নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল
প্রকাশ : ২৬ জুলাই ২০২৫ ২২:৫৬ পিএম
আপডেট : ২৬ জুলাই ২০২৫ ২৩:১৬ পিএম
বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের দক্ষিণ চরহোগল পাতিয়া গ্রামে সন্ধ্যা নদীর আকস্মিক ভাঙনে চারটি পরিবারের ঘরবাড়ি বিলীন হয়ে গেছে। হুমকির মুখে রয়েছে এলাকার দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, একটি জামে মসজিদ ও একটি লঞ্চঘাটসহ নদী তীরবর্তী প্রায় ৩০টি বসতবাড়ি।
শুক্রবার (২৫ জুলাই) রাত সাড়ে ১১টার দিকে হঠাৎ শুরু হওয়া ভাঙন মুহূর্তেই নদীতে তলিয়ে যায় ঘরবাড়ি ও গাছপালা। নদীতে বিলীন হওয়া পরিবারগুলোর মধ্যে রয়েছেনÑ মজিদ বেপারী, আজিজ বেপারী, সালেক বেপারী ও বারেক বেপারী।
ভুক্তভোগী মজিদ বেপারী বলেন, রাতে স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে ঘুমিয়ে ছিলাম। হঠাৎ শব্দে জেগে দেখি গাছপালাগুলো নদী গ্রাস করে নিচ্ছে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই আমাদের ঘর নদীতে ভেসে গেল। সন্ধ্যা নদী এক নিমেষে আমাদের স্বপ্ন ধূলিসাৎ করে দিয়েছে। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মাথাগোঁজার শেষ সম্বল ভিটে মাটি কেড়ে নিয়েছে। এখন সন্তানদের নিয়ে কোথায় যাবÑ কিছুই জানি না। একইভাবে ক্ষতিগ্রস্ত আজিজ বেপারী বলেন, সবকিছুই মুহূর্তে নদীতে চলে গেছে। সরানোর সময়টুকুও পাইনি।
অঞ্চলটিতে দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানÑ সবুজ বাংলা মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও দক্ষিণ চরহোগল পাতিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নদী ভাঙনের হুমকির মুখে রয়েছে। রয়েছে চরহোগল পাতিয়া জামে মসজিদ ও ভাঙ্গারমুখ লঞ্চঘাটও।
ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামরুল আহসান খান হিমু বলেন, সন্ধ্যা নদীর ভাঙনের হুমকির মুখে রয়েছে এই এলাকার দুটি বিদ্যাপিঠসহ অনেক বসতবাড়ি। ভাঙন প্রতিরোধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের কাছে জোর দাবি জানিয়েছি।
বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারুক আহমেদ বলেন, ভাঙনের খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ইউপি চেয়ারম্যানকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সহায়তার প্রস্তুতি চলছে এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করে দ্রুত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।