নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল
প্রকাশ : ৩১ জুলাই ২০২৫ ২০:১৮ পিএম
দুদক চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেন বলেছেন, দুদক সমাজের বাইরের কোনো প্রতিষ্ঠান নয়, এখানেও দুর্নীতি আছে। এখানকার দুর্নীতি যতটা কমানো সম্ভব, দায়িত্ব নেওয়ার পরে প্রথমেই সেই চেষ্টা চলছে।
বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) বরিশাল সার্কিট হাউসে বিভাগীয় পর্যায়ে কর্মরত সরকারি-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের নিয়ে দুর্নীতি ও হয়রানিমুক্ত নাগরিকসেবা ও সেবার মান উন্নয়নে করণীয় শীর্ষক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
এ সময় তিনি আরও বলেন, সরকারের অধঃপতনের মূলে দুর্নীতি। দুর্নীতি কমিয়ে রাখা গেলে ভালো থাকা যাবে, সরকারও স্বস্তিতে থাকবে। সরকার পালিয়ে যায়, সরকার চলে যায়। কিন্তু সার্বিকভাবে আমাদের প্রাতিষ্ঠানিক অবক্ষয় এমন একটি পর্যায়ে গেছে এবং আমরা এমনভাবে এগুলো করতে দিয়েছি শেষ পর্যন্ত সামাল দেওয়া খুব কঠিন হয়েছে। ১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীন হলো। ১৬ ডিসেম্বরের পরে হঠাৎ করে একটা বাহিনীর আবির্ভাব ঘটল। আমরা সেটাকে বলতাম সিক্সটিন ডিভিশন। সংকট, এখন ভুয়া সমন্বয়ক।
এটাও সবাইকে সামাল দিতে হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমার অফিসেও এভাবে ভুয়া সমন্বয়ক পেয়েছি। প্রথমত সমন্বয়ক ভুয়া হন আর প্রকৃত সমন্বয়ক হন তাকে অবৈধভাবে সুযোগ দেওয়ার কোনো কারণ নেই। এটা যদি আপনার এখনই প্রতিরোধ করা শুরু করেন তাহলে আগামী দিনের অনেক সংকট থেকে আপনারা মুক্ত থাকবেন। এ ধরনের অনেক সংকটের মধ্য দিয়ে আমাদের যেতে হয়। এখন আমাদের জন্য একটি বড় সুযোগ হচ্ছে একটা অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আছে, এর কোনো রাজনৈতিক পক্ষপাত নেই। রাজনৈতিক পক্ষপাত যদি না থাকে আমাদের কাজের পরিবেশটা অনেক ভালো হয়।
এ সময় ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেন আরও বলেন, আমরা অনেক সময় বলে থাকি প্রশাসনের রাজনীতিকরণ। আমি আমার অভিজ্ঞতা থেকে দেখি এটা উল্টা। আমরাই বরং রাজনীতিবিদদের কাছে যাই, গিয়ে বলি, স্যার আমরা আপনার সেবাদাস। আমরা যদি একটা স্ট্যান্ড নিতে পারি, তাহলেই আমরা পরিবর্তন আনতে পারি। এই পরিবর্তন আমাদের এবং আপনাদের পক্ষে আনা সম্ভব। আমার মনে হচ্ছে আমরা একটা সুবর্ণ সুযোগ পাচ্ছি। কারও পক্ষে ঝুঁকে পড়া আমাদের জন্য ভালো হবে না। আমাদের কাজ হচ্ছে নিরপেক্ষ সেবা প্রদান করা। আমরা সেই সেবা প্রদান করে যাব।
চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেন বলেন, আমাদের সামনে আরও বড় চ্যালেঞ্জ আছে নির্বাচনের। ড. মুহাম্মদ ইউনূস কথা দিয়েছেন যে, জাতিকে একটা ভালো নির্বাচন উপহার দিতে চান। তিনি নিজে রিটার্নিং অফিসার হবেন না, আবার মাঠে নেমে তদারকিও করবেন না। তবে ওই কাজগুলো আমাদের সবার করতে হবে। কাজেই সেখানে আমাদের একটু সক্রিয় হতে হবে।
তিনি বলেন, দুদকের বেশি কাজ হওয়া উচিত, ভবিষ্যতে যাতে দুর্নীতি না হয়।
তিনি বলেন, অমরত্বের বাসনা করে লাভ নেই, আমাদের মরতে হবে। আমরা চেয়ার ধরে রাখতে পারব কয়দিন, একটা সময় ছাড়তেই হবে। কিন্তু যে সময়টুকু চেয়ারে থাকি সে সময়টাতে ভালো কাজ করে গেলে সেই কাজগুলোই থেকে যাবে। দুর্নীতি দমন কমিশন যেসব অভিযোগ বিবেচনায় আনে তার মধ্যে সব থেকে বড় একটা অংশ বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রকাশিত খবর। এজন্য সাংবাদিকদের ধন্যবাদ জানাই।
তিনি বলেন, আমি নিজে দুর্নীতিগ্রস্ত হলে তাহলে কি দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলতে পারি? কথা বলা কি আদৌ উচিত? আমরা যারা দুর্নীতির বিরুদ্ধে মিষ্টি কথা কিংবা কড়া কথা বলি, তাদের প্রথমে সেই কথাগুলো বলার অধিকার অর্জন করতে হবে।
এর আগে নগরীর সিঅ্যান্ডবি রোডে দুদকের বরিশাল বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয় ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন দুদক চেয়ারম্যান। প্রায় ২৩ কোটি টাকা ব্যয়ে বরিশালে ছয়তলা দুদক ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে।