× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

সড়কের গর্তে ভোগান্তি

সাইফুল হক মোল্লা দুলু, মধ্যাঞ্চল

প্রকাশ : ২৭ জুলাই ২০২৫ ০৯:৩৬ এএম

আপডেট : ২৭ জুলাই ২০২৫ ০৯:৪১ এএম

সড়কের গর্তে ভোগান্তি

কিশোরগঞ্জ শহরের একরামপুর থেকে সতাল পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার সড়কে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত ও খানাখন্দ। কার্পেটিং উঠে গিয়ে সড়কটি একেবারেই চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে স্কুলগামী শিক্ষার্থী, যাত্রী, রোগী এবং পথচারীরা। বৃষ্টির দিনে সড়কের গর্তে জমে থাকে পানি। একেকটি গর্ত ছোটখাটো ডোবায় পরিণত হয়েছে। কাদা-পানিতে একাকার হয়ে যায় পুরো পথ। এতে যানবাহন হেলে দুলে চলতে বাধ্য হচ্ছে এবং প্রায় প্রতিদিনই ঘটছে দুর্ঘটনা। গত এক মাসেই অন্তত ১০টি যানবাহন গর্তে পড়ে উল্টে গেছে বলে জানা গেছে। সড়কটির বেহাল অবস্থায় ক্ষোভ প্রকাশ করে দ্রুত সংস্কারের দাবি জানিয়েছে সচেতন মহল, চালক, ব্যবসায়ী ও শিক্ষার্থীরা। সংশ্লিষ্ট দপ্তর জানায়, সড়কটি মহাসড়কে উন্নীত করার কাজ চলছে, তবে দীর্ঘসূত্রিতায় মানুষকে পোহাতে হচ্ছে সীমাহীন ভোগান্তি। এই বাস্তবতায় সড়ক সংস্কার এখন সময়ের দাবি।

সম্প্রতি সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, সড়কজুড়ে বড় বড় গর্ত আর খানাখন্দে ভরা। সড়কের বিভিন্ন স্থানে দেবে গেছে। আবার কোথাও উঁচু হয়ে ফেটে গেছে। সড়কে এখন যানবাহন চলছে হেলে দুলে। আবার সড়কের কোনো কোনো অংশ রয়েছে কাদা-পানির দখলে। বৃষ্টির পানি জমে সড়কের একেকটি গর্ত যেন পরিণত হয়েছে ছোটখাটো ডোবায়। এমন বেহাল কিশোরগঞ্জ শহরের একরামপুর থেকে সতাল পর্যন্ত। এতে প্রায়ই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা।

বাস, ট্রাক, পিকআপ, ইজিবাইক ও মোটরসাইকেল চালকরাও ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, এ সড়কে গাড়ি চালাতে হিমশিম খেতে হয় তাদের। সড়কজুড়ে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হওয়ায় প্রতিনিয়ত নষ্ট হচ্ছে যানবাহন। ফলে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন তারা। 

ট্রাকচালক ফরিদ মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এই সড়কে যে পরিস্থিতি তাতে আমাদের গাড়ির চাকাও শেষ, মাজাও শেষ। ভাঙা রাস্তায় গাড়ি চালাতে গিয়ে খুবই সমস্যায় পড়তে হয়। অটোরিকশা চালক হেলাল উদ্দিন বলেন, যত আয় করি, সবই গাড়ির খরচে চলে যায়। প্রতিদিন কিছু না কিছু নষ্ট হয়।

করিমগঞ্জ উপজেলা গুয়াদিয়া টামনি ইসলামপুর এলাকার ব্যাংকার রফিকুল ইসলাম বলেন, সম্প্রতি আমি নিজেই মোটরবাইক দুর্ঘটনায় পড়েছি এই রাস্তায়। অসুস্থ মানুষ নিয়ে চলাচল করা এক কথায় দুঃস্বপ্ন।

কিশোরগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজের ছাত্রী মেহবুবা আলম রোদসী বলেন, ভাঙা সড়কটিতে চলা গাড়ির ঝাঁকুনিতে শরীরে সমস্যা দেখা দেয়। একদিন কলেজে গেলে পরের দিন আর যেতে পারি না। এতে পড়াশোনায় ক্ষতি হচ্ছে। গরুদয়াল সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী রিতু আক্তার জানান, পরীক্ষার সময় নির্ধারিত সময়ে পৌঁছাতে পারি না। এতে নানা সমস্যায় পড়তে হয় আমাদের।

করিমগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ী দীন ইসলাম বলেন, ভাঙা সড়কের কারণে মালবাহী ট্রাক-পিকআপ আসতে চায় না। আসলেও দ্বিগুণ ভাড়া দিতে হয়। এতে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছি।

স্থানীয় বাসিন্দা আক্তার হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির এই করুণ অবস্থা। প্রতিদিন হাজার হাজার যানবাহন ও কয়েক লাখ মানুষ এই রাস্তায় চলাচল করে। অথচ বছরের পর বছর ধরে সংস্কার করা হয় না। সড়কে এত গর্ত যে মনে হয় মাছ চাষ করা যাবে! বর্ষায় রাস্তা ডুবে গেলে চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।

কিশোরগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শাকিল মোহাম্মদ ফয়সাল বলেন, কিশোরগঞ্জ-করিমগঞ্জ-চামড়াঘাট সড়কটি মহাসড়কে উন্নীত করার কাজ চলছে। ভূমি অধিগ্রহণের অধিকাংশ কাজ শেষ হয়েছে। একটি এলএ মামলার কাজ বাকি রয়েছে। সতাল পর্যন্ত ভূমি অধিগ্রহণের টাকা ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে প্রদান করা হয়েছে। স্থাপনাটা ভাঙার কাজ শুরু হয়েছে। স্পেস পেয়ে গেলে এক মাসের মধ্যে কাজটা শেষ করতে পারব।

তিনি আরও জানান, ড্রেনেজ সমস্যার কারণে দ্রুত সমাধান দেওয়া যাচ্ছে না। পৌরসভার সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। 

উল্লেখ্য, গত বছরের ৪ ডিসেম্বর একরামপুর রেলগেট থেকে সতাল পর্যন্ত সড়ক সংস্কারের দাবিতে এক কিলোমিটার রাস্তা অবরোধ করে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছিলেন প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা