আতিফ রাসেল, ভূঞাপুর (টাঙ্গাইল)
প্রকাশ : ০২ আগস্ট ২০২৫ ১৬:৫১ পিএম
টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর-যমুনা আঞ্চলিক সড়কে পাথর ছিটিয়ে কার্পেটিং কাজ করছেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকরা। সম্প্রতি তোলা। প্রবা ফটো
টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর সড়ক সংস্কার করা হচ্ছে। সংস্কারে খরচ ধরা হয়েছে ১২ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। সংস্কার কাজে ধীরগতি ও মানহীন সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। এতে যাত্রী ও যান চালকদের অনেক ভুগতে হচ্ছে। সড়কে চলতে গিয়ে বিকল হয়ে পড়ছে যানবাহন।
জানা গেছে, সওজ ডাবল বিটুমিনাস সারফেস ট্রিটমেন্ট পদ্ধতিতে কাজ হচ্ছে এই সড়কের। সংস্কার আগামী জুনে শেষ হওয়ার কথা। তবে কাজ শেষ হয়েছে প্রায় ৮০ ভাগ। অভিযোগ উঠেছে, খানাখন্দ ও ফাটল সংস্কার না করেই বিটুমিন, কেরোসিন ও পাথরের মিশিয়ে মানহীন কার্পেটিং করা হয়েছে।
ভূঞাপুর-যমুনা আঞ্চলিক সড়কের বিভিন্ন অংশে পাথর ছিটিয়ে কাজ চলছে। সড়কের আগের পাথরের সঙ্গে নতুন পাথর মিশছে না।
ভূঞাপুরের গ্যাসচালিত গাড়ির চালক জাহিদ জানান, কিছুদিন আগে পালিমা ব্রিজ এলাকায় তার গাড়ির চাকা ফেটে যায়। তিনি অভিযোগ করে বলেন, সপ্তাহে তিনবার চাকা পরিবর্তন করতে হচ্ছে।
অনেক চালককেই এই দুরাবাস্থায় পড়তে হচ্ছে। চালকদের আরোহী দাঁড় করিয়ে রেখে গাড়ি মেরামত করতে হয়। পাথর ছিটকে এসে আরোহীদের গায়ে লাগার ঘটনাও নিয়মিত। অনেকে বলছেন, পুরনো সড়কের খানাখন্দ ও ফাটল সংস্কারই যথেষ্ট ছিল, পুরো সড়ক নিম্নমানের উপকরণে কার্পেটিং করার দরকার ছিল না। এতে আসলে সংস্কারের নামে দুর্নীতির উৎসব চলছে।
স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, ভালো সড়কে নতুন করে কার্পেটিংয়ের নামে অনিয়ম করা হচ্ছে। সরকারের কোটি কোটি টাকার অপচয় ছাড়া কিছু নয়। ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এতে লাভবান হলেও সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ ছাড়া কিছু নেই।
রুমানা আক্তার নামের এক আরোহী বলেন, সড়কে চলতে গিয়ে ছিটকে আসা পাথর গায়ে লাগে। ভালো সড়কের ওপরই শুধু কাজ হচ্ছে। যেসব জায়গায় গর্ত ছিল, সেগুলো আগের মতোই রয়েছে। রাব্বি নামের আরেক আরোহী বলেন, সড়কে নামমাত্র কাজ হচ্ছে। কোনো ফিনিশং নেই।
সাবঠিকাদার ফারুক হোসেন বলেন, আমরা নিয়ম মেনেই কাজ করছি। সওজের নির্দেশনা মেনেই কাজ হচ্ছে। অনেকেই না বুঝেই অভিযোগ তুলছেন।
এদিকে সড়ক বিভাগের কার্যসহকারী রুবেল হোসেন বলেন, ঊর্ধ্বতনদের নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ চলছে। বিটুমিনাস পদ্ধতিতে এমনটাই হয়ে থাকে।
সড়ক সংস্কারের মান নিয়ে প্রশ্নের জবাবে সওজের টাঙ্গাইল নির্বাহী প্রকৌশলী সিনথিয়া আজমেরি খান বলেন, বরাদ্দ সীমিত হওয়ায় ডাবল বিটুমিনাস সারফেস ট্রিটমেন্ট পদ্ধতি অনুসরণ করা হচ্ছে। এতে গাড়িগুলো বেপরোয়া গতিতে চলাচল করতে পারবে না।