বরগুনা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৩ আগস্ট ২০২৫ ১৭:০০ পিএম
আপডেট : ০৩ আগস্ট ২০২৫ ১৭:১৭ পিএম
অভিযুক্ত সিনহা রহমান। প্রবা ফটো
বরগুনায় একটি কাপড়ের দোকানে ঢুকে মো. জসিম নামে এক ব্যবসায়ীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে সিনহা রহমান নামে একজনের বিরুদ্ধে। সমন্বয়ক পরিচয় দিয়ে তিনি ব্যবসায়ীকে মারধর করেন বলে জানা যায়। ঘটনার উপযুক্ত বিচার না হওয়া পর্যন্ত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছেন ব্যবসায়ী নেতারা।
গত শনিবার (২ আগস্ট) রাত ১০টার দিকে শহরের বিবি সড়কের গার্মেন্টস পট্টির একটি দোকানে এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শী ব্যবসায়ীরা জানান, জসিম তার শিশু সন্তানকে নিয়ে খাবার কিনতে যাওয়ার সময় এক নারী পথচারীর সঙ্গে ধাক্কা লেগে শিশুটি ছিটকে পড়ে যায়। এতে জসিম ও ওই নারীর মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। বিষয়টি বাজারের অন্য বস্ত্র ব্যবসায়ী ও সমিতির নেতাদের নজরে এলে তাৎক্ষণিক সমাধান করতে উভয় পক্ষকে ডাকেন তারা।
এ সময় ওই নারীর ছেলে সিনহা রহমান নিজেকে সমন্বয়ক দাবি করে কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে সেখানে উপস্থিত হন। পরে উভয় পক্ষের কথোপকথনের এক পর্যায়ে সিনহা উত্তেজিত হয়ে জসিমকে মারধর করেন।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী জসিম বলেন, ‘বাচ্চাকে নিয়ে খাবার কিনতে যাওয়ার পথে এক নারী আমার বাচ্চাটিকে ফেলে দেয়। কিন্তু সেই নারী কোনো সহানুভূতি না দেখিয়ে উল্টো বলেন- দেখে হাঁটতে পারেন না। বিষয়টি নিয়ে তার সঙ্গে বাকবিতণ্ডার পর যে যার মতো চলে যাই। পরে বিষয়টি মীমাংসা করতে বস্ত্র ব্যবসায়ী সমিতির নেতারা আমাকে ডাকেন। এরপর সেখানে উপস্থিত হলে সকলের সামনেই তাদের লোকজন আমাকে মারধর করেন।’
এ বিষয়ে পৌর বস্ত্র ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হারুন-অর-রশীদ বলেন, ‘ব্যবসায়ী জসিমের সঙ্গে এক নারী পথচারীর ধাক্কা লাগার ঘটনায় আমরা সমাধানের জন্য উভয় পক্ষ নিয়ে আমার দোকানে বসি। বক্তব্য শোনার একপর্যায়ে ওই নারীর পক্ষের লোকজন দোকানে এসে আমাদের সামনে জসিমকে মারধর শুরু করে। এসময় আমরা সবাই মিলে তাদের থামাতে ও দোকান লুটের হাত থেকে বাঁচাতে পেরেছি। আমরা ব্যবসায়ীরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, এ ঘটনার উপযুক্ত বিচার না হওয়া পর্যন্ত আমাদের সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে।’
সিনহা রহমানের মা ইয়াসমিন তানিয়া বলেন, ‘একটা ঘটনা নিয়ে সমাধানের জন্য বসা হয়েছিল। সেখানে আমার ছেলে ভুল করেছে।’ ব্যবসায়ীদের কাছে সবাই মিলে বসে সেটি সমাধানের আহ্বান জানান তিনি।
অভিযোগের বিষয় সিনহা রহমান বলেন, ‘আমার মাকে খারাপ ভাষায় কথা বললে আমি তার শার্টের কলার ধরি, এবং ধস্তাধস্তি হয়। সমন্বয়ক পরিচয়ে মারধর করার অভিযোগটি মিথ্যা। এ বিষয়ে বিএনপির এক নেতা সালিশ করবেন।’
এ বিষয়ে বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াকুব হোসাইন বলেন, ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।