× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

৪ বছর ধরে ঝুলছে নির্মাণকাজ

শফিক সরকার ও আলী আশরাফ, ময়মনসিংহ

প্রকাশ : ০৪ আগস্ট ২০২৫ ১৩:৫১ পিএম

আপডেট : ০৪ আগস্ট ২০২৫ ১৫:৫৫ পিএম

প্রবা ফটো

প্রবা ফটো

চার বছর ধরে রাঙামাটিয়া সেতুর কাজ অর্ধেক শেষ করে ফেলে রাখা হয়েছে। ফলে রডে মরিচা ধরেছে। ইট-সিমেন্ট যেভাবে ছিল, তেমনই পড়ে আছে। মানুষের চলাচলে ভীষণ কষ্ট হচ্ছে।

ঠিকাদারকে বারবার তাগিদ দিয়েও কাজ শেষ করাতে পারছে না স্থানীয় উপজেলা প্রকৌশল বিভাগ। বছরের পর বছর অপেক্ষার পরও সেতুর নির্মাণকাজ সম্পন্ন না হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। প্রকৌশল বিভাগ এখন পর্যন্ত নতুন করে কাউকে দিয়ে কাজ শুরুর কোনো নির্দেশনাও পায়নি।

ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার আখিলা নদীর রাঙামাটিয়া খালের ওপর নির্মাণাধীন একটি সেতুতে দেখা গেছে এমন চিত্র। সেতুর কাজ শেষ না হওয়ায় এলাকাবাসী পড়েছেন চরম দুর্ভোগে। তারা দ্রুত সেতুর কাজ শেষ করার দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের অর্থায়নে ২০২০ সালের ডিসেম্বর মাসে ৩ কোটি ৪২ লাখ টাকা ব্যয়ে ৬০ মিটার দৈর্ঘ্যের একটি আরসিসি গার্ডার সেতু নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদন দেয় মন্ত্রণালয়। নির্মাণকাজের দায়িত্ব দেওয়া হয় ঢাকার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স ইসলাম ব্রাদার্সকে। চুক্তি অনুযায়ী ২০২১ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা ছিল।

কিন্তু প্রায় ৫৫ শতাংশ কাজ করার পর হঠাৎ কাজ বন্ধ করে দেয় প্রতিষ্ঠানটি। এরপর থেকে আর কোনো অগ্রগতি হয়নি। ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানটির মালিক কাজ ফেলে উধাও হয়ে যান। এরপর থেকে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর ৮ বার সময় বাড়ালেও কাজ আর শুরু হয়নি। এমনকি ঠিকাদারের কোনো খোঁজও পায়নি প্রকৌশল বিভাগ।

সর্বশেষ এ বছরের গত ৭ জুলাই উপজেলা প্রকৌশলী স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে চুক্তি বাতিলের সুপারিশপত্র পাঠান। তবে এখনও মন্ত্রণালয় থেকে নতুন কোনো নির্দেশনা পাওয়া যায়নি।

এদিকে দীর্ঘদিন ধরে সেতুর নির্মাণকাজ বন্ধ থাকায় সেতুর রডে মরিচা ধরেছে, সেন্টারিংয়ে পচন ধরেছে। স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন, যেকোনো সময় সেতুটি ধসে পড়তে পারে। অথচ ইতোমধ্যে সরকারি কোষাগার থেকে একাধিক বিল উত্তোলন করে নিয়েছে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানটি। এখন সেই টাকার হিসাব নিয়েও শুরু হয়েছে নানা আলোচনা।

ফুলবাড়িয়া উপজেলার পলাশতলী, রাধাকানাই, গোবিন্দপুর, ধুরধুরিয়া ও ছলিমপুরসহ অসংখ্য গ্রামের মানুষ এই সেতুর ওপর নির্ভরশীল। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়সহ এলাকার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাও এই সড়ক ব্যবহার করেন। অথচ গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের সেতুটি অসমাপ্ত অবস্থায় পড়ে আছে। সেতুর পাশে অস্থায়ীভাবে একটি কাঠের সাঁকো নির্মাণ করা হয়েছে। কিন্তু সেই সাঁকো দিয়ে চলাচলের সময় অনেকেই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন।

রাঙামাটিয়া গ্রামের বাসিন্দা আবুল হোসেন বলেন, ‘এই সেতুটি হলে ফুলবাড়িয়া ও ত্রিশাল উপজেলার মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন সম্ভব হতো। হঠাৎ করে কাজ বন্ধ হওয়ায় সবাই হতবাক। আমাদের দাবি, দ্রুত নতুন ঠিকাদার নিয়োগ দিয়ে সেতুর কাজ শেষ করা হোক।’

স্থানীয় আরেক বাসিন্দা আবু তাহের বলেন, ‘রডে মরিচা ধরেছে, সেন্টারিং দুর্বল হয়ে গেছে। যেকোনো সময় এটি খালে ধসে পড়তে পারে। আমরা সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের বিচারের দাবি জানাই।’

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স ইসলাম ব্রাদার্সের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ফুলবাড়িয়া উপজেলা প্রকৌশলী বিদ্যুৎ কুমার দাস বলেন, ‘ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে ৮ বার চিঠি দিয়েছি, কিন্তু কোনো সাড়া পাইনি। সর্বশেষ চুক্তি বাতিলের আবেদন পাঠিয়েছি ময়মনসিংহ এলজিইডি অফিসে। অনুমোদন পেলে নতুন ঠিকাদার আহ্বান করা হবে।’

এ বিষয়ে ময়মনসিংহ স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী সালমান রহমান রাসেল বলেন, ‘আমরা দীর্ঘদিন ধরেই চেষ্টা করছি কাজ শেষ করার জন্য। কিন্তু সম্ভব হয়নি। এখন চুক্তি বাতিলের জন্য আবেদন করা হয়েছে মন্ত্রণালয়ে। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পেলেই নতুন কার্যক্রম শুরু হবে।’

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা