× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

সীতাকুণ্ড পৌরসভা

ময়লার ভাগাড়ে স্বাস্থ্যঝুঁকি

আশরাফ উদ্দিন, (চট্টগ্রাম) সীতাকুণ্ড

প্রকাশ : ২৭ জুলাই ২০২৫ ১৭:৪৩ পিএম

আপডেট : ২৭ জুলাই ২০২৫ ১৭:৫৩ পিএম

ময়লার ভাগাড়ে স্বাস্থ্যঝুঁকি

সীতাকুণ্ড পৌরসভার শেখপাড়া এলাকায় দেড় যুগ ধরে গড়ে ওঠা ময়লার ভাগাড় এখন শুধু দুর্গন্ধ নয়, পরিণত হয়েছে জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের হুমকি। ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় সড়ক ও জনপথ বিভাগের জমি দখল করে গড়ে তোলা এই ভাগাড় থেকে প্রতিদিন ছড়াচ্ছে রোগজীবাণু, বিষাক্ত গ্যাস, মশা-মাছি ও দূষণ। অথচ এ নিয়ে পৌর প্রশাসনের কোনো মাথাব্যথা নেই। রয়েছে নির্বিকার। স্থানীয়দের দাবি, বর্তমান পৌর প্রশাসক অতীতের মেয়রদের মতোই স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়টি জেনেও নির্বিকার রয়েছেন। ভাগাড়টি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার গরজ অনুভব করেননি।

প্রতিদিন পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের গৃহস্থালির বর্জ্য, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ ডজনখানেক ক্লিনিক-হাসপাতালের ইনফেকটেড মেডিকেল বর্জ্য, হাটবাজার, হোটেল-রেস্তোরাঁ, পশু-খামার এমনকি মৃত পশুর দেহ পর্যন্ত ফেলা হয় এই ভাগাড়ে। এর চারদিকে রয়েছে শত শত পরিবার। দীর্ঘদিন ধরে দুর্গন্ধ, ধোঁয়া, মশা ও ব্যাকটেরিয়ার মধ্যে তারা আপোস করে বসবাস করছেন। আর নানা রোগব্যাধিতে তারা আক্রান্ত হচ্ছেন।

সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আলতাফ হোসেন সতর্ক করে বলেছেন, এই বর্জ্য থেকে ডায়রিয়া, হেপাটাইটিস, টাইফয়েড, ডেঙ্গু, স্কিন ডিজিজসহ মারাত্মক সংক্রমণ ছড়াচ্ছে। জমে থাকা আবর্জনায় জন্ম নিচ্ছে মশা-মাছির ঝাঁক, বাড়ছে ইঁদুরের উপদ্রব। শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ মানুষরা প্রতিনিয়ত হুমকির মুখে।

পৌরবাসীদের অভিযোগ, একের পর এক মেয়র এসেছেন, গেছেন কিন্তু কেউই একটি পরিকল্পিত স্বাস্থ্যসম্মত ভাগাড় গড়ে তোলার উদ্যোগ নেননি। এ নিয়ে সংবাদ মাধ্যমে অসংখ্য প্রতিবেদন করা হলেও তারা বিষয়টিকে আমলেই নেননি। পৌরবাসীর স্বাস্থ্যঝুঁকির কথা দায়িত্বশীলরা মোটেও ভাবেননি। এখনও ময়লার ভাগাড় না সরানোয় পৌরবাসী ক্ষোভে ফুঁসছেন।

বর্তমানে সীতাকুণ্ড পৌরসভার প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফখরুল ইসলাম। তিনি ভাগাড়ের ভয়াবহতা উপলব্ধি করলেও সিদ্ধান্তহীনতায় আটকে আছে পুরো প্রক্রিয়া। তিনি বলেন, পৌরসভার নিজস্ব জায়গা নেই। খাস জমিও মেলে না। আবার জায়গা কিনতে গেলে কোষাগারে চাপ পড়বে।

এমন বক্তব্যে হতাশ পৌরবাসী। তাদের প্রশ্ন অর্থ বরাদ্দ না থাকলে কেন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেওয়া হয়নি? কেন জনগণের প্রাণরক্ষার দাবিতে পৌর প্রশাসক নীরব থাকেন?

পরিবেশবিদরা বলছেন, এমন দুর্যোগে দায়িত্ব এড়ানোর কোনো সুযোগ নেই। পৌর প্রশাসক চাইলে অস্থায়ী বিকল্প হিসেবে খালি জায়গা ব্যবহার করে অন্তত ভাগাড় সরিয়ে নিতে পারেন। বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় একটি পরিকল্পনা তৈরি করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো যেতে পারে; যা তার প্রশাসনিক এখতিয়ারের মধ্যেই পড়ে।

স্থানীয়রা বলছেন, এখন পৌর প্রশাসক ফখরুল ইসলামের সামনে দুটি পথ খোলা রয়েছে। ১, জনস্বাস্থ্য রক্ষায় সাহসী সিদ্ধান্ত নেওয়া। ২, আগের দুর্নীতিগ্রস্ত মেয়রদের মতো দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিতে পারেন। সীতাকুণ্ড পৌরসভার শত শত পরিবার এখন তার সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা