পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৩ আগস্ট ২০২৫ ২০:৩৪ পিএম
আপডেট : ০৩ আগস্ট ২০২৫ ২০:৩৫ পিএম
প্রবা ফটো
খুলনার পাইকগাছা উপজেলার হরিঢালী ইউনিয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি ড. মো. মোকাররম হোসেনের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং অসদাচরণের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগে বিদ্যালয়ের ২০ জন শিক্ষক-কর্মচারী যশোর শিক্ষা বোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শকের বরাবর লিখিত আবেদন করেছেন।
অভিযোগপত্রে বলা হয়, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যশোর বোর্ড কর্তৃপক্ষ স্থানীয় বাসিন্দা ড. মোকাররম হোসেনকে সভাপতি হিসেবে মনোনীত করেন, যদিও বিদ্যালয় থেকে প্রেরিত প্রার্থী তালিকায় তার নাম ছিল না।
সভাপতি দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ২৫ মে কোনো এজেন্ডা ছাড়াই একটি সভা ডাকেন, তবে সিদ্ধান্তহীনভাবে সভাটি শেষ হয়। পরবর্তীতে ২৩ জুন আবার সভার আহ্বান করলেও সদস্যরা অনুপস্থিত থাকায় সভাটি অনুষ্ঠিত হয়নি।
এরপর একক সিদ্ধান্তে সভাপতি সহকারী প্রধান শিক্ষক হাফিজুর রহমান, সহকারী শিক্ষক প্রকাশ ঘোষ এবং অফিস সহকারী সুভাষ মণ্ডলকে সাময়িক বরখাস্ত করেন। একইসঙ্গে শিক্ষক সুরজ্ঞনা রায়, অনীশ রঞ্জন চক্রবর্তী ও সবুজ সরদারকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়।
অভিযোগ আরও রয়েছে, নীতিমালা অনুযায়ী জ্যেষ্ঠতার লঙ্ঘন করে তিনি সহকারী শিক্ষক তালিকার ১৩ নম্বরে থাকা নাজমুন নাহারকে বিদ্যালয়ের চলতি দায়িত্ব প্রদান করেন। পাশাপাশি, অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে সঙ্গে নিয়ে বিদ্যালয়ের নামে একটি ব্যাংক হিসাব খুললেও, শিক্ষকরা বিষয়টি জানতে পেরে তা বন্ধ করে দেন।
এসব ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। ইতোমধ্যে দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষা স্থগিত, ক্লাস বর্জন, মানববন্ধন এবং প্রতিবাদ সমাবেশসহ বিভিন্ন আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে।
সাময়িক বরখাস্ত হওয়া সহকারী প্রধান শিক্ষক হাফিজুর রহমান বলেন, বর্তমান সভাপতির ঘনিষ্ঠ বন্ধু যশোর বোর্ডের আইএস কামরুজ্জামান। তার প্রভাবেই তিনি সভাপতি হয়েছেন এবং এখন ইচ্ছেমতো সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।
অন্যদিকে, অভিযুক্ত সভাপতি ড. মোকাররম হোসেন বলেন, আমি যা করেছি তা আইনগতভাবে করেছি। আমার বিরুদ্ধে বোর্ডে অভিযোগ করা হয়েছে, বোর্ড কর্তৃপক্ষ যে সিদ্ধান্ত দেবে তা আমি মেনে নেব। তবে বিদ্যালয়ের কেউ আমার কথা শুনছে না।
এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শেখ শাহজাহান আলী বলেন, স্কুলের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে আমি শিক্ষকদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। আশা করছি, দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে।
পাইকগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহেরা নাজনীন বলেন, সভাপতি সাহেব কীভাবে কী করছেন তা সুনির্দিষ্টভাবে বলতে পারছি না, তবে দ্রুত সমস্যার সমাধান করে স্কুলের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা জরুরি।
উল্লেখ্য, সভাপতির হঠকারী সিদ্ধান্তের ফলে বিদ্যালয়ে গত দুই মাস ধরে ক্লাস ও পরীক্ষা কার্যক্রম স্থবির হয়ে আছে। এ ছাড়া, বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক স্বপন কুমার বিশ্বাসের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থ কেলেঙ্কারিসহ একাধিক অভিযোগ বিভিন্ন দপ্তরে দাখিল করা হয়। এসব অভিযোগ সামনে আসার পর তিনি ১৮ ফেব্রুয়ারি শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেন। অভিযোগ রয়েছে, বর্তমান সভাপতি তার পক্ষ নিয়ে একের পর এক একতরফা সিদ্ধান্ত নিয়ে পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছেন।