কুমিল্লা সংবাদদাতা
প্রকাশ : ১০ ডিসেম্বর ২০২২ ২১:০৩ পিএম
আপডেট : ১০ ডিসেম্বর ২০২২ ২১:৫৩ পিএম
কুমিল্লায় ‘মায়ের কান্না’ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী। ছবি : প্রবা
বিদেশিদের মদদে বিএনপি দিবাস্বপ্ন দেখছে বলে মন্তব্য করেছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক।
তিনি বলেন, ‘বিদেশি প্রভুদের মদদে বিএনপি দিবাস্বপ্ন দেখছে। আমরা বাংলার জনগণ পাকিস্তানি বাহিনীকে এই ডিসেম্বর মাসে পরাজিত করেছি। তাদেরকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করেছিলাম। আমরা এখনও জীবিত আছি। যারা বিদেশি প্রভুদের ইঙ্গিতে চলছে তাদের দলের রাজনৈতিক কবর এই বাংলার মাটিতেই হবে।‘
শনিবার (১০ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবসে কুমিল্লার টাউনহল মাঠে ‘মায়ের কান্না’ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ সব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে ১৯৭৭ সালে গুম, হত্যা ও বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যার শিকার মুক্তযোদ্ধা ও সরকারি বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যদের স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন।
মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী বলেন, ‘তারা (বিএনপি) আবার দেশকে পাকিস্তান বানাতে ১০ ডিসেম্বর নির্ধারণ করেছিল। ১৯৭৭ সালের খুনিরা পারে নাই। তারাও পারবে না।’
১৯৭৭ সালে মুক্তিযোদ্ধা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন সদস্যদের হত্যার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধাদের, বিমান বাহিনীর সদস্যদের বেছে বেছে হত্যা করা হয়েছিল। গুমও করা হয়েছিল। তাদের লাশও পাওয়া যায়নি। কে কোথায় আছে সেই খবরও নেই। এই গুমের রাজনীতি শুরু করেছিল খুনি জিয়া। জিয়া বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছে। আর খালেদা ও তারেক জিয়া ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টা করেছে। সে দিন নেত্রী বেঁচে গেলেও আমাদের আরেক নেত্রী আইভি রহমান বাঁচতে পারেননি।’
মন্ত্রী মোজাম্মেল হক আরও বলেন, ‘এটা ১৯৭৫ নয়, এটা ২০২২ সাল। সেই কথা ভুলে যান। সেই চিন্তা আর করবেন না। তারা বলে ১০ তারিখে শেখ হাসিনা সরকার থাকবে না। তাহলে কে দেশ চালাবে? আমরা বুঝি কাদের মদদে এগুলো চলে। তাদের লোভ হয়ে গেছে। বঙ্গবন্ধুকে খুন করে তারা ক্ষমতায় এসেছিল। ভেবেছে বার বার একই পথে এসে পার পেয়ে যাবে, কিন্তু সেটা আর সম্ভব নয়।‘
তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর খুনি, জাতীয় চার নেতার খুনি, সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনীর সদস্যদের খুনি জিয়াউর রহমানের মরণোত্তর বিচার বাংলার মাটিতে হবে। এই খুনির কবর জাতীয় সংসদের পবিত্র আঙিনায় থাকতে পারে না। বাংলার মানুষ তার তথাকথিত কবর সেখান থেকে সরিয়ে দিবে। আমি জাতীয় সংসদেও বলেছি, তার লাশ সেখানে নেই। কেউ যদি প্রমাণ করতে পারে তার কবর আছে বা তার লাশ সেখানেই কবর দেয়া হয়েছে, তাহলে কোনো কথাই বলব না। তাদের কথা মেনে নেব।
‘কীসের লাশ, না কি অন্য কিছু রেখে জিয়ার কবর বলে চালাচ্ছে। আর যারা ওই জিয়ার দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, আমরা তো আর মানুষ ফেরত দিতে পারব না, তারা যেন খেয়ে পরে বাঁচতে পারে সেই ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে।’
এশিয়াটিক সোসাইটির সভাপতি ও মায়ের কান্না সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক ড. খন্দকার বজলুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ছিলেন সংসদ সদস্য আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার। বিশেষ অতিথি ছিলেন ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর নিহত শহীদ কর্নেল নাজমুল হুদার মেয়ে সংসদ সদস্য নাহিদ এজাহার খান, কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের মেয়র আরফানুল হক রিফাত, কুমিল্লা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মফিজুর রহমান বাবলু, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) হেলাল মোর্শেদ বীরবিক্রম, দীপ্ত টেলিভিশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী জাহেদুল হাসান।