মিঠাপুকুর (রংপুর) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৩০ জুলাই ২০২৫ ২২:৪০ পিএম
প্রায় ৩শ’ বছর আগেরকার মুঘল আমলের নির্মিত মিঠাপুকুরের পলিপাড়া মাসিমপুর জামে মসজিদ। তৎকালীন স্থানীয় হাজি তকের মোহাম্মদ মসজিদের নামে ৪২ বিঘা সম্পত্তি দান করেন। কিন্তু ওই সম্পত্তি নিজেদের কব্জায় রেখেছেন প্রয়াত ময়নুল হক সরকারের ছেলে জোয়ারদার হোসেন লিটন।
জমিগুলো বেদখল ঠেকাতে আদালতে একটি নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তারপরও তিনি পেশিশক্তির বলে সেগুলো বেদখলে রেখেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ কারণে মুসল্লিরা সরকারিভাবে মসজিদের সম্পত্তি উদ্ধার ও তদারকি দাবি করেছেন।
খোঁজখবর নিয়ে জানা গেছে, ঐতিহ্যবাহী পলিপাড়া মাসিমপুর জামে মসজিদের ৪২ বিঘা সম্পত্তি রয়েছে। এই সম্পত্তি দিয়ে মসজিদের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা হওয়া কথা। কিন্তু সম্পত্তি দাতা হাজি তকের মোহাম্মদের চতুর্থ প্রজন্ম জোয়ারদার হোসেন ওরফে লিটন জমিগুলো বেদখলে নিয়েছেন। সেগুলো তিনি স্থানীয়ভাবে বন্ধক ও ব্যক্তিগতভাবে লিজ দিয়ে অর্থ-আত্মসাৎ করছেন। ওই টাকা দিয়ে মসজিদের কোনো উন্নয়নে ব্যবহার করছেন না। এ কারণে ফুঁসে উঠেছেন স্থানীয় মুসল্লিরা।
স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ ছালেক মিয়া বলেন, মসজিদের জমিগুলো দাতার লোকজনরা ভোগদখল করে খাচ্ছেন। জমি বন্ধক রাখছে, লিজ দিচ্ছে। এমনকি মসজিদের পাশে রাস্তার ধারের জমি বেচার পর দোকানঘর নির্মাণ করতে চেয়েছিলেন, মুসল্লিরা বাধা দিয়েছেন। ওই জমিগুলো মসজিদ উন্নয়নে কোনো কাজে লাগতেছে না। তিনি আরও বলেন, এই জমিগুলো সরকারিভাবে উদ্ধার করে তদারকি দরকার।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কজন মুসল্লি বলেন, মসজিদের জমিগুলো জোয়ারদার হোসেন লিটন আত্মসাৎ করছেন। নিজের দখলে রেখে চাষাবাদ করে মসজিদে কোনো আয় দেখাচ্ছেন না। এলাকাবাসি প্রতিবাদ করেও কোনো সুফল আসেনি। তারা আরও বলেন, দখলকারি জোয়ারদার হোসেন লিটন একজন ভূমিদস্যু ও এলাকার প্রভাবশালী। এ কারণে এলাকার কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছে না। একই কথা বলেন আরও কজন মুসল্লি।
এছাড়া প্রায় ১৫ বছর ধরে মসজিদের মোতোয়াল্লি আছেন আয়মন রেছা বেগম। তার ভাতিজা জোয়ারদার হোসেন লিটন বর্তমান মোতয়াল্লি বলে দাবি করছেন।
আয়মন নেছা বেগম বলেন, আমি দীর্ঘদিন ধরে মসজিদের মোতয়াল্লি। কৌশলে জোয়ারদার হোসেন লিটন মোতোয়াল্লি হওয়ার চেষ্টা করছেন। জমিগুলো বেদখল করে খাচ্ছে। সে ভূমিদস্যু ও টাউট টাইপের মানুষ।
সরেজমিন পলিপাড়া মাসিমপুর মসজিদ প্রাঙ্গণে গিয়ে দেখা গেছে, নতুন করে বর্ধিত অংশের কাজ চলছে। এ সময় কজন মুসল্লি আক্ষেপ করে বলেন, ‘ব্যক্তিগত টাকায় মসজিদ নির্মাণ করে দিচ্ছেন আবু নুর মোহাম্মদ আহসান হামিদ নামে একজন দানশীল ব্যক্তি। তারপরও ওই জোয়ারদার হোসেন লিটনের লোকজনরা তাকে কাজে বাধা দিচ্ছেন। এ কারণে কাজ থেমে রয়েছে।’
অভিযুক্ত জোয়ারদার হোসেন লিটন বলেন, ‘আমি মোতোয়াল্লি হওয়ার পর জমিগুলো দেখভাল করছি। বছরে কত টাকা আয় মসজিদের দেওয়া হয়? আয়গুলো দিয়ে মসজিদের কি কি উন্নয়ন করা হয়েছে? প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ‘আপনাকে কেন আয়-ব্যয়ের হিসাব দেব? আমার পূর্বপুরুষ জমি দিয়েছে, আমরা দেখভাল করছি।’ মিঠাপুকুর উপজেলা ইউএনও জিল্লুর রহমান বলেন, ‘তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
রংপুর ওয়াকফ এস্টেট কার্যালয়ের হিসাব নিরীক্ষক আমিনুল ইসলাম বলেন, হাজি তকের মোহাম্মদ ওয়াকফ এস্টেটের মোতোয়াল্লি আয়মন নেছা। এ ঘটনায় উচ্চ আদালতে একটি মামলা চলমান রয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।