গোপালগঞ্জ প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৬ জুলাই ২০২৫ ২২:১৬ পিএম
গোপালগঞ্জে এনসিপির জুলাই পদযাত্রা ও সমাবেশ ঘিরে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনায় আরও একটি হত্যা মামলা হয়েছে। এ নিয়ে মোট মামলার সংখ্যা দাঁড়াল ১২।
সংঘর্ষে নিহত রমজান মুন্সীর ভাই জামাল মুন্সী বাদী হয়ে শনিবার (২৬ জুলাই) গোপালগঞ্জ সদর থানায় মামলাটি করেন। এতে অজ্ঞাতদের আসামি করা হলেও সংখ্যা উল্লেখ করা হয়নি। গোপালগঞ্জ সদর থানার ওসি মির মোহাম্মদ সাজেদুর রহমান হত্যা মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ সুপার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এ নিয়ে এনসিপির সমাবেশ ঘিরে হামলা, ভাঙচুর ও প্রাণহানির ঘটনায় পাঁচটি হত্যাসহ মোট ১২টি মামলা হয়েছে। এসব মামলার মোট আসামির সংখ্যা ১০ হাজার ১৩৭। আসামির তালিকায় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের ৬৮৭ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। আর ৯ হাজার ৪৫০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। এসব মামলায় এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার হয়েছেন ৩১৪ জন।
এদিকে জেলা প্রশাসক মুহম্মদ কামরুজ্জামান জানিয়েছেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় গোপালগঞ্জ থেকে বিজিবি প্রত্যাহার করা হয়েছে। গতকাল শনিবার সকালে বিজিবি সদস্যরা যশোরের উদ্দেশে গোপালগঞ্জ ত্যাগ করেছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে গত ১৭ জুলাই গোপালগঞ্জে ১ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছিল বলেও জানান তিনি।
রমজান মুন্সী হত্যা মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, গত ১৬ জুলাই এনসিপির সমাবেশ ঘিরে শহরে যানজট ছিল। তাই রিকশাচালক রমজান মুন্সী (৩২) ব্যাটারিচালিত রিকশা গ্যারেজে রেখে দুপুরের খাবার খাওয়ার জন্য বেলা ৩টা ৩৫ মিনিটে শহরের থানাপাড়ার উদ্দেশে রওনা দেন। রমজান লঞ্চঘাট এলাকায় পৌঁছলে অজ্ঞাত দুষ্কৃতকারীরা যৌথ বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। যৌথ বাহিনীর সদস্যরা আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি ছোড়েন। দুপক্ষের গোলাগুলির মধ্যে বিকাল ৪টা ২০ মিনিটে বুকের ডান পাঁজরের ওপর গুলিবিদ্ধ হয়ে রাস্তায় লুটিয়ে পড়ে রমজান। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে গোপালগঞ্জ আড়াইশ বেড জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। অবস্থার অবনতি হলে রাতেই তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরদিন রাত ১টা ৪৫ মিনিটে মারা যান রমজান।