রাজবাড়ী প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৩ আগস্ট ২০২৫ ১৮:৪৪ পিএম
আপডেট : ০৩ আগস্ট ২০২৫ ১৮:৫২ পিএম
প্রবা ফটো
রাজবাড়ী জেলার পাঁচটি উপজেলায় সাব-রেজিস্ট্রি অফিসকে ঘিরে গড়ে উঠেছে একটি প্রভাবশালী দলিল লেখক সমিতি সিন্ডিকেট। জমি রেজিস্ট্রির জন্য সরকার নির্ধারিত ফি ছাড়াও অতিরিক্ত অর্থ দিতে বাধ্য হচ্ছেন সাধারণ ক্রেতা-বিক্রেতারা। সিন্ডিকেটের অঘোষিত শর্ত না মানলে দলিল আটকে দেওয়া হচ্ছে দিনের পর দিন। এভাবে পুরো রেজিস্ট্রি প্রক্রিয়া জিম্মি হয়ে পড়েছে ঘুষ-দুর্নীতির ভয়াল চক্রে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই সিন্ডিকেট এতটাই প্রভাবশালী যে, কেউ মুখ খুললেও শেষ পর্যন্ত কাজ আটকে দেওয়ার ভয়েই চুপ থাকতে বাধ্য হচ্ছেন।
রোববার (৩ আগস্ট) দুপুরে রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের চলমান অনিয়ম, ঘুষ, দুর্নীতি এবং দলিল লেখক সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয়রা।
মানববন্ধনে গওছেল আযম গহের, মিরাজুল ইসলাম, আব্দুর রশিদ, ফিরোজসহ জমির মালিক ও স্থানীয় বাসিন্দারা অংশ নেন। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) বরাবর স্মারকলিপিও প্রদান করা হয়।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে বালিয়াকান্দি সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দলিল লেখক সমিতির নামে একটি সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। তারা সরকার নির্ধারিত রেজিস্ট্রি ফির বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করছেন। নির্ধারিত ফি জমা দেওয়ার পরও নানা অজুহাতে অতিরিক্ত টাকা দিতে বাধ্য করা হচ্ছে। কেউ প্রতিবাদ করলে তাদের দলিল প্রক্রিয়াকরণ বিলম্বিত বা স্থগিত করা হয়। ফলে সাধারণ মানুষ আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি হয়রানির শিকার হচ্ছেন।
মানববন্ধনে তারা পাঁচ দফা দাবি উপস্থাপন করেন-
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাজবাড়ী সদর, পাংশা, কালুখালী, বালিয়াকা ন্দিও গোয়ালন্দ উপজেলায় দলিল লেখক সমিতির নামে একই ধরনের সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে। এরা দলিল প্রতি সরকার নির্ধারিত মূল্যের ৪–৫ গুণ টাকা আদায় করে। সমিতির সভাপতি বা সম্পাদকের ‘সংকেত’ ছাড়া দলিল রেজিস্ট্রি হয় না। সমিতিতে অতিরিক্ত অর্থ জমা দেওয়ার পরেই দলিল সম্পাদনের অনুমতি মেলে।
অভিযোগ রয়েছে, প্রতি মাসে এই অতিরিক্ত অর্থ দলিল লেখকদের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হয়। দীর্ঘদিন ধরেই এ ঘুষবাণিজ্য প্রকাশ্যে চললেও কার্যত এর বিরুদ্ধে কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। জমির ক্রেতা-বিক্রেতারা ৫ উপজেলার দলিল লেখক সমিতি বিলুপ্ত ঘোষণা করে সরকার নির্ধারিত মূল্যে দলিল রেজিস্ট্রির ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।