মিঠাপুকুর (রংপুর) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০২ আগস্ট ২০২৫ ১৯:৪৮ পিএম
আপডেট : ০২ আগস্ট ২০২৫ ২০:৪৭ পিএম
রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলায় চোর সন্দেহে মধ্যযুগীয় কায়দায় মানসিক রোগীকে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে।
শনিবার (২ আগস্ট) উপজেলার ভাংনী ইউনিয়নের কাগজীপাড়া গ্রামে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা মুসা মিয়ার বাড়িতে দিনব্যাপী নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। মুসা মিয়া উপজেলার ভাংনী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সভাপতি ছিলেন।
স্থানীয়রা জানায়, একটি সাইকেল হারানোর জেরে শনিবার (২ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে মুসা মিয়ার বাড়ির সামনে দিয়ে ভাংনী দক্ষিণপাড়া গ্রামের মৃত গিয়াসউদ্দিনের ছেলে রায়হান মিয়া নিজ বাড়িতে যাওয়ার সময় মুসা মিয়া ও তার পরিবারের লোকজন আকস্মিক পথরোধ করে কাঁঠালের গাছের সঙ্গে রশি দিয়ে বেঁধে মারপিট শুরু করে। ক্রমাগত মারপিটে মানসিক ভারসাম্যহীন রায়হান অসুস্থ হয়ে পড়লে স্থানীয়রা বাধা প্রদান করে।
এ সময় স্থানীয়দের বাধা উপেক্ষা করে হাতে রশি দিয়ে বেঁধে বাড়ির অভ্যন্তরে নিয়ে গিয়ে তারা পুনরায় নির্যাতন চালায়। একটানা ৫ ঘণ্টা নির্যাতনের পরেও সাইকেল চুরির স্বীকারোক্তি আদায়ে ব্যর্থ হয় মুসা মিয়া।
এদিকে নির্যাতনের খবর ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাস্থলে সংবাদ সংগ্রহে গেলে স্থানীয় সংবাদকর্মীকে ঘটনাস্থলে প্রবেশ করতে না দিয়ে হুমকি-ধমকি প্রদান করে মুসা মিয়া। দিনভর নির্যাতনের পর চুরির সত্যতা না পাওয়ায় ভুক্তভোগী রায়হানের বড় ভাই আক্তারুল ইসলামের হাতে মানসিক ভারসাম্যহীন রায়হানকে বেলা সাড়ে ৩টার দিকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তুলে দেন মুসা।
ভুক্তভোগীর বড় ভাই আক্তারুল ইসলাম বলেন, আমার ছোট ভাই রায়হান সাইকেল চুরি করেনি। তারা আমার ভাইকে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে গাছের সঙ্গে বেঁধে বেধড়ক মারপিট করেছে।
অভিযুক্ত মুসা মিয়া জানান, রায়হানই আমার সাইকেল চুরি করেছে। এখন স্বীকার করছে না। এজন্য মারধর করেছি। মিঠাপুকুর থানার ওসি (অপারেশন) মো. হাফিজুর রহমান জানান, ওই ছেলেকে তার পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।