বরিশাল
নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল
প্রকাশ : ২৬ জুলাই ২০২৫ ২০:৫৮ পিএম
আপডেট : ২৬ জুলাই ২০২৫ ২১:৪০ পিএম
বরিশালের ক্রীড়াঙ্গনে যুগান্তকারী এক পরিবর্তনের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে জীবনানন্দ দাশ স্টেডিয়াম। প্রায় ৭০ কোটি টাকা ব্যয়ে আন্তর্জাতিক মানের স্টেডিয়ামে রূপ নিতে যাচ্ছে বরিশালের এই ঐতিহ্যবাহী ক্রীড়া ভেন্যু। চলতি বছরের সেপ্টেম্বরের মধ্যেই উন্নয়ন কাজ শেষ হওয়ার কথা, আর তাতেই প্রাণ জাগাচ্ছে বরিশালে বিপিএল খেলা আয়োজনের স্বপ্ন। পাশাপাশি শুরু হবে স্থানীয় লীগ টুর্নামেন্ট। যদিও খেলোয়াড়দের থাকার জন্য ভালোমানের হোটেল না থাকায় কিছুটা শঙ্কিত ক্রীড়া সংগঠকরা।
১৯৬৬ সালে বরিশাল নগরীর বান্দ রোডের পাশে ২৯ একর জায়গায় জীবনানন্দ দাশ স্টেডিয়ামটি প্রতিষ্ঠার পর দীর্ঘদিন ধরেই অবহেলিত। খেলাধুলারও আয়োজন নেই বহুদিন। তবে ২০২২ সালে বিভাগের সবচেয়ে বড় স্টেডিয়ামকে আন্তর্জাতিক মানের করতে উন্নয়ন প্রকল্প শুরু হয়। ফিল্টার মাঠ, গ্যালারি শেড, প্যাভিলিয়ন, মিডিয়া সেন্টার, ডরমিটরি ভবনসহ সব অবকাঠামোর কাজ শুরু হয় দ্রুতগতিতে। কয়েক দফা সময় বাড়িনোর পর যা শেষ হতে চলেছে চলতি বছরে। ৭০ কোটি টাকার প্রকল্পে আমূল পরিবর্তন হতে চলেছে ইনডোর ও আউটডোর স্টেডিয়ামের। গত জুনে বরিশালে এসে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল ঘোষণা দেন উন্নয়ন কাজ সময়মতো শেষ হলে বিপিএলের ম্যাচ বরিশালে আয়োজনের সম্ভাবনা রয়েছে।
খেলোয়াড়রা বলছে, পরপর ২ বার বিপিএল কাপ জেতার পর বরিশালের মাটিতে বিপিএল খেলা এখন প্রাণের দাবি। ঘরের মাঠে বিপিএল শুরু হলে সুদিন ফিরবে তাদেরও। পাশাপাশি শুরু হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দেবে স্থানীয় লীগ টুর্নামেন্ট।
স্থানীয় খেলোয়াড় সাকিব বলেন, বরিশালে কোনো লিগ টুর্নামেন্ট নেই, ফলে আমরা নিজেদের মেলে ধরার সুযোগ পাচ্ছি না। বিপিএল হলে সব বদলে যাবে। আরেক খেলোয়াড় শাহিন বলেন, বিপিএল হলে আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড় ও কোচরা আসবেন। আমরা তাদের কাছ থেকে অনেক কিছু শিখতে পারব। এটা আমাদের ক্যারিয়ারে বিশাল প্রভাব ফেলবে।
বেসিক ক্রিকেট একাডেমির পরিচালক এজাজ আল মাহমুদ সুজন বলেন, বরিশাল পরপর দুইবার বিপিএল কাপ জিতেছে। এখন ঘরের মাঠে ম্যাচ হওয়া বরিশালবাসীর প্রাণের দাবি। উন্নয়ন কাজ দ্রুত শেষ হলেই আমাদের ভাগ্য বদলাবে।
তবে কিছু চ্যালেঞ্জ এখনও রয়ে গেছে। বরিশালে মানসম্মত হোটেল ও আবাসন সুবিধার অভাব বিপিএল আয়োজনের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয় ক্রীড়া সংগঠকরা। বরিশাল জেলা দলের কোচ মাহমুদুল হাসান তামিম বলেন, মাঠ প্রস্তুত হলেও আবাসন সমস্যা বড় চ্যালেঞ্জ। মানসম্মত হোটেল না থাকায় বিপিএল আয়োজন নিয়ে শঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।
এ বিষয়ে বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার মো. রায়হান কাওছার আশ্বস্ত করে বলেন, আবাসন কোনো বড় সমস্যা নয়। প্রয়োজনে কুয়াকাটার মানসম্মত হোটেলগুলোতে খেলোয়াড়দের থাকার ব্যবস্থা করব। স্টেডিয়ামের কাজ দ্রুতগতিতে চলছে। আশা করছি দুই মাসের মধ্যেই কাজ শেষ হবে এবং আমরা বিসিবিকে আমন্ত্রণ জানাব।
তিনি আরও বলেন, বিপিএল শুধু একটি ক্রিকেট টুর্নামেন্ট নয়, বরিশালের মানুষের বহু দিনের স্বপ্ন। আমরা সেই স্বপ্ন পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ।