‘বিবাহিত মেয়েরা স্কুলে পড়তে পারবে না’
ঝিনাইদহ প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৯ জুলাই ২০২৫ ১৮:৫৮ পিএম
আপডেট : ২৯ জুলাই ২০২৫ ১৯:০২ পিএম
প্রধান শিক্ষক মমিনুল রহমান।
ঝিনাইদহের মহেশপুরে বিবাহিত হওয়ায় মাধ্যমিকের এক ছাত্রীকে ক্লাসে অংশগ্রহণ করতে না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে।
সম্প্রতি মহেশপুরের উপজেলার চাপাতলার স্বরুপপুর কুসুমপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। তবে ঘটনাটি জানাজানি হয় আজ মঙ্গলবার।
ওই প্রধান শিক্ষকের ভাষ্য, স্কুলের নিয়ম— ‘বিবাহিত মেয়েরা স্কুলে পড়তে পারবে না।’ আর এ নিয়ম মেনেই ওই ছাত্রীকে ক্লাসে ঢুকতে দেওয়া হয়নি।
জানা গেছে, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর নাম রিনা আক্তার মনিরা। দশম শ্রেণিতে পড়ে সে। সদ্য তার বিয়ে হয়েছে। তার বাবা বেঁচে নেই। সংসারের টানাপোড়েনে বিয়ে করতে বাধ্য হয়েছে এই কিশোরী।
মেয়েটি জানায় তার শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন। তাই পড়ালেখা করতে চায় সে। কিন্তু বিয়ের পর স্কুলে গেলেও তাকে ক্লাসে ঢুকতে দেয়াও হয়নি।
ওই ছাত্রীর অভিযোগ, গত ২০ জুলাই মাকে সঙ্গে নিয়ে মনিরা তার স্কুলে গেলে প্রধান শিক্ষক মমিনুল রহমান তাকে ক্লাসে বসতে দেননি। তিনি বলেন, ‘বিবাহিত মেয়েরা স্কুলে পড়তে পারবে না।’
মনিরা ও তার মা অনেক অনুরোধ করলেও প্রধান শিক্ষক সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন।
পরে তারা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে লিখিত অভিযোগ দেন। কিন্তু অভিযোগ দেওয়ার পরও কোনো সমাধান হয়নি।
মনিরা বলে, ‘আমি শিক্ষক হতে চাই। বিয়ে হয়েছে বলেই কি আমার স্বপ্ন শেষ হয়ে যাবে? আমি স্কুলে ফিরতে চাই। আমি যেন আর দশটা শিক্ষার্থীর মতো স্কুলে গিয়ে লেখাপড়া করতে পারি। আমার স্বপ্ন যেন থেমে না যায়।’
এদিকে এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অন্য শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। তারা বলছেন, কোনো সরকারি নির্দেশনায় নেই যে বিবাহিত শিক্ষার্থী স্কুলে পড়তে পারবে না। প্রধান শিক্ষক নিজে নিয়ম করে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক মমিনুল রহমান বলেন, ‘বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ নিয়ম মেনেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’
জানতে চাইলে মহেশপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খাদিজা আক্তার বলেন, ‘বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’