মিয়ানমারে সংঘাত
বান্দরবান প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৬ জুলাই ২০২৫ ২১:৫১ পিএম
বেশ কিছুদিন বন্ধ থাকার পর ফের মিয়ানমারের অভ্যন্তরে প্রচণ্ড গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। সেখানে ছোড়া গুলি বাংলাদেশে এসে পড়েছে। এতে কোনো হতাহতের ঘটনা না ঘটলেও স্থানীয়দের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে। সংঘর্ষ চলাকালে ছোড়া গুলির কয়েকটি বাংলাদেশ সীমান্ত অতিক্রম করে শনিবার (২৬ জুলাই) বেলা ১১টায় নাইক্ষ্যংছড়ি-মিয়ানমার সীমান্তের চাকঢালা এলাকার ছৈয়দ আলমের বসতঘরের দেয়ালে আঘাত হানে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, মিয়ানমারের অভ্যন্তরে বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি, রোহিঙ্গা সশস্ত্র সংগঠন আরসা এবং আরএসওর মধ্যে ত্রিমুখী সংঘর্ষে ভারী অস্ত্রের গোলাগুলি চলছে। সংঘর্ষ চলাকালে ছোড়া কয়েকটি গুলি সীমান্ত অতিক্রম করে নাইক্ষ্যংছড়ির সদর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের চাকঢালা এলাকার চেরার মাঠে ছৈয়দ আলমের বসতঘরের দেয়ালে আঘাত হানে। এতে বাংলাদেশি কারও হতাহতের খবর পাওয়া না গেলেও সীমান্তবর্তী চাকঢালা, ঘুমধুম ও দৌছড়ি এলাকায় নারী-শিশু ও বৃদ্ধদের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেক পরিবার নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে দেখা গেছে।
চাকঢালা এলাকার সাবেক ইউপি সদস্য ফরিদ আলম জানান, শনিবার সকাল থেকেই মিয়ানমারের পুরান মাইজ্জা ক্যাম্প এলাকা থেকে আরাকান আর্মি গোলাগুলি চালিয়ে যাচ্ছে। ওই ক্যাম্পটি সম্প্রতি মিয়ানমার সেনাবাহিনীর কাছ থেকে দখল নেয় বিদ্রোহী এ সংগঠনটি।
নাইক্ষ্যংছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসরুরুল হক জানান, তিনিও স্থানীয়দের মাধ্যমে গুলি এসে পড়ার তথ্য জেনেছেন। তবে এখনও কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাজহারুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, মিয়ানমারের অভ্যন্তরে সংঘর্ষের বিষয়টি আমরা অবগত। বেলা ১১টার দিকে একটি গুলির খোসা বাংলাদেশ সীমানার ভেতরে এসে পড়ে। এতে স্থানীয়দের মধ্যে কিছুটা আতঙ্ক তৈরি হয়। পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে উপজেলা প্রশাসন ও সীমান্তে দায়িত্বপ্রাপ্ত ৩৪ বিজিবি। সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। স্থানীয়দের সতর্ক থাকার পাশাপাশি ধৈর্য ধরার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।’
এদিকে সীমান্তে গোলাগুলির ঘটনায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) টহল জোরদার করেছে। তবে ১১ বিজিবি ব্যাটালিয়ন ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাৎক্ষণিক যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে আরাকান আর্মি, আরসা ও আরএসও’র মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ চলছে। সম্প্রতি মিয়ানমার সেনাবাহিনীর কিছু ঘাঁটি দখল করে নিয়েছে আরাকান আর্মি। এরই ধারাবাহিকতায় সীমান্তবর্তী এলাকায় গোলাগুলির ঘটনা বাড়ছে, যার প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশের ভেতরে বসবাসকারী মানুষজনের জীবনযাত্রায়।