খুলনা অফিস
প্রকাশ : ০৪ আগস্ট ২০২৫ ১২:০৩ পিএম
প্রবা ফটো
খুলনায় টানা বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে আমন ধানের বীজতলা। পানি নামতে না পারায় জলাবদ্ধতায় আমন চাষ নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে কৃষকদের মাঝে। গেল জুলাই মাসেই ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কয়েক কোটি টাকার। জলাবদ্ধতার কারণ হিসেবে অতিবৃষ্টির পাশাপাশি খাল দখল ও বাঁধ দিয়ে প্রভাবশালীদের মাছ চাষকে দায়ী করেছেন ক্ষতিগ্রস্তরা। খালগুলো থেকে নেটপাটা অপসারণ করে জলাবদ্ধতা দ্রুত নিরসন করতে না পারলে এবার আমন উৎপাদন বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
খুলনা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর খুলনা জেলায় ৯৩ হাজার ২৭০ হেক্টর জমিতে আমন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। গেল জুলাই মাসের টানা বৃষ্টিতে খুলনা জেলার ১৩ হাজার ৭১ জন কৃষকের প্রায় ২৮ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। বীজতলার পাশাপাশি সবজিক্ষেত নষ্ট হয়ে গেছে। ২০৬ হেক্টর জমির বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
জানা গেছে, খুলনার নয় উপজেলার বহু নদী, খাল ইতোমধ্যে ভরাট হয়ে গেছে। এর মধ্যে রয়েছে ডুমুরিয়ার হামকুড়া, ভদ্রা, সালতা, শ্রী গ্যাংরাইল বা তেলিগঙ্গা-ঘেংরাইল নদীর আংশিক এবং খুলনা শহরসংলগ্ন ময়ূর নদের আংশিক। এ ছাড়া ভবদহ ও বিল ডাকাতিয়ার প্রভাব পড়ছে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্তত ২৭টি বিলের ওপর। কয়রার শাকবাড়িয়া খাল ভরাট ও নেটপাটার কারণে প্রতিবছর প্রায় ১০ হাজার বিঘা জমি জলাবদ্ধতার কবলে পড়ে।
কয়রা উপজেলার মহারাজপুর বিলের কৃষক আইয়ুব আলী বলেন, পাঁচ বিঘা জমির জন্য বীজতলা তৈরি করি। সবই নষ্ট হয়ে গেছে।
একই উপজেলার মাদারবাড়ী গ্রামের কৃষক আমিনুর ইসলাম জানান, মাদারবাড়ী, দেয়াড়া ও লক্ষ্মীখোলা বিলের প্রায় দুই হাজার বিঘা জমিতে চাষাবাদের জন্য আমনের বীজতলা তৈরি সম্ভব হচ্ছে না। তাদের এলাকার চাষিদের বীজতলা নষ্ট হয়ে গেছে। নতুন করে বীজতলা তৈরিরও পরিবেশ নেই।
বটিয়াঘাটার বালিয়াডাঙ্গা ইউনিয়নের কৃষক মো. মেফতাহুল আলম জানান, এলাকার ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ বীজতলা নষ্ট হয়ে গেছে। অনেকেই আবার নতুন বীজতলা তৈরি করছেন। এর ফলে মাসখানেক পিছিয়ে যাবে আমন চাষ।
স্থানীয় আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, গেল জুলাই মাসে খুলনায় ৬০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহের ১০ দিনেই খুলনায় বৃষ্টি হয় ৪০৮ মিলিমিটার, যা গত বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি।
উপকূল ও সুন্দরবন সুরক্ষা আন্দোলনের আহ্বায়ক আনোয়ার হোসেন বলেন, অতিবৃষ্টি ছাড়াও এ অঞ্চলের জলাবদ্ধতার অন্যতম কারণ খালগুলো দিয়ে পানি সরবরাহ করতে বাধা সৃষ্টি করা। ইজারাকৃত খালগুলোতে লবণপানি উত্তোলন করা হয়। ইজারার শর্ত ভঙ্গ করে বাঁধ ও নেটপাটা দিয়ে খণ্ড খণ্ড করে লিজ দেওয়া হয়। এছাড়া অধিকাংশ খাল ভরাট হয়ে গেছে। ফলে পানিপ্রবাহ বন্ধ হয়ে গেছে। কৃষকদের স্বার্থে খালগুলো ইজারামুক্ত করার দাবি এই নাগরিক নেতার।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. নজরুল ইসলাম বলেন, আমন ধানের পর্যাপ্ত বীজ রয়েছে। আমরা কৃষকদের মাঝে প্রণোদনা হিসেবে পর্যাপ্ত বীজ ও সার দিয়েছি। এখনও দিচ্ছি। আশা করছি, আমন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সমস্যা হবে না। তবে উৎপাদন বিলম্বিত হবে। কৃষকরা নতুন করে বীজতলা প্রস্তুত করছেন। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে দেশের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত জেলা হিসেবে খুলনার অবস্থান শীর্ষে। জলাবদ্ধতা নিরসনে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। আমাদের মাঠকর্মীরা কৃষকদের সর্বাত্মক সহযোগিতা করছেন।