যার আবেদন অসম্পূর্ণ এবং ত্রুটিপূর্ণ ছিল। তাদের দাবি, লটারির পূর্বে তাকে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া অনৈতিক ও রহস্যজনক।
প্রাথমিকভাবে ১১৪টি আবেদন যাচাই-বাছাই করে তিনজন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইউএনওর কাছে ৪৮ পৃষ্ঠার একটি প্রতিবেদন জমা দেন। এর মধ্যে উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মুহাম্মদ ফারুক হোসেন কর্তৃক জমা দেওয়া প্রতিবেদনের একটি পাতায় (১৭ থেকে ২৪ নম্বর ক্রমিকে) দেখা যায়, মাত্র আটজনের মধ্যে চারজনের আবেদনই অযোগ্য হিসেবে চিহ্নিত। তবুও ওই চারজনকেই লটারিতে অংশগ্রহণের সুযোগ দিয়ে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মাহফুজুর রহমান বলেন, কে কত টাকার স্ট্যাম্পে ঘর ভাড়ার চুক্তিনামা করেছে, সেটা আমরা আমলে নেইনি। কার সই আছে, কী নেই—এগুলো দেখার দায়িত্ব কমিটির। আমি শুধু কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সই করেছি।
ইউএনও সৈয়দ আমজাদ হোসেন দাবি করেন, লটারির মাধ্যমেই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, কোনো ধরনের অনিয়ম হয়নি। অনিয়ম নিয়ে জানতে চাইলে খাদ্য নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা এর সঠিক ব্যাখা দিতে পারবেন।