মধ্যাঞ্চলীয় ব্যুরো
প্রকাশ : ১১ ডিসেম্বর ২০২২ ১১:৪১ এএম
আপডেট : ১১ ডিসেম্বর ২০২২ ১৫:৫৭ পিএম
কৃষক কফিল উদ্দিন সড়কের পাশের জমি চাষাবাদের আওতায় আনার নিরলসভাবে কাজ করছেন। ছবি : প্রবা
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আহ্বানে সাড়া দিয়ে খাদ্য সঙ্কট মোকাবিলায় এক ইঞ্চি জমিও অনাবাদি না রাখার অঙ্গীকার করেছেন কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার কৃষকেরা।
গত ২ নভেম্বর দুপুরে পৌরসভার হ্যালিপ্যাড মাঠে বিশাল কৃষক সমাবেশে কয়েক হাজার কৃষককে শপথ বাক্য পাঠ করান তৎকালীন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শামীম আলম।
কৃষক সমাবেশে নিকলী উপজেলার নানশ্রী গ্রামের কৃষক মো. কফিল উদ্দিন উপস্থিত থেকে শপথবাক্য পাঠ করেন।
এরপর থেকে পতিত জমি চাষাবাদের উপযোগী করে তুলতে শুরু হয় তার অভিযান। সে লক্ষ্যে তিনি হাতে কোদাল নিয়ে করিমগঞ্জ-নিকলী সড়কের পাশে নিজের তিন বিঘা পতিত জমিতে বোরো ধান চাষাবাদের উপযোগী করছেন।
এ বিষয়ে কফিল উদ্দিন প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, কৃষক পরিবারে তার জন্ম। ছোটবেলা থেকেই কৃষিকাজে জড়িত। দাদার জমি ভাগাভাগির পর তিনি মাত্র দেড় একর জমির মালিক। ওই জমিতেই তিনি চাষাবাদ করে তিন সদস্য পরিবারের বছরের খাবারের সংস্থান করেন। অন্যের জমি বর্গা পেলেও কোনো কোনো বছর অতিরিক্ত আয় হয়। এছাড়া হাওরে মাছ শিকার করেও বাড়তি আয়ের পথ খুঁজেন। কিন্তু গত ২ নভেম্বর করিমগঞ্জে কৃষক সমাবেশে অন্যদের সঙ্গে যোগদান করার পর তার মধ্যে নতুন ভাবনার উদ্ভব হয়। সভায় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি এক ইঞ্চি জমিও পতিত থাকবে না। শপথ করার পর থেকেই বাস্তবায়নের উদ্যোগে তিনি দিনরাত এক করে ফেলেন।
তিনি আরও বলেন, জমি চাষাবাদের আওতায় এনে বাড়ির আঙ্গিনায় সবজি চাষ করেন। পরে বাড়তি জমির জন্য সড়কের পাশের পতিত জমিকে তিনি চাষাবাদের জন্য কাজে লেগে যায়। এরইমধ্যে জমি তৈরির কাজ শেষ। এখন বোরো চাড়া লাগাবে। বি আর ২৮ লাগাবেন। বি আর ২৮ দ্রুত ফলন দেয় বলে তিনি এই ধান রোপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি যে জমি তৈরি করেছেন নূন্যতম ১০ মণ ধান উৎপাদিত হবে।
কৃষক কফিল উদ্দিন মুখে হাসি নিয়ে বলেন, শপথ তিনিসহ সবাইকে লাভবান করেছেন। শপথের পর তাদের গ্রামে কোনো জমি পতিত নেই।
করিমগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পলাশ কুমার বসু বলেন, এদেশের কৃষকরাই কথা রাখে। তারা শপথ বা অঙ্গীকার করলে জীবন দিয়ে তা পালন করতে দ্বিধাবোধ করে না। তার বাস্তব উজ্জল দৃষ্টান্ত কৃষক কফিল উদ্দিন।
করিমগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নাসিরুল ইসলাম খান আওলাদ বলেন, কৃষক সমাবেশে আসা বেশির ভাগ কৃষক এবার কোনো জমি পতিত রাখছে না। কফিল উদ্দিনের মতো সবাই পতিত জমি খুঁজে বের করে তা চাষাবাদের উপযোগী করছেন।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আব্দুস সাত্তার বলেন, উপ সহকারি কৃষি কর্মকর্তারা তাকে জানিয়েছেন কৃষক সমাবেশ যোগদান করেছেন। এমন সকল কৃষকেই পতিত জমি খুঁজে বের করে চাষাবাদের আওতায় নিয়ে এসেছে। তাই এবার বোরোধানের চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে সাত লাখ হেক্টরে উন্নীত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি কৃষকদের প্রধানমন্ত্রীর কাছে দেওয়া শপথ বাস্তবায়ন করছেন বলে কৃষক-কৃষাণীদের ধন্যবাদ জানান।