চট্টগ্রাম অফিস
প্রকাশ : ২৮ জুলাই ২০২৫ ২০:০১ পিএম
প্রবা ফটো
মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে বন্দরনগরী চট্টগ্রামে বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। শনি, রবি ও সোমবার থেমে থেমে বৃষ্টিপাতের কারণে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন নগরবাসী। দেখা দিয়েছে পাহাড় শঙ্কা।
পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তারা বলছেন, মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর সক্রিয় থাকায় বৃষ্টিপাত হচ্ছে। তাই আগামী বুধবার পর্যন্ত চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে।
এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রামের পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস কর্মকর্তা মাহমুদুল হক প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, নিম্নচাপ থেকে কমে সক্রিয় মৌসুমী বায়ুতে পরিণত হয়েছে। এর প্রভাবে বৃষ্টিপাত হচ্ছে এবং আরো দুইদিন ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি পাহাড়ধসেরও শঙ্কা করেন তিনি।
এদিকে, রবিবার দিনভর ও রাতে এবং সোমবার দিনভর থেমে থেমে ও ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে চট্টগ্রাম নগরীর কাতালগঞ্জ আবাসিক এলাকা, শুলকবহর, কাপাসগোলা, চকবাজারের একাংশ, জিইসি মোড়, আতুরার ডিপো, আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকা, হাজীপাড়াসহ একাধিক নিম্ন এলাকার মূল সড়ক ও অলিগলি পানিতে ডুবে যায়। কাপাসগোলা, কাতালগঞ্জ এলাকার নিচতলার বাসা-বাড়ি, দোকানপাটের ভেতরেও পানি উঠে যায়। এসব এলাকার সড়ক ও অলিগলিতে কোথাও হাঁটু ও কোথাও কোমরসমান পানি জমে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েন নগরবাসী।
কিছু সড়কে যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। পরে দুপুরের দিকে পানি কমে গেলে সেখানে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
কাপাসগোলা এলাকার বাসিন্দা রতনানন্দ বলেন, দুইদিন ধরে টানা বৃষ্টির কারণে কাতালগঞ্জ এলাকায় এই মৌসুমের সবচেয়ে বেশি পানি উঠেছে। সকাল থেকেই মূল সড়কে হাঁটু থেকে কোমড়সমান পানি ছিল। এতে এলাকাবাসী খুব দুর্ভোগে পড়েছেন। মূলত কাতালগঞ্জ এলাকার পানি চলাচলে কোন একটা স্থানে বাঁধা হওয়ায় এই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। এই দুর্ভোগ থেকে কখন পরিত্রাণ পাই জানি না।
পরে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় জলাব্দ্ধতার খবর পেয়ে-চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন স্বশরীরে হাঁটসমান পানি পেরিয়ে কাতালগঞ্জ এলাকায় যান। তখন এলাকাবাসীর সঙ্গে এরূপ জলাবদ্ধতা হওয়ার কারণ জানতে চান সিটি মেয়র।
এসময় চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন; স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ ও ভোগান্তির কথা শুনে বলেন, জলাবদ্ধতা চট্টগ্রাম নগরের দীর্ঘদিনের সমস্যা। এই কাতালগঞ্জ রোডের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থায় দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। ইতোমধ্যে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলীদের নির্দেশ দিয়েছি অবিলম্বে ড্রেনেজ সিস্টেম সংস্কার করে পানি চলাচলের পথ উন্মুক্ত করতে হবে। শুধু সাময়িক নয়, আমরা স্থায়ী সমাধানের দিকেই এগোচ্ছি। নগরবাসীর দুর্ভোগ লাঘবে চসিক সর্বাত্মকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনে সংশ্লিষ্ট সবগুলো সেবা সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে এবং জনগণকে সচেতন আচরণ করতে হবে বলেও মনে করেন তিনি।
পরে সিটি মেয়র চকবাজার, জিইসি, পাঁচলাইশ, ওয়াসা, বাকলিয়া ও লালখানবাজারসহ বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন। এসময় জলাবদ্ধতা সমস্যার সমাধানে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেন তিনি।