রংপুর অফিস
প্রকাশ : ২৯ জুলাই ২০২৫ ২২:১২ পিএম
স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে ছয়আনি গ্রাম। রংপুরের গঙ্গাচড়ায় হিন্দুপল্লীতে হামলার শিকার পরিবারগুলো প্রশাসনের আশ্বাসে বাড়ি ফিরেছে। মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) ফিরে এসেছে বাড়িছাড়া ১৯ পরিবার। তবে অভিযুক্ত রঞ্জন রায়ের পরিবার এখনও ফেরেনি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত ১৪টি ঘর মেরামত করে দেওয়া হয়েছে। তবে তাদের মাঝে এখনও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
সরেজমিন গঙ্গাচড়া উপজেলার বেতগাড়ি ইউনিয়নের আলদাতপুর ছয়আনি গ্রামে দেখা গেছে, গত ২৮ জুলাই আতঙ্কে যারা বাড়ি ছেড়ে গিয়েছিলেন, তারা ফিরতে শুরু করেছেন। গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদ হাসান মৃধা ঘটনাস্থল পরিদর্শনসহ গ্রামের মানুষের সঙ্গে কথা বলেন। সেই সঙ্গে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সরকারি ঢেউটিন ও মিস্ত্রি দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ঘরগুলো মেরামতের কাজ করান।
গ্রামের বিভিন্ন স্থানে মোতায়েন করা হয়েছে পুলিশ ও সেনাবাহিনী। গতকাল মঙ্গলবার জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম ও সদস্য সচিব আনিছুর রহমান লাকু ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে শাড়ি-লুঙ্গিসহ খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেছেন। জামায়াতের পক্ষ থেকেও খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া এনসিপি ও গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের খোঁজখবর নিয়েছেন। এদিকে হামলার শিকার ২২ পরিবারের মধ্যে ১৯ পরিবার বাড়ি ফিরেছে। অভিযুক্ত রঞ্জন রায়, তার কাকা ও দাদির পরিবার এখনও ফেরেনি।
রঞ্জন রায়ের মা নিয়তি রানী বলেন, আমরা আতঙ্কিত। তদন্তে যদি আমার ছেলে অপরাধী হয়, তাহলে তার বিচার হোক। এ ঘটনায় আজ পুরো গ্রামবাসী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমাদের ক্ষতিপূরণ দিয়ে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করা হোক।
কেশব চন্দ্র রায়, রবীন্দ্র চন্দ্র রায়সহ অন্যরা বলেন, যেভাবে অতর্কিত হামলা চালিয়ে হিন্দুপল্লীকে ক্ষতিগ্রস্ত করা হলো, আমরা এখন গৃহহীন ও অন্নহীন হয়ে পড়েছি। সরকার আমাদের ঢেউটিন ও শুকনা খাবারের ব্যবস্থা করেছে। আমরা উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ চাই। আমরা আতঙ্কে দিন-রাত কাটাচ্ছি।
বাংলাদেশ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সংগঠক অনিন্দ কুমার নাথ বলেন, রঞ্জনের জন্য পুরো গ্রামবাসী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রঞ্জন দোষী কি না সেটি আইন দেখবে। কিন্তু যেভাবে দুষ্কৃতকারীরা হামলা চালাল, তা কখনও রাষ্ট্রের জন্য শুভ বার্তা নয়। আমরা চাই সরকার দোষীদেরকে চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় নিয়ে আসুক। সেই সঙ্গে হিন্দুপল্লীর অধিবাসীকে যথাযথ নিরাপত্তা দেওয়া হোক।
গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদ হাসান মৃধা বলেন, জেলা-উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত ঘরগুলো মেরামত করে দেওয়া হচ্ছে। আমরা হামলার শিকার পরিবারগুলোর ক্ষয়ক্ষতির তালিকা করছি এবং তাদের সহযোগিতায় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পরিবারগুলো এখন নিজ বাড়িতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছে। তাদের নিরাপত্তায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
গঙ্গাচড়া মডেল থানার ওসি আল-এমরান বলেন, হিন্দুপল্লীতে হামলার ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা হয়নি। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে।
উল্লেখ্য, ছয়আনি গ্রামের সুজন চন্দ্রের ছেলে রঞ্জন রায়ের নামে ফেসবুকে মহানবীর (সা.) ব্যঙ্গচিত্র তৈরি ও অশালীন মন্তব্য লিখে একাধিকবার পোস্ট করা হয়। বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় উত্তেজনা দেখা দেয়। ২৬ জুলাই রঞ্জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গত ২৭ জুলাই কিশোরগঞ্জ সিঙ্গেরগাড়ি থেকে মিছিল ছয়আনি গ্রামে এসে হিন্দু পরিবারের বাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাট করে। পরে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর উপস্থিতিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। ২৮ জুলাই হামলার আতঙ্কে মালামাল নিয়ে বাড়ি ছাড়ে ২২ পরিবার।