মুন্সীগঞ্জ প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৭ জুলাই ২০২৫ ২১:৪৯ পিএম
আপডেট : ২৭ জুলাই ২০২৫ ২১:৫৪ পিএম
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে হতাহত ব্যক্তিদের পরিবারগুলোর করা মামলাগুলোর বিচারিক কার্যক্রমে অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি বলেছেন, গত এক বছরে বিচারিক কাজ যতটুকু এগোনোর কথা ছিল, হয়তো পুরোপুরি তা হয়নি, তবে অগ্রগতি হয়েছে।
রবিবার (২৭ জুলাই) বিকালে মুন্সীগঞ্জ শহরের লিচুতলা পতাকা একাত্তর ভাস্কর্য সংলগ্ন স্থানে শহীদদের স্মরণে ‘৩৬ জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ’ উদ্বোধন শেষে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।
স্মৃতিস্তম্ভে প্রথমে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন শহীদ পরিবারের সদস্যরা। এরপর স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক, মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসক ফাতেমা তুল জান্নাত, পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, চার্জশিট প্রক্রিয়ায় বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে আসামির অতিরিক্ত সংখ্যা। অনেক ক্ষেত্রে নিরপরাধ ব্যক্তিদেরও আসামির তালিকায় যুক্ত করা হয়েছে। একটা ঘটনায় যেখানে ২০ জন আসামি হওয়ার কথা, সেখানে ২০০ জনের নাম দেওয়া হয়েছে। এতে তদন্ত প্রক্রিয়ায় সময় বেশি লাগছে।
বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করতে সরকার সক্রিয় রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, যাতে অল্প সময়ের মধ্যেই তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রম শেষ করা যায়, সেই বিষয়ে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছি।
শহীদদের কবর সংরক্ষণে সারা দেশে কার্যক্রম চলছে : আদিলুর রহমান খান
শিল্প মন্ত্রণালয় এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান জানিয়েছেন, দেশের শহীদদের কবর সংরক্ষণে সারা দেশেই পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ চলছে। একই সঙ্গে গণভবনকে একটি জাদুঘরে রূপান্তরের কাজও এগিয়ে চলছে।
তিনি বলেন, সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে, গণভবনকে মিউজিয়াম করাÑ এটা একটি জাদুঘর। ফ্যাসিবাদের পতনের পুরো ঘটনাটাই পনেরো-সাড়ে পনেরো বছরের। সেটাকে সামনে রেখে আমরা কাজ এগিয়ে নিচ্ছি।
শিল্প উপদেষ্টা বলেন, জুলাই শহীদদের যে সংগ্রাম ছিল বাংলাদেশের মানুষের মুক্তির জন্য, সেই কাজ যেন আমরা বাস্তবায়ন করতে পারি, সেই লক্ষ্যেই আমরা কাজ করছি।
একনেকের সাম্প্রতিক ৩৬ জুলাই আবাসিক ফ্ল্যাট নির্মাণ প্রকল্প পাস না হওয়া প্রসঙ্গে আদিলুর রহমান খান বলেন, একনেকের সদস্য হিসেবে আমি অবগত। প্রকল্পটি ফেরত দিয়েছি, পাস করিনি। কারণ এর মধ্যে বেশকিছু অসঙ্গতি পেয়েছি। আমরা এটিকে পুনরায় রিভিউ করব এবং এ বিষয়ে কিছু তদন্তেরও প্রয়োজন আছে। সবকিছু পর্যালোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।