বান্দরবান প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৩০ জুলাই ২০২৫ ২১:২৩ পিএম
আপডেট : ৩০ জুলাই ২০২৫ ২১:৪৯ পিএম
‘বাঁশের বন, গাছের বনÑ এই প্রাকৃতিক বনই পানির আধার’Ñ এমন মন্তব্য করেছেন বান্দরবানের জেলা প্রশাসক শামীম আরা রিনি। বুধবার (৩০ জুলাই) বিকাল ৪টায় বান্দরবানে সপ্তাহব্যাপী বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলার সমাপনী দিনে পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
‘পরিকল্পিত বনায়ন করি, সবুজ বাংলাদেশ গড়ি’Ñ এই স্লোগানে গত ২৪ জুলাই শুরু হওয়া বৃক্ষমেলা এদিন আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়।
জেলা প্রশাসক বলেন, প্রতিটি ফলদ গাছ শুধু পুষ্টির জোগান দেয় না, ঔষধি গুণেও অনন্য। বাঁশগাছ হলো প্রাকৃতিক পানির এক গুরুত্বপূর্ণ আধার, তাই বাঁশগাছ সংরক্ষণ করতে হবে। শুষ্ক মৌসুমে যখন পানির সংকট দেখা দেয়, তখন এসব গাছই পানির উৎস ধরে রাখে। তিনি আরও বলেন, অন্যান্য জেলায় রিসোর্ট বানাতে শতকোটি টাকা বিনিয়োগ করতে হয়, অথচ বান্দরবান প্রকৃতির দেওয়া এক অমূল্য সম্পদÑ পাহাড়, বন আর নির্মল পরিবেশে ভরপুর। প্রকৃতিই পর্যটকদের মূল আকর্ষণ এটাই। পাহাড়ি এলাকার সংকীর্ণ রাস্তার পাশে পরিকল্পিত বৃক্ষরোপণের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, শুধু গাছ লাগালেই দায়িত্ব শেষ নয়, তার সঠিক পরিচর্যা ও রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে। তাহলেই বৃক্ষরোপণ অভিযানের এই উদ্যোগ সফল হবে। জেলা প্রশাসক আরও বলেন, বহুবর্ষজীবী ও দেশীয় প্রজাতির সমন্বয়ে প্রাকৃতিক বন গড়ে তুলতে হবে। শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট আর বর্ষায় বন্যাÑ এই দুই সমস্যার টেকসই সমাধান বনায়নের মাধ্যমেই সম্ভব। এটি শুধু পরিবেশ রক্ষা করবে না, বরং সবার কল্যাণও নিশ্চিত করবে।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বিশ্ব উষ্ণতা ও জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহ প্রভাব মোকাবিলায় ব্যাপকভাবে বৃক্ষরোপণের বিকল্প নেই। পৃথিবীকে বাসযোগ্য রাখতে হলে এখনই কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।
জেলা প্রশাসন ও বন বিভাগ যৌথভাবে আয়োজিত এই সমাপনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (পাল্পউড প্লান্টেশন) মো. তহিদুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আব্দুর রহমান এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ এমএম শাহ নেয়াজ।
অনুষ্ঠান শেষে বৃক্ষরোপণ ও বৃক্ষমেলায় অংশগ্রহণকারী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি কুইজ প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে পুরস্কার, সনদপত্র ও ফলদ গাছের চারা বিতরণ করেন জেলা প্রশাসক।