শাখাওয়াত হোসেন সোহান, রাজবাড়ী
প্রকাশ : ০৪ আগস্ট ২০২৫ ১০:৫১ এএম
রাজবাড়ীর ৫ উপজেলায় সাব-রেজিস্ট্রি অফিস ঘিরে গড়ে উঠেছে দলিল লেখক সমিতি সিন্ডিকেট। এ সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছেন জমির ক্রেতা-বিক্রেতারা। তাদের ধার্যকৃত টাকা না দিলে দলিল রেজিস্ট্রি হয় না। এ সিন্ডিকেট এতই শক্তিশালী যে, কেউ প্রতিবাদ করার সাহসটুকু হারিয়ে ফেলেছে।
গতকাল রবিবার দুপুরে বালিয়াকান্দি সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে চলমান অনিয়ম, ঘুষ, দুর্নীতি এবং দলিল লেখক সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অতিরিক্ত টাকা আদায় বন্ধে কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য ৫ দফা দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন স্থানীয়রা।
এ সময় গওছেল আযম গহের, মিরাজুল ইসলাম, আব্দুর রশিদ, ফিরোজ, জমিরসহ স্থানীয় লোকজন উপস্থিত ছিলেন। পরে উপজেলা ইউএনওর কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়।
তারা অভিযোগ করে বলেন, বালিয়াকান্দি সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দীর্ঘদিন ধরে নানা অনিয়ম, ঘুষ-দুর্নীতি ও দলিল লেখকদের সিন্ডিকেটের মাধ্যমে দলিল নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হচ্ছে। সরকারি ফির থেকে অতিরিক্ত টাকা না দিলে দলিল সম্পাদন হয় না। সাধারণ জনগণ নির্ধারিত সরকারি ফি জমা দেওয়ার পরও নানা অজুহাতে অতিরিক্ত টাকা দিতে বাধ্য হচ্ছেন।
কেউ এই অনৈতিক দাবির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলে তাদের কাজ অকারণে ঝুলিয়ে রাখা হয়। এমনকি দলিলও হয় না। এ কারণে সাধারণ মানুষ হয়রানি ও আর্থিক ক্ষতির শিকার হচ্ছেন। এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ সেবা খাতে এ ধরনের অনিয়ম জনসেবার মৌলিক অধিকারকে ভূলুণ্ঠিত করছে বলে এলাকার বিশিষ্টজনরা মনে করেন।
মানববন্ধনে ৫টি দাবি উত্থাপন করা হয়েছে। এগুলো হলোÑ বালিয়াকান্দি সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের যাবতীয় কার্যক্রমের প্রতি প্রশাসনিক তদারকি বাড়ানো। সিন্ডিকেটভুক্ত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে তদন্তসাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া। সরকারি ফি ছাড়া অতিরিক্ত টাকা আদায় বন্ধে নজরদারি নিশ্চিত করা। দলিল নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং অনিয়মে জড়িত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজবাড়ী সদর, পাংশা, কালুখালী, বালিয়াকান্দি ও গোয়ালন্দ উপজেলায় সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দলিল লেখক সমিতির নামে সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। এ সিন্ডিকেটের মাধ্যমে দলিলপ্রতি সরকারি নির্ধারিত টাকার ৪-৫ গুণ টাকা আদায় করা হয়ে থাকে। তাদের চাহিদামতো টাকা না দিলে দলিল রেজিস্ট্রি করতে নানা তালবাহানা করা হয়। সংশ্লিষ্ট সাব-রেজিস্ট্রারদের ছত্রছায়ায় দলিল লেখক সিন্ডিকেটের সভাপতি-সম্পাদকের কাছে দলিল দাখিলের আগে সাংকেতিক চিহ্ন না দিলে সে দলিল রেজিস্ট্রি হয় না। সমিতিতে অতিরিক্ত ফি জমা দেওয়ার পর দলিল সম্পাদন হয়। প্রতি মাসে ওই অতিরিক্ত টাকা দলিল লেখকদের মধ্যে বণ্টন করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে ঘুষবাণিজ্য চললেও দেখার যেন কেউ নেই। ৫টি উপজেলার দলিল লেখক সমিতি বিলুপ্ত ঘোষণা করে সরকারি দামে দলিল রেজিস্ট্রির ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন জমির ক্রেতা-বিক্রেতারা।