গোয়ালন্দ
মেহেদী হাসান রনি, গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী)
প্রকাশ : ০২ আগস্ট ২০২৫ ১৭:৪৩ পিএম
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দেবগ্রাম ইউনিয়নের মুন্সিবাজার এলাকায় ফের ভয়াবহ ভাঙন শুরু হয়েছে পদ্মা নদীতে। গত তিন দিনে নদীপাড়ের প্রায় দুই কিলোমিটারজুড়ে কয়েকটি পয়েন্টে ভাঙনে বিলীন হয়েছে অন্তত ৫০ বিঘা কৃষিজমি। হুমকির মুখে পড়েছে শতাধিক ঘরবাড়ি, স্কুল, কবরস্থান ও ঈদগাহ। নদীভাঙনের আতঙ্কে পদ্মাপাড়ের মানুষ পাট ক্ষেত কাঁচা অবস্থায় তুলে নিচ্ছেন, কেউ কেউ ঘরবাড়ি সরাতে শুরু করেছেন।
সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, দেবগ্রাম ইউনিয়নের মুন্সিবাজার এলাকায় পদ্মা নদীর পাড়ের প্রায় এক কিলোমিটার এলাকায় দেখা দিয়েছে নদী ভাঙন। ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে স্কুল, কলেজ, কবরস্থান, ঈদগাহসহ শতাধিক ঘরবাড়ি। ভাঙন আতঙ্কে শত শত পরিবার নদীর পাড়ে এখন দিন কাটাচ্ছে। একই চিত্র কাউয়াজানি এলাকায়, গত দুইদিন ধরে তীব্র ভাঙন চলছে। এরই মধ্যে কয়েক কিলোমিটার ফসলের জমির মাঠ নদীর গর্ভে চলে গেছে। উপজেলার দৌলতদিয়া ও দেবগ্রাম ইউনিয়ন পদ্মার ভাঙনে হারাতে বসেছে। এখন পর্যন্ত প্রয়োজনীয় কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি পানি উন্নয়ন বোর্ড বা স্থানীয় প্রশাসন। কৃষকরা জানান, বিগত কয়েক দিনে ভাঙনে বহু পাটক্ষেত ও চাষের জমি নদীগর্ভে চলে গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা জামাল মুন্সী বলেন, গত বছরের এই দিনে আমাদের দেবগ্রামে শুরু হয়েছিল ভাঙন। মানববন্ধন ও রাস্তা অবরোধ করার পর পানি উন্নয়ন বোর্ড ১২ হাজার বস্তা জিও ব্যাগ ফেলেছিল। এ বছরও একই চিত্র। এখন পর্যন্ত প্রয়োজনীয় কোনো ব্যবস্থা নেয়নি প্রশাসন। দ্রুত জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন ঠেকানোর ব্যবস্থা নিতে হবে। আমরা পানি উন্নয়ন বোর্ডকে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিলামÑ প্রয়োজনে কঠোর কর্মসূচিতে যাব। আছিয়া বেগম নামের এক নারী বলেন, তিনবার নদীতে বাড়ি হারিয়েছি। এবার ভেঙে গেলে খোলা আকাশের নিচে থাকতে হবে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক লোকমান সরদার জানান, গত ৩-৪ দিনে আমার ৫ বিঘা জমি পদ্মার বিলীন হয়ে গেছে। একটু জমি রয়েছে সেটাও নদীতে চলে গেলে নিঃস্ব হয়ে যাব। সরকারের কাছে বিনীত অনুরোধ যত দ্রুত সম্ভব আপাতত ভাঙন ঠেকানোর ব্যবস্থা নিন।
গোয়ালন্দ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সৈয়দ রায়হানুল হায়দার বলেন, ভাঙনে কিছু পাটক্ষেত বিলীন হয়েছে। পাশাপাশি আগাম আমন ধানের ক্ষেতও হুমকির মুখে রয়েছে। সরকারের বিভিন্ন কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনসহ সব কর্মকর্তা এ বিষয়টি ওয়াকিবহাল রয়েছে। আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আন্তঃসমন্বয়ের মাধ্যমে ভাঙন রোধের ব্যাপারে উদ্যোগ নেব।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদুর রহমান বলেন, দেবগ্রামের কাউলজানি এলাকায় ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে চিঠি দিয়েছি। আশা করি দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
রাজবাড়ী পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী এমএ শামীম বলেন, জেলায় পদ্মা নদীর তীর প্রায় ৫৭ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য। বর্ষাকালে বিভিন্ন জায়গায় ভাঙন দেখা দেয়। এর মধ্যে চলতি বর্ষাকালে দেবগ্রাম ইউনিয়নের মুন্সিবাজার এলাকায় কিছু কৃষিজমি ভাঙন কবলিত রয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবর প্রকল্প অনুমোদনের জন্য পত্র পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলে দ্রুত কাজ শুরু হবে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল আল আমিন জানান, দেবগ্রাম ইউনিয়নে নদী ভাঙনের কথা শুনেছি, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।