নাজিবুল বাশার, মধুপুর (টাঙ্গাইল)
প্রকাশ : ০২ আগস্ট ২০২৫ ১৬:৫৬ পিএম
টাঙ্গাইল জেলার মধুপুর অঞ্চলের কাঁঠালের দেশজুড়ে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। প্রবা ফটো
টাঙ্গাইল জেলার মধুপুর অঞ্চল বাংলাদেশের অন্যতম কাঁঠাল উৎপাদনকারী এলাকা হিসেবে পরিচিত। লালমাটি ও অনুকূল জলবায়ুর কারণে এখানকার কাঁঠাল সুস্বাদু, সুগন্ধি এবং মানসম্মত হওয়ায় দেশজুড়ে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। প্রতি বছর কাঁঠালের মৌসুমে এখানকার কৃষক ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। ফলে মৌসুমজুড়ে জমজমাট বেচাকেনায় চাঙ্গা হয়ে উঠেছে স্থানীয় অর্থনৈতিক কার্যক্রম।
মধুপুর উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর উপজেলায় ১৭০ হেক্টর জমিতে কাঁঠালের চাষ হয়েছে। উৎপাদন নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ হাজার ১২০ মেট্রিক টন, যার বাজার মূল্য প্রায় ৪ কোটি ৮৯ লাখ ৬০ হাজার টাকা। হেক্টরপ্রতি উৎপাদন হচ্ছে ৩৮ থেকে ৪০ মেট্রিক টন। গারো পাহাড়ঘেরা বনাঞ্চল, শোলাকুড়ি, জলছত্র, গারোবাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় চাষ হচ্ছে এসব কাঁঠাল। একসময় শুধুই স্থানীয় পর্যায়ে চাষ হলেও এখন অনেকেই বাণিজ্যিকভাবে কাঁঠাল বাগান করে চাষ করছেন। আধুনিক পদ্ধতি ও সরকারি-বেসরকারি সহায়তায় উৎপাদন ও লাভ উভয়ই বেড়েছে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতি বছরের মতো এবারও কাঁঠালের ফলন ভালো হয়েছে। মধুপুরের জলছত্র পঁচিশ মাইল এলাকায় বসে দেশের অন্যতম বৃহৎ কাঁঠালের বাজার। প্রতিদিন সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত চলে বেচাকেনা। রাজধানী ঢাকাসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকার, কৃষক ও ফড়িয়ারা এই বাজারে কাঁঠাল কিনতে আসেন। যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো থাকার কারণে ক্রেতারও কোনো কমতি নেই। বাজার থেকে প্রতিদিন ১১ থেকে ১৬টি ট্রাকে কাঁঠাল দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হয়। বাজারে প্রকারভেদে প্রতিটি কাঁঠাল ২০ টাকা থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। তবে বাজারজাতকরণ, পরিবহন ও শ্রমিক মজুরি বেড়ে যাওয়ায় কৃষকরা প্রত্যাশিত ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন।
স্থানীয় ব্যবসায়ী আব্দুল লতিফ জানান, তিনি ঘুরে ঘুরে কাঁঠাল কিনে এনে বাজারে বিক্রি করেন। এবার এক অটোরিকশা কাঁঠাল এনে ৪৫ টাকা দরে বিক্রি করেছেন। আরেক ব্যবসায়ী জলিল মিয়া জানান, তিনি জামালপুরের সরিষাবাড়ি ও মাদারগঞ্জ থেকে কাঁঠাল কিনে এনে এখানে বিক্রি করেন।
মধুপুর বাজার কমিটির ফারুক হোসেন জানান, তারা এক বছরের জন্য বাজার লিজ নিয়েছেন এবং প্রতিদিন পরিচ্ছন্নতা ও খাজনা আদায়ের ব্যবস্থা রেখেছেন। প্রতিদিন এই বাজার থেকে ১১ থেকে ১৬টি ট্রাকে কাঁঠাল দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হয়। থাকার ব্যবস্থা ও ভালো যোগাযোগ থাকায় বাজারে ক্রেতা বিক্রেতার সমাগম বেড়েছে।
কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা তাসবিনূর রাত্রী বলেন, মধুপুরে বহু বছর আগে থেকে কাঁঠাল চাষ হয়ে আসছে। এ বছর ১৭০ হেক্টর জমিতে কাঁঠাল চাষ হয়েছে। উৎপাদন নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ হাজার ১২০ মেট্রিক টন। হেক্টরপ্রতি জমিতে উৎপাদন হচ্ছে ৩৮ থেকে ৪০ মেট্রিক টন।
মধুপুরকে অনেকেই আনারসের রাজধানী বললেও কাঁঠালও এখানে অর্থনৈতিক সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত খুলছে। মধুপুরের কাঁঠাল দেশের বিভিন্ন বাজারে যাচ্ছে। কাঁঠালের গুণগত মান ভালো হলেও বাজার অবকাঠামো ও শিল্পকারখানা না থাকায় কাঙ্ক্ষিত মূল্য পাচ্ছেন না তারা। কাঁঠালভিত্তিক প্রক্রিয়াজাত শিল্প গড়ে উঠলে এই সম্ভাবনাময় ফসলটি আরও বেশি দামে বিক্রি হবে এবং স্থানীয় কৃষকদের আয়ও বহুগুণে বাড়বে।