কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৬ জুলাই ২০২৫ ২২:৩৬ পিএম
আপডেট : ২৬ জুলাই ২০২৫ ২২:৫১ পিএম
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ পৌরসভার নাগরিকসেবা এখন তলানিতে পৌঁছেছে। অভিযোগের পর অভিযোগ দিলেও কাঙ্ক্ষিত সেবা মেলে না পৌরবাসীর কপালে। এ পৌরসভার সমস্যা বহুবিধ, সমাধান নেই কদাচিৎ। নানা সমস্যায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে বসবাসরত হাজার হাজার পৌরবাসীকে।
বর্তমান সমস্যা পানিবন্দি। বিশেষ করে বর্ষার সময় অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, খাল ভরাট, নিয়মবহির্ভূত যত্রতত্র বাড়িঘর নির্মাণে স্বাভাবিক পানির প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় যে সমস্যার সৃষ্টি হয় তা আরও প্রকট আকার ধারণ করেছে।
স্থানীয়রা জানায়, বছরের বেশিরভাগ সময়ই চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয় কালীগঞ্জ পৌরসভার নাগরিকদের। সামান্য বৃষ্টিতেই অধিকাংশ এলাকায় তৈরি হয় জলাবদ্ধতা। ফলে স্কুলগামী শিশু-কিশোর, বয়োবৃদ্ধ নারী-পুরুষ, অসুস্থ রোগীদের নিয়ে বিপাকে পড়তে হয় তাদের। নিচু এলাকার ঘরবাড়িতে ওঠে ময়লা পানি। পর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় দিনের পর দিন দুর্গন্ধযুক্ত নোংরা ও ময়লা-আবর্জনা মিশ্রিত পানির মধ্যে বসবাস করতে হয় তাদের। ফলে পানিবাহিত রোগ ও মশার উপদ্রবে চলাফেরায় চরম বিপাকে পড়েন পৌর বাসিন্দারা।
সরেজমিন দেখা যায়, পৌর এলাকায় বিভিন্ন মহল্লার ভেতরে অনেক সড়কে জমেছে হাঁটুপানি। একটু নিচু এলাকায় ঘরের মধ্যে ঢুকে গেছে পানি। এসব এলাকায় স্কুলগামী শিশু-কিশোরদের পানি ভেঙে সড়কে এসে জুতা পায়ে দেওয়ার দৃশ্যও চোখে পড়ে। অনেকে ঘরের মেঝেতে বা বারান্দায় অস্থায়ী চুলায় রান্নার কাজ করতে বাধ্য হচ্ছে। টিউবওয়েল ডুবে যাওয়ায় বিশুদ্ধ পানির সংকটে পড়েছেন অনেকেই। সবচেয়ে বিপাকে পড়তে হয় কেউ অসুস্থ হলে বা কারও মৃত্যু হলে।
এসব এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হলে এলাকাগুলোতে কোথাও হাঁটুপানি আবার কোথাও কোমর পানি জমে থাকে দিনের পর দিন।
এ এলাকায় পৌরসভার একটি ড্রেনও রয়েছে। কিন্তু পৌর কর্তৃপক্ষ কখনোই এই ড্রেনটি পরিষ্কার করে না। বারবার বিষয়টি জানিয়েও কোনো লাভ হয়নি। আগে জনপ্রতিনিধিরা থাকতেও আমরা যথাপযুক্ত নাগরিকসেবা পাইনি। এক বছর হয়ে গেছে প্রশাসনের লোকজন চালাচ্ছে পৌরসভা। দায়িত্বশীলদের কাউকেই জনগণের দুঃখ-কষ্ট দেখতে মাঠ পর্যায়ে কখনও দেখিনি।
বর্তমানে পৌরবাসীর সুযোগ-সুবিধার কথা দায়িত্বশীলদের মাথায় না থাকলেও পৌরসভা কার্যালয় চাকচিক্য করাসহ নিজেদের সুযোগ-সুবিধা ভোগ করা নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। আর আমাদের মতো পৌরবাসীদের আশার বাণী শোনাচ্ছে।
কালীগঞ্জ পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী এবং পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা কবীর হাসান বলেন, অপরিকল্পিত বাড়িঘর নির্মাণ এবং ড্রেনের জন্য জায়গা না রেখে ঘরবাড়ি নির্মাণের ফলে বেশ কিছু এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। জলাবদ্ধতা নিরসনে পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ শুরু হবে শিগগিরই। পৌরবাসীর সহযোগিতা প্রয়োজন। সবাই এগিয়ে এলে আশা করি অচিরেই জলাবদ্ধতার সমাধান করা সম্ভব হবে।