আবু সালেহ মো. রায়হান, পঞ্চগড়
প্রকাশ : ০৩ আগস্ট ২০২৫ ১৩:১৪ পিএম
বোদা উপজেলার ময়দানদীঘি ইউনিয়নের ধনিপাড়া এলাকায় নির্মাণাধীন একটি পাকা সড়কের কার্পেটিং হাত দিয়েই তুলে ফেলছে স্থানীয় যুবক। প্রবা ফটো
পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার ময়দানদীঘি ইউনিয়নের ধনিপাড়া এলাকায় নির্মাণাধীন একটি পাকা সড়কে চরম অনিয়মের অভিযোগে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। গতকাল শনিবার দুপুরে ধনিপাড়ায় পঞ্চগড়-ঢাকা মহাসড়ক থেকে দক্ষিণ গাইঘাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত এক কিলোমিটার সড়কের নির্মাণকাজে ব্যাপক অনিয়ম ধরা পড়ে।
কার্পেটিং কাজ চলাকালীন স্থানীয় এক যুবক হাতে দিয়ে দেখেন যে কার্পেটিং আস্তে আস্তে উঠে যাচ্ছে। এরপরই স্থানীয়দের মাঝে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। প্রতিবাদকারী যুবকদের পুলিশে দেওয়ার হুমকি দেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা। একপর্যায়ে স্থানীয়রা একত্রিত হয়ে কাজ বন্ধ করে দেন।
জানা যায়, সড়কটির কাজ পেয়েছিল ‘এমআর ট্রেডার্স’ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। তবে শুরু থেকেই নির্মাণকাজে নিম্নমানের সামগ্রী ও অনিয়মের অভিযোগ করে আসছিলেন স্থানীয়রা। এদিন প্রকাশ্যে দুর্বল কার্পেটিংয়ের চিত্র সামনে আসায় তা আরও প্রকট আকার ধারণ করে। ঘটনায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এর আগে একাধিকবার প্রতিবাদ করলেও তোয়াক্কা করেননি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
স্থানীয় ভ্যানচালক ইউসুফ আলী বলেন, আমি ভ্যান নিয়ে যাচ্ছিলাম, হঠাৎ দেখি নতুন কার্পেটিং উঠে যাচ্ছে। পাশের মিস্ত্রি বলেন, হাতুড়ি দিয়ে সেটা ঠিক করতে হবে!
প্রতিবাদকারী মাসুদ রানা বলেন, রাস্তার ওপর কাদা, ধুলো, বালু রেখে তার ওপরেই কার্পেটিং করা হচ্ছে। ভিডিও করতে গেলে হুমকি দেয়। তখন আমরা সবাই মিলে কাজ বন্ধ করে দেই।
নির্মাণকাজে যুক্ত মিস্ত্রি আবুল কালাম বলেন, বৃষ্টির কারণে কিছু বালু ছিল। ময়লা না সরিয়েই কার্পেটিং করায় এমন হয়েছে। এটা অবশ্যই অনিয়ম।
সড়কে কোনো অনিয়ম হচ্ছে কি নাÑ এমন প্রশ্নে বোদা উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়ের কার্য সহকারী জাহিদুল ইসলাম গণমাধ্যম কর্মীদের বলেন, সড়ক নির্মাণে কোনো অনিয়ম হচ্ছে না। নিয়ম মেনে সড়কের কাজ করা হচ্ছে। এ সময় স্থানীয়রা ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে মারধর করেন। পরে কোনোমতে পালিয়ে তিনি প্রাণ রক্ষা করেন।
ময়দানদীঘি ইউনিয়নের তিন নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য বেলাল হোসেন বলেন, এই রাস্তার কাজ বহুদিন ধরে চলছে। পাশের রাস্তাগুলোর কাজ শেষ হলেও এই রাস্তার কাজ বারবার বন্ধ হচ্ছে। এবার গিয়ে দেখিÑ কাজের মান খুবই খারাপ, তাই আমি নিজেই কাজ বন্ধ করি।
মারধরের শিকার বোদা উপজেলার প্রকৌশলীর কার্যালয়ের কার্য সহকারী জাহিদুল ইসলাম বলেন, আমি কাজ তদারকি করতে গিয়েছিলাম। সাংবাদিকদের বলেছিলাম কাজে কোনো অনিয়ম নেই। তখনই কয়েকজন উত্তেজিত হয়ে আমাকে মারধর করে। আমি পালিয়ে বেঁচেছি।
তিনি আরও বলেন, ১০ দিন আগে প্রাইম কোট দেওয়া হয়েছিল। বৃষ্টির কারণে কিছু বালু জমে ছিল। পরিষ্কার না করেই কার্পেটিং শুরু হয়, যা ঠিক হয়নি।
এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এমআর ট্রেডার্সের প্রতিনিধি মিজানুর ইসলাম বলেন, এটি ২০২০-২১ অর্থবছরের কাজ। আমি সাব-ঠিকাদার হিসেবে যুক্ত। বিস্তারিত মনে নেই, দেখে বলতে হবে। এরপরই ফোন কেটে দেন তিনি।
পঞ্চগড় এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মাহমুদ জামান বলেন, রাস্তার অনিয়ম নিয়ে অভিযোগ পেয়েছি। স্থানীয়রা কাজ বন্ধ করেছে বলেও শুনেছি। তবে কোনো কর্মকর্তা মারধরের শিকার হয়েছেনÑ এমন তথ্য আমাদের জানা নেই। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।