× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

চাঁদপুর

পানি নিষ্কাশনের অভাবে পানের বরজ ও কৃষিজমিতে জলাবদ্ধতা

চাঁদপুর প্রতিবেদক

প্রকাশ : ০২ আগস্ট ২০২৫ ১৭:৫২ পিএম

পানি নিষ্কাশনের অভাবে পানের বরজ ও কৃষিজমিতে জলাবদ্ধতা

বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় চাঁদপুরের হাইমচরে ফসলি জমিগুলোয় পানি চাষের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এতে ফসল চাষে ব্যাঘাত ঘটছে। অতিবৃষ্টির কারণে দুই বছর ধরে এ উপজেলার উত্তর ও দক্ষিণ আলগী ইউনিয়নের দেড় হাজার হেক্টরের বেশি কৃষিজমিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এতে কয়েক হাজার কৃষক ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

স্থানীয় কৃষকরা বলেন, সেচ প্রকল্পের আওতাধীন এসব জমির পানি বের হওয়ার ব্যবস্থা নেই। দুটি ব্রিজের নিচে স্লুইসগেট স্থাপনের দাবি জানিয়ে আসছেন তারা।

পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে, নতুন প্রকল্পের মাধ্যমে রেগুলেটর স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। অতিবৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে ক্ষতি কমাতে ১৫টি রেগুলেটর স্থাপনের জন্য প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। হাইমচরের এ দুটি ব্রিজ ওই প্রকল্পে নেই। তবে নতুন প্রকল্পে যুক্ত করার চেষ্টা করা হবে।

সরেজমিন উত্তর আলগী ইউনিয়নের মহজমপুর গ্রামের মৈশালবাড়ীসংলগ্ন ব্রিজে গিয়ে দেখা গেছে, ব্রিজের এক পাশে বালুভর্তি জিও টেক্সটাইল ব্যাগ ফেলে মুখ বন্ধ করে রাখা হয়েছে। দুই বছর আগে অতিবৃষ্টির সময় এটি এভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। এরপর থেকে আর কোনো পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। একই অবস্থা দক্ষিণ আলগী ইউনিয়নের চরভাঙ্গা গ্রামের চুন্নু সরকারের বাড়িসংলগ্ন ব্রিজের।

স্থানীয়রা জানান, এ অঞ্চলের প্রধান সমস্যা ড্রেনের সমস্যা। এ কারণে প্রতিবছর বর্ষায় জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। গত বছরের অতিবৃষ্টিতে মেঘনা নদীসংলগ্ন সেচ প্রকল্প এলাকার পান, ধান, মৌসুমি সবজি ও মাছ চাষ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ বছরও বৃষ্টির পানি জমে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। ব্যপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

মহজমপুর গ্রামের পানচাষি হারুন গাজী বলেন, গত বছর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, ইউএনও ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা ব্রিজের নিচে রেগুলেটর নির্মাণের আশ্বাস দেন। কিন্তু এখনও কোনো কাজ শুরু হয়নি।’

একই গ্রামের কৃষক নুরুল ইসলাম খান বলেন, অতিবৃষ্টি ও নদীর পানি বাড়লে ব্রিজের নিচ দিয়ে পানি ঢুকে পড়ে। কিন্তু বের হওয়ার পথ না থাকায় জমিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। রেগুলেটর স্থাপন এখন খুব জরুরি।

স্থানীয় অটোরিকশাচালক আলী আহম্মদ বলেন, চরভাঙ্গা ও মহজমপুরÑ দুটো ব্রিজেই রেগুলেটর দরকার। এ ছাড়া কৃষকের ফসল বাঁচবে না।

মহজমপুর গ্রামের কৃষক শফিকুর রহমান পাটওয়ারী বলেন, সেচ প্রকল্পের ভেতরে অতিবৃষ্টিতে পানি আটকে মাছ চলে যায়, ফসল ডুবে যায়। এ বছর অনেকে আবাদই করতে পারেননি।

হাইমচর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাকিল খন্দকার বলেন, ২০২৩ সালে আমরা দেখেছি অতিবৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় কৃষকের ধান চাষ ব্যাহত হয়েছে। তখনই আমরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তার সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বললে তারা আমাদের রেগুলেটর স্থাপনের আশ্বাস দেন। কিন্তু ২ বছর পেরিয়ে গেলেও আমাদের প্রান্তিক কৃষকরা সেই রেগুলেটরের ফল ভোগ করতে পারছে না। তিনি বলেন, গত বছর অতিবৃষ্টিতে সেচ প্রকল্পের ভেতরের বহু জমির ফসল নষ্ট হয়। বিশেষ করে প্রায় ১০০ হেক্টর জমির পানক্ষেত মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা