বেড়া-সাঁথিয়া (পাবনা) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৭ জুলাই ২০২৫ ২২:০৩ পিএম
পাবনার বেড়া উপজেলায় মসজিদ নির্মাণ নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে দফায় দফায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত ৪৫ জন আহত হন, যাদের মধ্যে হাদিস উদ্দিন (৪০) নামে একজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।
সংঘর্ষের জেরে এলাকায় উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়, যার পরিণতিতে প্রতিপক্ষের বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে স্থানীয় প্রশাসন রবিবার (২৭ জুলাই) থেকে পুরো এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার সকালে তারাপুর গ্রামে নতুন একটি মসজিদের বারান্দা নির্মাণকে কেন্দ্র করে স্থানীয় দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ জন। এতে অন্তত ৩০ জন গুরুতর আহত হন। আহতদের পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাদের মধ্যে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাদিস উদ্দিনকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে শনিবার দুপুরে তিনি মারা যান।
নিহত হাদিস উদ্দিন পাশের সাঁথিয়া উপজেলার তলট গ্রামের আব্দুস শুকুর প্রামাণিকের ছেলে। তিনি বেড়া উপজেলার চাকলা ইউনিয়নের তারাপুর গ্রামে ঘরজামাই থাকতেন।
তার মৃত্যুর খবরে শনিবার বিকালে উত্তেজিত জনতা প্রতিপক্ষের ২০-২৫টি ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এ সময় লুটপাটের ঘটনাও ঘটে।
বেড়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল কালাম আজাদ বলেন, মসজিদ নির্মাণ নিয়ে পুরনো বিরোধ থেকেই সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে একজন মারা গেছেন। এরপর প্রতিপক্ষের বাড়িঘরে প্রতিশোধমূলক হামলা চালানো হয়। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এদিকে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে গতকাল সকাল ১০টা থেকে আজ (সোমবার) সকাল ১০টা পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোরশেদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এই সময়ের মধ্যে পাঁচ বা ততোধিক ব্যক্তি একত্রে চলাচল, সভা-সমাবেশ, মিছিল, মাইক ব্যবহার এবং লাঠি, রড, দেশীয় অস্ত্র বা আগ্নেয়াস্ত্র বহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। কেউ আদেশ অমান্য করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।